শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

আল্লাহ এমন সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট হন যে তার পিতামাতাকে সন্তুষ্ট করে

father son
ID 103540596 © Panadda Phromngoi | Dreamstime.com

পিতামাতারা তাদের সন্তানদের কাছ থেকে সদয় এবং কর্তব্যশীল আচরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন। যেহেতু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য তাই আল্লাহ এটিকে খুব দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন। এটি কোনো অত্যুক্তি নয় যে, পিতামাতার সাথে সদাচরণ সন্তানের জান্নাত নিশ্চিত করতে পারে।

আমরা প্রথমে লক্ষ করি যে, ইসলাম পিতামাতার সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ‘বিরর” শব্দটি ব্যবহার করেছে। এই শব্দটির অর্থ দয়া, করুণা, দানশীলতা, অন্যের প্রতি ভাল এবং উদার আচরণ প্রতিটিকেই বোঝায়। আল্লাহর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্য থেকে এটি উদ্ভূত। আল্লাহ হলেন ‘বার’, যার অর্থ তাঁর এমন দয়া, করুণা, অনুগ্রহ এবং উদারতা যা কখনই ব্যর্থ হয় না। আলেমরা বলেছেন, এই শব্দটি ভাল যা কিছু আছে তা সবই অন্তর্ভুক্ত করে।

ওলামায়ে কেরাম ‘বিরর’কে দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত করেছেনঃ আর্থিক এবং অনার্থিক। সন্তানের সাথে পিতামাতার সম্পর্কের ক্ষেত্রে, যদি পিতামাতা একজন বা উভয়ই দরিদ্র হন তবে সন্তানের আবশ্যিক কর্তব্য তাদেরকে ভরণপোষণ করা।

আল্লাহ এমন সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট হন যে তার পিতামাতাকে সন্তুষ্ট করে।

আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য অনেক সন্তানই তাদের পিতামাতার মনমত খরচ করে। তবে এটাও খেয়াল রাখা দরকার যে, পিতামাতার কখনই সন্তানের অর্থকে অপব্যয় করা উচিত না।

পিতামাতা যত বেশি তাদের সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট হন, ততই আল্লাহ এই সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট হন। আর আল্লাহ যার প্রতি সন্তুষ্ট হন তার সমস্ত পেরেশানি আর দুশ্চিন্তাকে দূর করে দেন এবং তাকে সফলতার পথে পরিচালিত করেন। পিতামাতা যখন সন্তানের জন্য দু’আ করেন তখন এই দু’আ আল্লাহ অবশ্যই কবুল করেন।

তাই সন্তানের কর্তব্য হল পিতামাতা যখন কর্মক্ষম থাকবেন না তখন পিতামাতাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করা এবং এটাকে নিজের উপর বোঝা মনে না করে বরং তার উপর অর্পিত দায়িত্ব হিসেবে করবে।

আর্থিক সহায়তা ছাড়াও সন্তানদেরকে অবশ্যই তাদের পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে হবে। যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে এবং এমনকি রাস্তায় যখন পিতামাতাকে সাথে নিয়ে বাইরে বের হবে, তখন সন্তানের উচিত নয় পিতামাতার আগে আগে হাঁটা বরং তাদের পিছনে বিনয়ী হয়ে বা তাদের সাথে হাঁটবে। সন্তানদের উচিত সকলক্ষেত্রে তাদের পিতামাতাকে প্রাধান্য দেওয়া।

তদুপরি, সন্তানরা তেমন আচরণই করবে যেমনটি তারা তাদের পিতামাতাকে করতে দেখেছে বা তাদের থেকে শিখেছে। একারণে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে, সন্তানকে সুষ্ঠু আচার-ব্যবহার শিক্ষা দেওয়া পিতামাতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সাধারণত, পিতামাতাকে খুশি করা খুবই সহজ। তবে কিছু পিতামাতা তাদের দাবিতে বা কর্মে অযৌক্তিক হতে পারেন, বিশেষত যখন তারা একই বাড়িতে তাদের ছেলের সাথে থাকেন। তার স্ত্রী এবং মায়ের মধ্যে সম্পর্ক মাঝে মাঝে একটু খারাপ হয়ে যেতে পারে। একজন মা হয়ত অনুভব করতে পারেন যে, তার পুত্রবধু হয়ত তার পুত্রকে তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এটি উভয়ের মধ্যে বিবাদের কারণ হতে পারে।

একজন বুদ্ধিমান পুত্র তার স্ত্রীর অধিকারের সাথে তার মায়ের অধিকারগুলি রক্ষা করার চেষ্টা করে। তাকে অবশ্যই কারও প্রতি অন্যায় আচরণ করা উচিত নয়। যদি তার মা তার স্ত্রীকে তালাক দিতে বলে, তবে এটি করা তার উচিত হবে না যদি তার স্ত্রী তার ও তার মায়ের প্রতি কর্তব্যগুলো সঠিকভাবে পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে একজন পুত্রবধুর উচিত তার শ্বাশুড়ির সাথে উত্তম আচরণ অব্যহত রাখা।

একজন সন্তানের সর্বদা উচিত তার পিতামাতা তার জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছে সেগুলি স্মরণ রাখা। এমন সাধারণত খুবই কম হয় যে, পিতামাতা এমন অসুস্থ হয়ে যান যাতে তাদেরকে ছোট বাচ্চাদের মত দেখাশোনা করার প্রয়োজন পড়ে।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাযিঃ একদিন একজন লোককে দেখলেন যে, সে তার মাকে কাধে করে তাওয়াফ করছে এবং এতে তার চেহারায় কোনোরকম ক্ষোভের পরিবর্তে তার চেহারা হাস্যজ্জ্বল রয়েছে। সে লোকটি ইবনে ওমরের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “এর দ্বারা কি আমি আমার মায়ের ঋণ শোধ করতে পেরেছি?” তখন ইবনে ওমর রাযিঃ জবাব দিলেন, “না, তুমি তোমার মায়ের প্রসব বেদনার অর্ধেকের সমপরিমাণ ঋণও শোধ করতে পারোনি” (আদাবুল মুফরাদ)

ইবনে উমর রাযিঃ এর এই উক্তিটি অতিরঞ্জিত ছিল না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের উক্তি দ্বারাও এটি সমর্থিত। তিনি বলেছেন, “কোনো সন্তানই তার পিতামাতার ঋণ শোধ করতে পারবে না যদিও সে কোনো দাস ক্রয় করে এবং সেটিকে মুক্ত করে দেয়”

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন