আল্লাহ আল-ওয়ারিস। একচ্ছত্র মালিকানা তাঁরই

vladana-sredic-R5DY-iK03UM-unsplash
Fotoğraf: Vladana Sredic-Unsplash

এই নিবন্ধে, আমরা আল্লাহর নাম আল-ওয়ারিস (উত্তরাধিকারী) নিয়ে আলোচনা করব। আল্লাহ কুরআনে বলেছেনঃ

আমি জীবনদান করি, মৃত্যুদান করি এবং আমি চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী” (আল কুরআন-১৫:২৩)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা উত্তরাধিকারী, যখন কিছু ছিল না তখনও তিনি ছিলেন এবং যখন সবকিছু শেষ হয়ে যাবে তখনও তিনি থাকবেন। ইমাম গাজ্জালি(রহঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা সেই সত্তা যার কাছ থেকে সবকিছু আসে এবং তার কাছেই সবাইকে ফিরে যেতে হবে। সুতরাং এটি আমাদেরকে কী বোঝায়?

১। সবকিছুই আল্লাহর এবং সবকিছুই তাঁর কাছে ফিরে যাবে। আমরা দুনিয়াতে যা পেয়েছি সেগুলির আমরা অস্থায়ী মালিক।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“মানুষ যেদিন (কবর থেকে) বের হয়ে আসবে, আল্লাহর কাছে তাদের কোন কিছুই গোপন থাকবে না। (সেদিন ঘোষণা দেয়া হবে) আজ একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কার? (উত্তর আসবে) এক ও একক মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর।” (আল কুরআন-৪০:১৬)

এই আয়াতটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সত্যিকারের মালিক হলেন আল্লাহ এবং আমাদের কাছে যা কিছু আছে তা তাঁর নিকটই ফিরে যাবে। এ কথারই প্রতিফলন ঘটেছিল একজন বেদুইনের কথায়। সে একটি উট নিয়ে যাচ্ছিল। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, এই উটটির মালিক কে? সে জবাব দিয়েছিল, “এটা কিছু সময়ের জন্য আমার হাতে রয়েছে তবে এর মালিক হলেন আল্লাহ।” সুতরাং, আমাদের নিকট যে সকল সম্পত্তি রয়েছে তা মূলত আমাদের নিকট কিছু সময়ের জন্য আমানত। এ সবকিছুর মূল মালিক হলেন আল্লাহ।

২। আপনি কিছু ছেড়ে যেতে চান? জেনে রাখুন যে, যতকিছু আপনি ছেড়ে যেতে পারবেন তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম জিনিস হল আপনার নেক আমল।

শায়খ আবদুর রাজ্জাক আল-বদর বলেছেন যে, প্রত্যেক মুমিনের এটা জেনে রাখা উচিত যে, তার নেক আমলই হল সবচেয়ে উত্তম জিনিস যা সে পিছনে ফেলে রেখে যেতে পারবে, কারণ এটাই সত্যিকারের উত্তরাধিকার যা সর্বদা থেকে যাবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের রেখে যাওয়া কয়েকটি বিষয়ের উদাহরণ দিয়েছেনঃ

মানুষ যা কিছু রেখে যায় তার মধ্যে তিনটি জিনিস উত্তম- নেক সন্তান, যে তার জন্য দু’আ করে। এমন সদকা যা অব্যাহত থাকে। এর সওয়াব সে লাভ করে। এবং এমন ইলম, যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়।” (সহীহ ইবনে হিব্বান)

 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি সদকা করে, এই সদকা তাকে শেষ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করাবে।” (মুসনাদে আহমাদ)

আল্লাহ বলেনঃ “এই হল সেই জান্নাত আমি যার উত্তরাধিকারী করব আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মুত্তাকীদেরকে।” (আল কুরআন-১৯:৬৩)

৩। আল-ওয়ারিস আপনাকে উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ দিতে পারে, যদি আপনি ন্যায়নিষ্ঠ হন।

(এর আগে মূসাকে) বাণী দেয়ার পর আমি যবুরে লিখে দিয়েছিলাম যে, আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাগণই পৃথিবীর উত্তরাধিকার লাভ করবে।” (আল কুরআন-২১:১০৫)

সুতরাং , এই আয়াতে আল্লাহ আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, আল্লাহ তাদেরকেই জমীনের উত্তরাধিকার দান করবেন যারা সৎকর্মপরায়ণ। আর এই উত্তরাধিকারী করবেন সম্মানের সাথে, যেখানে কোন জিল্লতী থাকবে না। আজ যারা ক্ষমতাপরায়ণ প্রকৃতপক্ষে তারা উত্তরাধিকারী নয়। কারণ তাদের ক্ষমতার কারণে তাদেরকে মানুষ সামনে সম্মান করে। প্রকৃত সম্মান কখনই তাদের নেই। ক্ষমতা ছুটে গেলে বেইজ্জতিই এর প্রমাণ। কুরআনে আল্লাহ তা’আলা মূসা আ’লাইহিস সালাম ও তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যকার কথোপকথন উল্লেখ করেছেনঃ

মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, “তোমরা আল্লাহর সাহায্য কামনা কর আর ধৈর্য অবলম্বন কর, যমীনের মালিক হলেন আল্লাহ, তিনি তাঁর বান্দাহদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছে করবেন তার উত্তরাধিকারী বানাবেন, কল্যাণময় পরিণাম হচ্ছে মুত্তাকীদের জন্য।” (আল কুরআন- ৭:১২৮)

মূসা আ’লাইহিস সালাম এখানে তার কওমকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বনী ইসরাইলের সাথে এমন এক কঠিন সময়ে এই কথা বলেছিলেন, যখন তারা নিপীড়িত হচ্ছিল। তিনি তাদেরকে ধৈর্য ও দু’আর মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করার কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং এই পৃথিবী যে আল্লাহ তা’আলার মালিকানাধীন তাও স্মরণ করিয়ে দেন। অত্যাচারীরা কখনই টিকবে না, তাই তাদের সাথে কখনই আপোস করা যাবে না।

এ কারণেই, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, “ভাল কাজ করো ও ভাল কাজের দিকে মানুষকে আহ্বান করো এবং মন্দ কাজ পরিত্যাগ করো  ও মন্দ কাজ থেকে মানুষকে বাধা দাও” (তিরমিযী)

আল্লাহ আমাদের সকলকে সৎকর্মশীল হওয়ার তওফিক দিন।