আল্লাহ মানুষকে তাঁর অস্তিত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা দিয়েছেন

dreamstime_s_36290736

মানবজাতিকে আল্লাহ তা’আলা যেসকল নিয়ামত ও অনুগ্রহ দান করেছেন তার মধ্যে অন্যতম একটি হল তিনি মানুষকে তাঁর অস্তিত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা দিয়েছেন। মানুষের হৃদয়ে এই সহজাত বোধটি আল্লাহ তা’আলা মানুষকে সৃষ্টির সময়ই দিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৃষ্টির মধ্যে এমন অনেক নিপূণতা ও বৈশিষ্ট্য রেখেছেন যেগুলি দেখে ও চিন্তাভাবনা করে যে কেউ তাঁর অস্তিত্বকে সহজেই বুঝতে পারে।

ওহী নাযিলের মুখ্য উদ্দেশ্য 

কিন্তু এরপরও মানুষের জন্য আরও সহজসাধ্য করার লক্ষ্যে আল্লাহ তা’আলা নবী রাসুলদেরকে মনোনিত করে মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন এবং তাদের উপর ওহী নাযিল করে নিজের পরিচয় করিয়েছেন এবং আমাদের উপর তাঁর কি কি হুকুম-আহকাম আছে তা আমাদেরকে জানিয়েছেন। আর নবী রাসূলগণও আমাদের নিকট আল্লাহ তা’আলার পরিচয় ও তাঁর নাযিলকৃত হুকুম-আহকাম জানিয়েছেন; কারণ ওহী ছাড়া এগুলি জানা কারও পক্ষেই সম্ভব না। আল্লাহ তা’আলা যত ওহী নাযিল করেছেন তার কিছু মুখ্য উদ্দেশ্য হলঃ

১) তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ নিশ্চিত করা- প্রশংসিত এবং মহিমান্বিত স্রষ্টা এবং তাঁর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা এবং তাঁর গুণাবলী মানুষকে জানানো।

২) একমাত্র আল্লাহরই উপাসনা করা এবং তাঁর সাথে বা তাঁর পরিবর্তে অন্য কোনো সত্তার উপাসনা না করার বিষয়টি মানুষকে নিশ্চিত করে বলা।

৩) মানবকল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি ও খারাপ কাজের বিরোধিতা করা। সুতরাং, যেসকল কাজ ঈমান, জীবন, যুক্তি, সম্পদ এবং বংশের সুরক্ষাকে নিশ্চিত করে এমন সমস্ত কিছুই মানব কল্যাণের অংশ; যা ইসলাম সমর্থন করে। অন্যদিকে, এই পাঁচটি সর্বজনীন প্রয়োজন যে জিনিসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তা হল দুর্নীতি; ইসলাম যার বিরোধিতা করে এবং নিষেধ করে।

৪) মানুষকে সর্বোচ্চ স্তরের নেককাজ, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আদর্শ রীতিনীতির দিকে আহ্বান জানানো।

প্রতিটি ঐশী বাণীর চূড়ান্ত লক্ষ্য সর্বদা এক ছিলঃ মানুষকে আল্লাহর সাথে পরিচিত করানো, আল্লাহর হুকুম মোতাবেক মানুষকে পরিচালিত করা এবং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করা। আর এজন্যই সকল নবী রাসূলগণের দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু ছিল, “একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত আর কোনো উপাস্য নেই।” এই বার্তাটি মানবজাতির কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নবী-রাসূলগণ পৌঁছেছিলেন। আর সমস্ত নবী-রাসূলগণ এসেছিলেন একই বার্তা অর্থাৎ, ইসলামের বাণী নিয়ে।

নবী-রাসূলগণের দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু

সমস্ত নবী-রাসূলগণের দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু ছিল, মানুষের ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছা মোতাবেক পরিচালিত করা। এখন কেউ একটি প্রশ্ন করতে পারে। আর তা হল, সকল নবী-রাসূলগণের দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু যদি একই হয়ে থাকে তাহলে এত ধর্মের সৃষ্টি হল কেন? সব ধর্মের শিক্ষা তো তাহলে একই হওয়ার কথা ছিল? এর দুটি কারণ উল্লেখ করা যেতে পারে।

প্রথম কারণ হল পূর্ববর্তী কোনো ধর্মই আল্লাহর সুরক্ষার অধীনে ছিল না। এ কারণে সময়ের সাথে সাথে সে সকল ধর্মে অনেক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ঘটেছে। যার ফলস্বরূপ সকল ধর্মের মৌলিক শিক্ষা এক ও অভিন্ন থাকলেও শয়তানের প্ররোচনায় নিজেদের সুবিধামত অনেকে ধর্মের বিকৃতি ঘটিয়েছে এবং যার দরুন ধর্মের বিকৃতি ঘটে মৌলিক শিক্ষাও পরিবর্তন হয়ে গেছে।

এই পরিবর্তনের দ্বিতীয় কারণ হল, সকল ধর্মের মৌলিক শিক্ষা এক ও অভিন্ন হলেও আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী পূর্ববর্তী কোনো ধর্মই পরিপূর্ণ ছিল না। এক যুগের জন্য একটি ধর্ম যথার্থ হলেও পরবর্তী যুগে তা অপরিপূর্ণ হয়ে যেত। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বশেষ নবী হিসেবে প্রেরণ করে তাঁর মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষাকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন এবং সর্বযুগের সকলের জন্য তাঁর অনুসরণকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। কুরআনী শিক্ষায় আর কোনো পরিবর্তন হবে না বলে আল্লাহ তা’আলা ওয়াদা করেছেন।  

আল্লাহর পথ আমাদের পথ

মানবতা বিভিন্ন পথনির্দেশ, পথভ্রষ্টতা, অখণ্ডতা এবং বিচ্যুতির পথ ধরে আদিম যুগ থেকে বর্তমান সভ্যতার উচ্চতায় চলে এসেছে। কিন্তু সঠিক পথের দিশা পেতে হলে মানুষকে আল্লাহর পথনির্দেশেরই অনুসরণ করতে হবে।

মানুষের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক তথা মানব জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামের সুষ্পষ্ট বিধান রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সেই বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করে দেখিয়েছেন। তিনি একদিকে যেমন ছিলেন মসজিদের ইমাম, অন্যদিকে তেমনি ছিলেন রাষ্ট্রপতি, সেনাপতি, বিচারপতি। কুরআন ও হাদীসে ইসলামী জীবন বিধান সংরক্ষিত রয়েছে। যারা আল্লাহর বিধান তথা ইসলামের কাছে পরিপূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে তাদেরকে বলা হয় ‘মুসলিম’। একজন মুসলিম কখনও ইসলাম ছাড়া অন্য কোন মত ও পথকে গ্রহণ করতে পারে না।