SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

আল-মুজীব: আল্লাহ দু’আ কবুলকারী

আকীদাহ ১৪ ফেব্রু. ২০২১
মতামত
দু'আ কবুলকারী
Photo by Ali Arapoğlu from Pexels

আল্লাহর গুনবাচক নাম ‘আল-মুজীব’ বলতে উদ্দেশ্য হলো, ঐ সত্তা যিনি যেকোনো অবস্থায় যেকোনো স্থানে প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দেন।

নিশ্চয় মহান আল্লাহ দু’আ কবুলকারী । বান্দা যখন তাঁর দারস্থ হয় এবং তাঁর কাছে বৈধ প্রার্থনা পেশ করে তখন তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। আর তিনিই বান্দাকে দু’আ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দু’আ কবুলের ওয়াদাও করেছেন।

নিশ্চয় মহান আল্লাহ সকলের ডাকে সাড়া দেন

আল্লাহ তা’আলা বলেন, “বলুন, আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন, দু’আ কবুল করে থাকেন; এতে কোনো সন্দেহ নেই। (আল কুরআন-১১:৬১)

তিনি নিরুপায় ব্যক্তির ডাকে সাড়া দেন। আল্লাহ বলেন, “বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন?” (আল কুরআন-২৭:৬২)

তাঁর নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে যে তাঁকে ডাকে এবং তাঁর নিকট মিনতি করে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। সুতরাং, যে তাঁকে বন্দিদশা থেকে ডাকে, তিনি তাকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন। যে তাঁকে বিপদের মধ্য থেকে তাঁর কাছে মিনতি করে, তিনি তাকে মুক্তি দান করেন। যে তার দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে রিযিক প্রার্থনা করে, তিনি তাকে সচ্ছলতা ও নিরাপত্তা দান করেন।

কত এতীম স্বীয় তত্ত্বাবধানের জন্য তাঁকে ডেকেছে, তিনি তার ডাকে সাড়া দিয়ে অভিভাবকের ব্যবস্থা করেছেন এবং তাকে বড় করে তুলেছেন। কত অসুস্থ ব্যক্তি তাঁর কাছে সুস্থতার আশা ব্যক্ত করেছে, অতঃপর তিনি তাকে সুস্থতা দান করেছেন। এমন কত বন্ধ্যা মহিলা আছে যারা অনুনয়-বিনয় করে বন্ধাত্ব দূরীকরণে তাঁর নিকট প্রার্থনা করেছে, আর তিনি তাকে সন্তান দান করেছেন এবং সম্মানিত করেছেন।

কুরআন ও হাদিসে দু’আ করার নির্দেশ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা আমার কাছে দু’আ করো। আমি তোমাদের দু’আ কবুল করব।” (আল কুরআন-৪০:৬০)

আরবি দু’আ শব্দের অর্থ ডাকা, আহ্বান করা, প্রার্থনা করা, কোনো কিছু চাওয়া ইত্যাদি। দু’আর মাধ্যমে বান্দা নিজেকে আল্লাহর কাছে খুব সহজেই সমর্পণ করতে পারে। দু’আ মুমিনদের হাতিয়ার। দু’আর মাধ্যমে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। এমনকি দু’আর ফলে ভাগ্যও ঘুরে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দু’আ ছাড়া আর কিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করতে পারে না।’ (তিরমিযী)

দু’আ সব ইবাদতের মূল। দু’আর তাৎপর্য সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সর্বোত্তম ইবাদত হল দু’আ।” (হাকেম)

অন্য হাদিসে এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর কাছে দু’আর চেয়ে বেশি মর্যাদাময় আর কোনো আমল নেই।” (তিরমিযী)

মানুষের কাছে কিছু চাইলে মানুষ বিরক্ত হয়। বারবার চাইলে রাগান্বিত হয়। আর আল্লাহর কাছে না চাইলে আল্লাহ রাগ করেন। বারবার চাইলে তিনি খুশি হন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায় না, আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন।” (তিরমিযী)

যে দু’আ করতে অলসতা করে তার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সবচেয়ে হতভাগ্য হল সে ব্যক্তি, যে দু’আ করতে অলসতা করে।” (তাবারানী)

আল্লাহ তা’আলা বান্দার দু’আ কবুল করার জন্য সবসময় প্রস্তুত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, “হে রাসূল! যখন আমার বান্দা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দিন- আমি বান্দার খুব কাছেই আছি। সে যখনই আমার কাছে দু’আ করে, আমি তার দু’আ কবুল করি।” (আল কুরআন-২:১৮৬)

দু’আ কবুলের কিছু শর্ত

দু’আ কবুলের অনেক শর্ত আছে। এখানে বিশেষ কিছু শর্ত তুলে ধরা হল।

১) একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য খালেস দিলে তাঁর নিকট দু’আ করলে আল্লাহ সেই দু’আ কবুল করেন।

২) দু’আকারীর খাবার ও পোশাক হালাল উপার্জনের হওয়া।

৩) সুন্নাত তরিকা অনুযায়ী দু’আ করা। দু’আর সুন্নাত তরিকা হল- আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরূদ পড়ে দু’আ শুরু ও শেষ করা। বিনয় ও কাকুতি-মিনতি সহকারে দু’আ করা এবং দু’আ কবুলের ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা নিজের প্রতিপালককে ডাকো, কাকুতি-মিনতি করে এবং নীরবে-নিভৃতে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না।” (আল কুরয়ান-৭:৫৬)

৪) আশা ও ভয়ভীতি নিয়ে দু’আ করা। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “আল্লাহকে ডাকো ভয় ও আশা নিয়ে।” (আল কুরআন-৭:৫৬)

৫) দু’আর মধ্যে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না থাকা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার আবেদন না করা।

৬) সম্ভব হলে অজু করে কেবলামুখী হয়ে দু’আ করা। নিজের গোনাহের কথা স্বীকার করে আল্লাহর নিআমতসমূহের স্বীকৃতি দেওয়া।

দু’আ কবুলের বিশেষ কিছু মুহুর্ত

আযান ও ইকামাতের মাঝের সময়, ফরজ সালাতের পর, রাতের শেষভাগে, জুম’আর দিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত এবং পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের সময় দু’আ করলে আল্লাহ তা’আলা সেই দু’আ কবুল করেন বলে হাদিস শরিফে উল্লেখিত হয়েছে। এছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি কেউ চায় যে বিপদের সময় তার দু’আ কবুল করা হোক, তবে সে যেন সুখের দিনগুলোতেও বেশি বেশি দু’আ করে।” (তিরমিযী)