SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

আল-হাদী: হিদায়াত দান করার মালিক একমাত্র আল্লাহ

আকীদাহ ১৩ ফেব্রু. ২০২১
ফিচার
আল-হাদী
Photo by Quang Nguyen Vinh from Pexels

আল-হাদী শব্দের অর্থ হিদায়াতকারী, পথপ্রদর্শক। এটি আল্লাহ তা’আলার আসমাউল হুসনা সমূহের মধ্যে অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ একটি নাম। আল-হাদী হলেন তিনি, যিনি বান্দাকে যাবতীয় কল্যাণের দিকে ও ক্ষতিকর জিনিস থেকে বিরত রাখতে হিদায়াত ও পথপ্রদর্শন করেন। তারা যা জানে না তাদেরকে তা শিক্ষা দেন। তাওফিক দান করেন এবং ভুল-ভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকতে পথপ্রদর্শন করেন। তাদেরকে তাকওয়া দান করেন এবং তাদের অন্তরকে তাঁর দিকে ঝুঁকতে ও তাঁর আদেশ মান্য করতে হিদায়াত দান করেন।

হিদায়াত দান করার মালিক একমাত্র আল্লাহ, আল-হাদী 

মানুষকে সরল পথ দেখানো এবং তার অন্তরের পরিবর্তন ঘটিয়ে হিদায়াত প্রদান করা আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছাধীন। মানুষ চাইলেও কাউকে শত চেষ্টা করেও হিদায়াত দান করতে পারেনা। তাই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, সৎ কাজ করার তাওফিক বা সঠিক পথ দেখানো একমাত্র আল্লাহ তা’আরলাই কাজ,অন্য কেউ তা পারে না। কুরআনে আল্লাহ তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “আপনি যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করতে পারবেন না। বরং, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করে থাকেন”(আল কুরআন-২৮:৫৬)

এ আয়াতটির প্রেক্ষাপট হল, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর চাচা আবু তালেবের মৃত্যুর আগে নবীজী তাকে বারবার কালিমা পড়ানোর তাকিদ দিচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর চাচা কালিমা উচ্চারণ করছিলেন না। তখন আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত নাজিল করে জানিয়ে দিলেন যে, আপনি চাইলেই আপনার চাচাকে হিদায়াত দান করতে পারবেন না। কারণ, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।

আল-হাদী কাকে হিদায়াত দান করেন?

“মূলত যার অন্তরে সত্য গ্রহণের আগ্রহ থাকে আল্লাহ তা’আলা তাকেই হিদায়াত দান করেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরলপথে পরিচালিত করেন।” (আল কুরআন-১২:২৫)

এই আয়াতের প্রথম অংশে বলা হয়েছিল, আল্লাহ মানুষকে শান্তির পথে আহ্বান করেন। শান্তির পথে আসা মানেই হিদায়াতের পথে আসা। কিন্তু নিজ ক্ষমতা, শক্তি ও অর্থ বলে কেউ হিদায়াত পায় না। হিদায়াত আল্লাহর বিশেষ দান। যারা হিদায়াতের পথে চলতে চায়, আল্লাহ তাদের জন্য হিদায়াতের পথে চলা সহজ করে দেন। আল্লাহর হিদায়াতের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছায় নবী-রাসুলদের মাধ্যমে। নবীরা মানুষকে হিদায়াতের পথে ডাকেন, আর আল্লাহ মানুষকে হিদায়াতের পথে পরিচালিত করেন।

ইমাম রাগেব ইস্পাহানি (রহ.) তাঁর ‘মুফরদাতুল কুরআন’ গ্রন্থে হিদায়াত শব্দের খুব সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য মতে হিদায়াত হলো, ‘কাউকে গন্তব্যস্থানের দিকে অনুগ্রহের সঙ্গে পথ প্রদর্শন করা।’ তাই ‘হিদায়াত করা’ প্রকৃত অর্থে একমাত্র আল্লাহ তা’আলারই কাজ।

হিদায়াতের তিন স্তর

তবে এটা সত্য যে হিদায়াতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। হিদায়াতের একটি স্তর হচ্ছে সাধারণ ও ব্যাপক। গোটা সৃষ্টিজগৎ এর অন্তর্ভুক্ত। জড়পদার্থ, উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ এর আওতাধীন। সেটি এই যে নিজ নিজ পরিমণ্ডলে প্রতিটি বস্তুর বুদ্ধি-বিবেচনা রয়েছে। এটাও এক ধরনের হিদায়াত; যদিও প্রত্যেকের বুদ্ধি ও অনুভূতির তারতম্য রয়েছে। যেসব বস্তুতে তা অতি অল্পমাত্রায় বিদ্যমান, সেগুলোকে প্রাণহীন বা অনুভূতিহীন বলা যায়। অনুভূতির ক্ষেত্রে এ তারতম্যের কারণেই গোটা সৃষ্টিজগতের মধ্যে একমাত্র মানুষ ও জ্বীন জাতির জন্য শরিয়তের বিধান পালন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারণ সৃষ্টির এ দুই স্তরের মধ্যেই বুদ্ধি ও অনুভূতি পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হয়েছে। তাই বলে এ কথা বলা যাবে না যে একমাত্র মানুষ ও জ্বীন জাতি ছাড়া সৃষ্টির অন্য কোনো কিছুর মধ্যে বুদ্ধি ও অনুভূতির অস্তিত্ব নেই।

হিদায়াতের দ্বিতীয় স্তর সেসব বস্তুর সঙ্গে জড়িত, যারা বিবেকবান ও বুদ্ধিসম্পন্ন। অর্থাৎ মানুষ ও জ্বীন জাতি। এই হিদায়াত নবী-রাসুল ও আসমানী কিতাবের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছেছে। কেউ হিদায়াত গ্রহণ করে মুমিন হয়েছে, আবার কেউ তা প্রত্যাখ্যান করে কাফির ও অভিশপ্ত হয়েছে।

হিদায়াতের তৃতীয় স্তর আরোও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। তা শুধুমাত্র মুমিন ও মুত্তাকীদের জন্য। এই হিদায়াত আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই মানুষকে প্রদান করা হয়। এর নামই তাওফিক। অর্থাৎ এমন অবস্থা, পরিবেশ ও মনোভাব সৃষ্টি করে দেওয়া, যার ফলে ধর্মীয় নির্দেশনা মোতাবেক আমল করা মানুষের জন্য সহজ হয়।

এর অর্থ কী?

হিদায়াতের উল্লিখিত ব্যাখ্যার আলোকে এ সন্দেহের মীমাংসা হয়ে যায় যে, কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ জালিম ও পাপাচারীদের হিদায়াত দান করেন না।” অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, “তিনি সবাইকেই হিদায়াত দান করেন।” এর জবাব হলো, হিদায়াতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। ব্যাপক অর্থে দুনিয়ার সব কিছু হিদায়াতপ্রাপ্ত, আর বিশেষ অর্থে জালিম ও পাপীরা হিদায়াতপ্রাপ্ত নয়।

হিদায়াতের তিনটি স্তরের মধ্যে প্রথম ও তৃতীয় স্তর সরাসরি আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। নবী-রাসুলদের কাজ শুধুমাত্র হিদায়াতের দ্বিতীয় স্তরে সীমিত। কুরআনের যেখানে যেখানে নবী-রাসুলদের হিদায়াতকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তা হিদায়াতের দ্বিতীয় স্তরের ভিত্তিতেই বলা হয়েছে।