‘আল্লাহ আমাদের জন্য সকল বিষয় সহজ করে তুলতে চান’

ID 176707560 © Elmirex2009 | Dreamstime.com
Fotoğraf: ID 176707560 © Elmirex2009 | Dreamstime.com

সূরা বাকারাতে একটি সুন্দর আয়াত আছে, যেটি সম্পর্কে আজ আমি আপনাদের মাঝে কিছু আলোচনা করতে চাই।

এটি হলো ১৮৫ নং আয়াত, যেখানে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

“…আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না …” (আল কুরআন-২:১৮৫)

এই আয়াতটি আমাদের ধর্মের অন্যতম সর্বোচ্চ এবং স্বতঃসিদ্ধ নীতি।

কুরআনে ৬টি আয়াতে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে এবং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন।

১। সূরা মা-য়িদাতে আল্লাহ বলেনঃ

“…আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না…” (আল কুরআন-৫:৬)

সুতরাং আল্লাহ সকল বিষয় সহজ করতে চান, তিনি আমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না।

২। সুরা আ’রাফের ১৫৭ নং আয়াতে আমরা তেলাওয়াত করি

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই জন্য প্রেরণ করা হয়েছে যাতে তিনি আমাদেরকে ভাল কাজের আদেশ দেন এবং মন্দ কাজে বাধা দেন। এবং শেষ পর্যন্ত তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উপর থেকে বোঝা কমিয়ে দেন এবং তাদের বাধা গুলোকে দূরে সরিয়ে দেন। সুতরাং, কুরআন এবং সুন্নাত এসেছে বাধাকে অপসারণ করতে, আমাদের জন্য দ্বীন পালনেক  আরও সহজ করে তুলতে এবং আমাদেরকে মুক্ত করতে।

৩। সূরা হজ্জে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

“…তিনি তোমাদেরকে পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি…” (আল কুরআন-২২:৭৮)

৪। সূরা বাকারাতে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

“আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কোন হুকুম চাপিয়ে দেন না…” (আল কুরআন-২:২৮৬)

৫। সূরা নিসাতে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

“আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান…” (আল কুরআন-৪:২৮)

ইসলাম খুবই সহজ

এবং কুরআন আমাদেরকে এই ধর্মের সহজতা সম্পর্কে আরও জানায়…

আর এজন্যই ইসলামিক ফিকহের পাঁচটি মূল নীতিগুলির মধ্যে একটি হল অসুবিধাকে সহজতর করা।

সুতরাং কোনো বিষয় যত কঠিন হয়ে ওঠে, শরিয়াহও ততো সহজ হয়ে ওঠে।

আপনি যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে না পারেন, তাহলে বসে আদায় করুন।

আপনি যদি অসুস্থতার কারণে সিয়াম পালনে অপারগ হন, তাহলে ঐ কয়দিন সিয়াম ত্যাগ করুন…

এরকম আরও হাজার হাজার উদাহরণ আছে, এখানে মাত্র দু’একটি উদাহরণ দেওয়া হলো।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামও ইসলামের সহজতার বিষয়ে বহু হাদীসে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেছেনঃ “ধর্মের মধ্যে ঐ বিষয়টি সবচেয়ে বরকতময় যেটি সবচেয়ে সহজতম”।

যদি শরিয়াহ লঙ্ঘিত না হত এবং কোনো হারামের সম্ভাবনা না থাকত, তাহলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামকে দু’টি পছন্দ দেওয়া হলে তিনি তার মধ্যে তুলনামূলক সহজটি বেছে নিতেন।

কেউ বলতে পারেন, ফজরের সালাতের জন্য আমাদেরকে অনেক ভোরে ঘুম থেকে জেগে উঠতে হবে এবং এটি তো অনেক কঠিন! তাহলে ধর্ম পালন কীভাবে সহজ হতে পারে?

গ্রীষ্মের মাসগুলিতে আমাদেরকে সিয়াম পালন করতে হয় এবং তা অনেক কষ্টদায়ক।

তাহলে ধর্ম পালন কীভাবে সহজ হতে পারে যখন আমাদেরকে প্রচন্ড গ্রীষ্মের ভিতরে ১৬-১৭ ঘন্টা ক্ষুধা-পিপাসার কষ্ট ভোগ করতে হয়?

আমরা যেহেতু সমস্যার মুখোমুখি হই তাহলে কীভাবে এটি সহজ হতে পারে?

এবং এটির উত্তর হলো অসুবিধা মূলত দুই প্রকার।

প্রথম প্রকারটি হলো অস্বস্তিকর, তবে সহনীয়।

এটি একটু অদ্ভুত তবে অযৌক্তিক কিছু নয় …

এই ধরণের বোঝা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা, মন্দ থেকে ভালকে পৃথক করার জন্য।

এবং এটি এমন কিছু যা শরিয়াতে আংশিকভাবে থাকতে পারে।

যাইহোক, যদিও এটি রয়েছে, তবে যে পুরষ্কারগুলি আপনি পাবেন তা এর তুলনায় অনেক গুণ বেশি।

এই ছোটখাটো অসুবিধাগুলি থেকে যে সহজতা আসবে তা আপনার কষ্ট থেকে অনেকগুণ বেশি হবে।

এবং একটি সহজ উদাহরণ হলো, আজ আমাদের প্রথম রোজার দিন ছিল এবং আমি জানি আপনি আমাকে বলবেন এটি আশ্চর্যরকম সহজভাবে কেটেছে। এটি কীভাবে হল?

কারণ, আল্লাহ বলেছেনঃ

“আল্লাহ আপনার জন্য কঠিন করতে চান না”

দ্বিতীয় প্রকার অসুবিধাটি হলো যা অসহনীয় এবং অযৌক্তিক।

এই প্রকারটিই কুরআন অবহেলা করেছে। ইসলামে এর কোনো অস্তিত্ব নেই।

ইসলামে এমন কোনো কষ্টের অস্তিত্ব নেই যা সহ্য করার ক্ষমতা আমদের নেই…

চরমপন্থার দিকে যাবেন না

একটি সুন্দর হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“দ্বীন সহজ। আর দ্বীনকে তার উপর বিজয়ী করা ব্যতীত কেউই ধর্মকে কঠিন করে তুলবে না।”

আর আপনি কখনই ধর্মের উপর বিজয়ী হতে পারবেন না।

আপনি যদি ধর্মান্ধ হন, আপনি যদি শরিয়ত যতটুকু চায় তার চেয়ে অতিরিক্ত ধার্মিক হয়ে যান, হালালকে হারাম বানান, আপনি যদি ভাবেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন তার চেয়েও বেশি কিছু করতে পারবেন, তবে সেই ধর্মান্ধতা আপনাকে ধ্বংস করে ছাড়বে…

একারণেই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উগ্রবাদ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন…

তিনি বলেছেনঃ

“দৃঢ় হও, পরিমিত হও, আন্তরিক হও”

আপনার স্তর অনুযায়ী আপনি যা করার সামর্থ্য রাখেন তা করে যান। তাহলেই, আপনি গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন

দ্বীন অনেক সহজ… এখানে কাঠিন্যের কোনো স্থান নেই…

মনে রাখবেন, আল্লাহ আমাদের জন্য সকল বিষয় সহজ করে তুলতে চান। সুতরাং, মধ্যপন্থী হোন এবং যা করার সামর্থ্য রাখেন তাই করুন এবং অবিচল থাকুন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন বলেছেন তেমন মানুষে পরিণত হোন।