আল্লাহ সর্বদা দু’আর উত্তর দেন, তাঁর দিকে ফিরে চলুন

দু'আ Contributor
আল্লাহ দু'আ
© Sasin Tipchai | Dreamstime.com

“অতএব; তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর অতঃপর তাঁরই দিকে ফিরে চল। আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন, দু’আ কবুল করে থাকেন; এতে কোনো সন্দেহ নেই” (আল কুরআন-১১:৬১)

যারা আল্লাহর কাছে দু’আ করে আল্লাহ তাদের দু’আর উত্তর দেন। যারা তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে তিনি তাদের মুক্তি দেন এবং তাদের ভয়কে দূর করেন।

“তিনিই তোমাদের ভ্রমণ করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর ইবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। তারপর যখন তাদেরকে আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন, তখনই তারা পৃথিবীতে অনাচার করতে লাগল অন্যায়ভাবে। হে মানুষ! শোন, তোমাদের অনাচার তোমাদেরই উপর পড়বে। পার্থিব জীবনের সুফল ভোগ করে নাও-অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি বাতলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে। (আল কুরআন-১০: ২২-২৩)

আল্লাহ কীভাবে আমাদের সাথে থাকেন?

প্রবল বন্যার সময় আল্লাহ নূহ (আঃ) এর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেনঃ

“আর নূহ আমাকে ডেকেছিল। আর কি চমৎকারভাবে আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম” (আল কুরআন-৩৭:৭৫)

আল্লাহ আইয়্যুব (আঃ) এর প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেনঃ

“এবং স্মরণ করুন আইয়্যুবের কথা, যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করে বলেছিলেনঃ আমি দুঃখকষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ট দয়াবান। অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁর দুঃখকষ্ট দূর করে দিলাম এবং তাঁর পরিবরাবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশত, আর এটা ইবাদতকারীদের জন্যে উপদেশ স্বরূপ” (আল কুরআন ২১:৮৩-৮৪)

আল্লাহ তিমির পেটের ভিতর থাকা ইউনুস (আঃ) এর প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেনঃ

“এবং মাছওয়ালার কথা স্মরণ করুন যখন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতঃপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধরতে পারব না। অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহবান করলেনঃ তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গুনাহগার। অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনিভাবে বিশ্বাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি” (আল কুরআন-২১:৮৭-৮৮)

আল্লাহ আমাদের জন্য সবসময় রয়েছেনঃ

অনুরূপভাবে, আল্লাহ তা’আলা ইব্রাহিম, যাকারিয়া, মূসা, ঈসা এবং তাঁর প্রত্যেক নবী ও রাসূলগণ আ’লাইহিমুসসালাম এর প্রার্থনার জবাব দিয়েছেন। তাঁরা তাদের পালনকর্তার কাছে বিনীতভাবে ও আন্তরিকতার সাথে প্রার্থনা করেছিলেন, সুতরাং আল্লাহ তাঁর অসীম অনুগ্রহে তাদেরকে রক্ষা করেছেন, হেদায়েত দিয়েছেন, সম্মানিত করেছেন এবং তাদের আবেদন গ্রহণ করেছেন।

আল্লাহ তিনি, যিনি তাঁর কাছে প্রার্থনাকারীদের প্রার্থনা কবুল করেন।

“তোমাদের পালনকর্তা বলেনঃ তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা অতিসত্বর লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে দাখিল হবে” (আল কুরআন ৪০:৬০)

আল্লাহ আমাদেরকে দু’আ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি আমাদের প্রার্থনার জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ কারণেই উমর (রাঃ) বলতেনঃ

“আমি একারণে উদ্বিগ্ন নই যে, আমার দু’আর জবাব দেওয়া হবে। বরং, আমি আমার দু’আর জন্য উদ্বিগ্ন”

আল্লাহ আমাদের দুর্দশা দূর করেন। তিনি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেনঃ

“আপনি বলে দিনঃ আল্লাহ তোমাদেরকে সকল দুঃখ-বিপদ থেকে মুক্তি দেন কিন্তু তারপরও তোমরা শিরক কর” (আল কুরআন-৬:৬৪)

আল্লাহ প্রজ্ঞাময়, সকল বিষয় সম্পর্কে তিনি জানেন। যেসকল দু’আ আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে তিনি সেগুলিকে বাস্তবায়ন করেন।

এর অর্থ হল আমাদের জন্য যা ভাল তিনি তাই দান করেন আর অকল্যাণগুলো দূর করে দেন।

এছাড়া তিনি কিয়ামত অবধি আমাদের দু’আকে মুলতবি করে রাখতে পারেন। হাশরের ময়দানে তিনি এসকল দু’আর প্রতিদান দান করবেন।

যারা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর কাছে দু’আ করেন তাদের দু’আর কবুলিয়্যাত গ্যারান্টিযুক্ত।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বেশ কয়েকজন সাহাবীর জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করেছিলেন। তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর জন্য দু’আ করছিলেনঃ

“হে আল্লাহ! তাকে ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দান করুন”

তিনি আনাস ইবনে মালিক(রাযিঃ) এর জন্য দীর্ঘায়ু ও অনেক সন্তানাদি লাভের জন্য দু’আ করেছিলেন। এবং তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব(রাযিঃ) এর ইসলাম কবুলের জন্য দু’আ করেছিলেন। তিনি সমস্ত উম্মতের মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করেছিলেন।

একারণে আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে দু’আর মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন