আল বাত্তানি: আরবের টলেমি বলা হয় এই জ্যোতির্বিদকে

বিখ্যাত ০৯ মার্চ ২০২১ Contributor
ফিচার
আল বাত্তানি

মুসলিম জগতে আবির্ভূত এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম আল বাত্তানি । তিনি একাধারে ছিলেন বিখ্যাত গণিতজ্ঞ এবং একইসাথে বিদগ্ধ জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি তাঁর কাজে এতই দক্ষ ছিলেন যে তাকে বহু গবেষক-পন্ডিতেরা মধ্যযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে অবহিত করেন। করবেন নাইই বা কেন? সেই সময়ে তিনিই প্রথম ছিলেন যিনি প্রায় নিখুঁত ভাবে এক বছরের সময়কাল নির্ণয় করেছিলেন।

তাঁর নির্ণীত সময় আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে পরিমাপ করা সময়ের থেকে মাত্র ৩ মিনিটের কিছু কম ছিল। স্বয়ং পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞানী কোপারনিকাস, আল বাতানির লেখা গ্রন্থ কিতাব অজ জিজ (Kitāb az-Zīj) এর উল্লেখ করেছেন অনেকবার তাঁর লেখায়। উনার অবদান এবং জ্ঞান দেখে বহু বিজ্ঞানী-গবেষক মহল তাঁকে আরবের টলেমি (মিশরের বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী-দার্শনিক) উপাধি দিয়েছেন।

আল বাত্তানি-র সংক্ষিপ্ত জীবন

আল বাত্তানি ৮৫৮ অব্দে উত্তর মেসোপটেমিয়ার হারান বলে একটি জায়গায় জন্মগ্রহণ করেন, যেটি বর্তমানে তুরস্কের মধ্যে পড়ে। তাঁর আব্বা ছিলেন সেই সময়ের একজন দক্ষ বৈজ্ঞানিক যন্ত্র প্রস্তুতকারক। আব্বার কাছেই তাঁর যন্ত্র বানানোর প্রশিক্ষণের এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার শুরু। এরপর আল বাতানি রাকা শহরে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং সেখানেই তাঁর গবেষক সত্ত্বার বিচ্ছুরণ ঘটে।

এরপর তিনি নবম শতাব্দীর প্রথমদিকে সামারা শহরে বসবাস শুরু করেন। তাঁর পরিবার প্রাচীন মুসলিম সাবিয়ান সম্প্রদায়ের ছিল. যারা তারা বা নক্ষত্রের উপাসনা করত। ঠিক এই কারণেই আল বাতান বা বা তাঁর আব্বা তারা নিয়ে উৎসাহী হয়ে জ্যোতির্বিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। এরপর ৯২৯ অব্দে ইরাকের মসুল শহরে তিনি মারা যান ৭১ বছর বয়সে।

তাঁর কিছু বিখ্যাত আবিষ্কার এবং কাজ

আকাশের তারা খুঁজতে খুঁজতে তিনি প্রায় ৪৮৯ টি তারার তালিকা তৈরী করেছিলেন সেই সময়ের সীমিত যন্ত্রপাতির সাহায্যে। এক সৌর বছরের প্রায় নির্ভুল পরিমাপ করেছিলেন সর্বপ্রথম। তিনি তাঁর কাজে সেই সময়ের বিজ্ঞানীদের মত জ্যামিতিক পদ্ধতির ব্যবহার না করে ত্রিকোনমিত্রিক পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। আর এই পদ্ধতি ব্যবহার করেই উনি নির্ণয় করেছিলেন বিষুবরেখার কাছে পৃথিবীর অক্ষ এক বছরে নিজ অক্ষে ঘূর্ণনের কারণে ৫৪.৫” মত স্থানান্তরিত হয় এবং পৃথিবীর অক্ষ তার আবর্তন কক্ষের সাথে ২৩০৩৫’ কোণ করে থাকে।

আল বাত্তানি অঙ্ক কষে দেখিয়েছিলেন যে পৃথিবী থেকে সূর্যের সর্বাধিক দূরত্বের মানের পরিবর্তন হয় এবং সেই কারণেই সূর্যের আংশিক এবং পূর্ণ গ্রাস গ্রহণ হয়ে থাকে। তিনিই প্রথম ত্রিকোণমিতির সমস্যায় সাইন (sine) এবং ট্যান (tan) এর ব্যবহার করেন। মুসলিম জগতের এই বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানীকে সম্মান জানাতে চাঁদের গায়ের একটি গর্ত বা চন্দ্রগহ্বরের নাম রাখা হয়েছে আলবাতেইনিয়াস (ল্যাটিন ভাষায় আল বাত্তানি)।