আশুরা- গল্প ও শিক্ষা

Photo <a href="https://www.dreamstime.com/muslim-man-praying-prayer-beads-his-hands-outdoor-muslim-man-praying-prayer-beads-his-hands-outdoor-image145638927">145638927</a> © <a href="https://www.dreamstime.com/leolintang_info" itemprop="author">Leo Lintang</a> - <a href="https://www.dreamstime.com/photos-images/muslim.html">Dreamstime.com</a>

আল্লাহ আমাদের কাছে তাঁর কিতাবে যেসকল ঘটনা বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে একটি হল পবিত্র মুহররম মাসে মুসা(আঃ) এবং মিশরের অত্যাচারী রাজা ফেরাউনের গল্প। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

“আমি আপনার কাছে মূসা ও ফেরাউনের বৃত্তান্ত সত্য সহকারে বর্ণনা করছি ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে। ফেরাউন তার দেশে উদ্ধত হয়েছিল এবং সে দেশবাসীকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে তাদের একটি দলকে দূর্বল করে দিয়েছিল। সে তাদের পুত্র-সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং নারীদেরকে জীবিত রাখত। নিশ্চয় সে ছিল অনর্থ সৃষ্টিকারী। দেশে যাদেরকে দূর্বল করা হয়েছিল, আমার ইচ্ছা হল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করার, তাদেরকে নেতা করার এবং তাদেরকে দেশের উত্তরাধিকারী করার। এবং তাদেরকে দেশের ক্ষমতায় আসীন করার এবং ফেরাউন, হামান ও তাদের সৈন্য-বাহিনীকে তা দেখিয়ে দেয়ার, যা তারা সেই দূর্বল দলের তরফ থেকে আশংকা করত” (আল কুরআন-২৮:৩-৬)

মূসা (আঃ)- এর সাহসিকতা

ফেরাউন বনী ইসরাইল জাতির উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং তাদেরকে দাসে রূপান্তর করেছিল, তাদের নবজাতক ছেলেদের হত্যা করত; কিন্তু তাদের মেয়েদেরকে ছেড়ে দিত। সে এই জঘন্য কাজটি করত কারণ সে স্বপ্নে দেখেছিল যে, তার রাজত্ব এক ছেলের মাধ্যমে ধ্বংস হবে। কিন্তু এই প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও আল্লাহ তাঁর অসীম কুদরতে মূসা(আঃ) কে নিরাপদে জন্মগ্রহণ করালেন, নিহত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করলেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত ফেরাউনের নিজের ঘরে তাঁকে লালিতপালিত করলেন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে মূসা(আঃ) ভুলক্রমে ফেরাউনের লোকদের একজনকে হত্যা করেছিলেন। মূসা(আঃ) ভয় পেয়ে ভেবেছিলেন যে, তাকে বন্দী করে হত্যা করা হবে। তাই তিনি পালিয়ে মাদিয়ান প্রদেশে চলে যান এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন। তিনি সেখানে বিবাহ করেন এবং তারপর মিশরে ফিরে আসেন। ফেরার পথে, আল্লাহ তাঁর উপর ওহী নাযিল করেন এবং অবাধ্য ফেরাউনকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে বলেন। আল্লাহ বলেনঃ

“মূসার বৃত্তান্ত আপনার কাছে পৌছেছে কি? যখন তার পালনকর্তা তাকে পবিত্র তুয়া উপ্যকায় আহবান করে বলেছিলেন, ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে। আমি তোমাকে তোমার পালনকর্তার দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাকে ভয় কর। অতঃপর সে তাকে মহা-নিদর্শন দেখাল। কিন্তু সে মিথ্যারোপ করল এবং অমান্য করল। তারপর সে ফাসাদ করার চেষ্টায় প্রস্থান করল। সে সকলকে সমবেত করল এবং সজোরে আহবান করল, সে বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ রব’।” (আল কুরআন-৭৯:১৫-২৪)

জাদুর পরাজয়

ফেরাউন দাবি করেছিল যে, মুসা(আঃ) যে লক্ষণগুলি নিয়ে এসেছিলেন তা কেবলই যাদু ছিল এবং তার কাছে এমন যাদু আছে যা মুসার যাদুকে ছাপিয়ে যাবে। সুতরাং ফেরাউন তাঁর রাজ্য থেকে যাদুকরদের একত্র করল এবং তারা তাদের যাদু উপস্থাপন করল। মূসা(আঃ) কে আল্লাহ যা কিছু নিদর্শন দিয়েছিলেন তা তিনি পেশ করলেন। আল্লাহ বলেনঃ

“ফলে সত্য প্রকাশ হয়ে গেল এবং তারা যা কিছু করছিল তা বাতিল হয়ে গেল। সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হল। এবং যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। তারা বলল, ‘আমরা সকল সৃষ্টির রবের প্রতি ঈমান আনলাম, যিনি মূসা ও হারুনের পরওয়ারদেগার” (আল কুরআন-৭:১১৮-১২২)

এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ফেরাউন জাদুকরদেরকে হত্যা করল এবং মূসা(আঃ) কে ধ্বংসের জন্য সৈন্য জমা করল। মূসা(আঃ) তাঁর সহচরদের নিয়ে আল্লাহর আদেশে পলায়ন করলেন এবং পলায়নের সময় সমুদ্রের সামনে এসে পড়লেন। এ ঘটনা প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, “যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম। মূসা বলল- ‘কক্ষনো না, আমার রব আমার সঙ্গে আছেন, শীঘ্রই তিনি আমাকে পথ নির্দেশ করবেন” (আল কুরআন-২৬:৬১-৬২)

সাহায্যপ্রার্থীকে আল্লাহ কখনও হতাশ করেন না

যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সাহায্যপ্রার্থী হয়, আল্লাহ তাকে কখনও হতাশ করেন না। আল্লাহ মূসা(আঃ) কে তাঁর লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করার জন্য নির্দেশ দিলেন। মূসা(আঃ) তাই করলেন এবং তাদের পারাপারের জন্য সমুদ্রে রাস্তা উন্মুক্ত হল।

আল্লাহ বলেন, “আর আমি অবশ্যই মূসার কাছে ওহী প্রেরণ করেছিলাম যে, ‘আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতের বেলায় রওয়ানা হও। অতঃপর সজোরে আঘাত করে তাদের জন্য শুকনো রাস্তা বানাও। পেছন থেকে ধরে ফেলার আশংকা করো না এবং ভয়ও করো না’।” (আল কুরআন-২০:৭৭)

মূসা(আঃ) ও সঙ্গীরা সমুদ্র পার হয়ে গেলেন কিন্তু ফেরাউন ও তার বাহিনীরা সমদ্রে ডুবে মরল। এই মুক্তির দিনটি ছিল ১০মুহররম বা আশুরা। এই দিনকে স্মরণ করেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এদিন আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ রোজা রাখতেন।