আল্লাহ হলেন আল-হাফিজ: সব কিছুর রক্ষক

ID 111440716 © Viorel Margineanu | Dreamstime.com

করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণে আমরা ইতিমধ্যে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছি। জীবনের গতি থেমে গেছে এবং অনেকেই এতে প্রাণ হারিয়েছে। এই সময়ে আল্লাহকে আল-হাফিজ মনে করা আমাদের জন্য সান্ত্বনা ও শক্তির উত্স হতে পারে।

আমরা বিশ্বাস করি যে “আর পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে আল্লাহ্‌ই শ্রেষ্ঠ” (আল কুরআন-৮:৩০) 

এই বিশ্বাস কঠিন সময়ে আমাদের জন্য শক্তির উত্স হতে পারে। এটি আমাদের হৃদয়কে শক্তিশালী করতে, আমাদের মনকে পরিষ্কার করতে এবং আমাদের ক্রিয়াকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনিই সমস্ত অস্তিত্বের হেফাজতকারীঃ

“নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর হেফাজতকারী।” (আল কুরআন-১১:৫৭)

তাঁর সংরক্ষণ ও সুরক্ষার উদাহরণ হিসাবে আমরা কুরআনের দিকে নজর দিতে পারি কারণ তিনি বলেছেনঃ

“নিশ্চয় আমিই কুরআন নাযিল করেছি আর অবশ্যই আমি তার সংরক্ষক।” (আল কুরআন-১৫:৯)

আল্লাহ কীভাবে কুরআনকে সংরক্ষণ ও সুরক্ষিত করেন

কুরআনের লিখিত অনুলিপিগুলিকে ‘মুসহাফ’ বলা হয়, এবং এগুলি সব যদি হারিয়েও যাও তবুও কুরআন নিরাপদে থাকবে। একইভাবে, কুরআনকে পরিবর্তনও করা যাবে না। এটি সেই ভাগ্যবানদের কারণে যারা আল্লাহর এই মহান গ্রন্থকে মুখস্থ করেছেন এবং করছেন। তাদেরকে ‘হাফিজ’ বলা হয় কারণ আরবি ভাষায় হাফিজ শব্দের অর্থ হল কোনোকিছু সংরক্ষণ করা বা সুরক্ষিত রাখা।

সমস্ত ‘মুসহাফ’ যদি হারিয়েও যায় তবুও সর্বদা এমন অনেকে থাকবেন যারা হৃদয় দিয়ে কুরআনকে ধারণ করেছেন।

এভাবেই আল্লাহ এই পৃথিবীতে কুরআন সংরক্ষণ ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি পালন করছেন।

একইভাবে, আমরা বিশ্বাস করি যে, তিনি আমাদেরকে রক্ষা করবেন এবং তিনিই আমাদের অভিভাবক। এ কথাটিই কুরাআনে এসেছেঃ

“আল্লাহই হলেন আমার অভিভাবক যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আর তিনিই সৎকর্মশীলদের অভিভাবকত্ব করে থাকেন।” (আল কুরআন-৭:১৯৬)

চীনের একটি গল্প

আমি শৈশবে একটি গল্প শুনেছিলামঃ

“চীনে সমস্ত ধর্ম নিষিদ্ধ হওয়ার পরে, সরকার একদল কর্মকর্তাকে প্রত্যন্ত এক গ্রামে গিয়ে কুরআনের সমস্ত অনুলিপি পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

গ্রামের লোকেরা, যারা মুসলমান ছিল তারা এই কথা শুনে সমস্ত শিশুকে জড়ো করল এবং তাদের প্রত্যেককে একটি করে সূরা শিখিয়ে দিল, যাতে তারা এটিকে মুখস্থ  রাখতে পারে। কর্মকর্তারা এলে গ্রামের লোকের সমস্ত মুসহাফ ছেড়ে দিল। আর তারা কুরআনের সব কপিকেই পুড়িয়ে ফেলল। তারা ভেবেছিল যে, এই গ্রামের লোকেরা হয়ত আনন্দের সাথেই তাদের ধর্ম ত্যাগ করছে।

কিন্তু তারা এটি জানত না যে, তারা কেবল কুরআনের অনুলিপি ছেড়ে দিয়েছিল, তবে কুরআন ও দ্বীন তাদের হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে সংরক্ষিত এবং সুরক্ষিত ছিল।”

আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপরে জয়ী

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন: “আমার রহমত সবসময় আমার ক্রোধের উপর জয়ী হয়!”

আমরা দেখেছি যে, আল্লাহ কীভাবে কুরআনকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেন এবং পরিবর্তন বা পরিবর্ধন থেকে রক্ষা করেন ও সুরক্ষা দেন। এইভাবে, কুরআন আমাদের সকলের জন্য হেদায়েতের এবং জীবনের উত্স হিসাবে সর্বদা বিদ্যমান থাকবে।

কুরআনের উদ্দেশ্য হল মানুষের পথকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে পরিচালিত করা এবং কীভাবে আমাদের জীবন পরিচালনা করতে হবে তা শেখানো যাতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতায় পৌঁছতে পারি। আমরা যদি কুরআনের শিক্ষাকে অনুসরণ করি তবে আমরা আশা করতে পারি যে, আল্লাহ আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

আমাদের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত করা (আল কোরআন-৫১:৫৬)। যতক্ষণ আমরা তাঁর ইবাদতের পথে আছি ততক্ষণ আমরা প্রতিটি পরিস্থিতিতে তাঁর সুরক্ষার আশা করতে পারি। তিনি আমাদের জীবন ও বিশ্বাসকে সংরক্ষণ ও সুরক্ষিত করবেন যাতে আমরা আমাদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারি, যেমন তিনি কুরআনকে সুরক্ষা ও সংরক্ষণ করেন যাতে কুরআনও তার উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে। যেমন কুরআনে বলা হয়েছেঃ

“যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সমস্যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার) কোন না কোন পথ বের করে দিবেন।” (আল কুরআন-৬৫:২)

তাই, আমরা যেই অবস্থাতেই থাকি না কেন আমাদের এটি বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এ অবস্থার মধ্যেই আমাদের ভালাই নিহিত রয়েছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

“মুমিনের বিষয় বড়ই আশ্চর্যজনক। তার সবকিছুই তার জন্য কল্যাণকর; মুমিন ছাড়া আর কারও এই বৈশিষ্ট্য নেই। সে যখন আনন্দদায়ক কিছু লাভ করে তখন শোকর করে, আর শোকর তার জন্য কল্যাণের বিষয়। যখন কষ্টদায়ক কোনো কিছুর সম্মুখীন হয়, তখন সে ছবর করে, আর ছবরও তার জন্য কল্যাণের বিষয়।” (মুসলিম)