আসুন ইসলামের স্তম্ভসমূহের সঙ্গে পরিচিত হই

dreamstime_s_162366418

ইসলামের স্তম্ভ বা ভিত্তি পাঁচটি। এগুলি পালন করা প্রত্যেক বালেগ মুসলমানের উপর ফরজ। ইসলামের ভিত্তিসমূহ নিয়ে নিম্নে আলচনা করা হলঃ

১)ঈমান

ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হচ্ছে ঈমান। আল্লাহ পৃথিবীতে যত নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, তাদের দাওয়াতের মূল বিষয়ই ছিল তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। আর এই তাওহীদের উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনের নামই হল ঈমান।

ঈমান অটল ও দৃঢ় বিশ্বাসের নাম। ঈমান তখনই পূর্ণতা পায় যখন কেউ ঈমানের মূল বিষয়গুলিকে অন্তরে বিশ্বাস করে, মুখে স্বীকার করে ও কার্যে তা রূপান্তর করে।

কোনো বিষয়কে শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আস্থার ভিত্তিতে মেনে নেয়ার নামই হল ঈমান। ঈমান ছাড়া কোনো নেক আমলই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হয় না।

ঈমানের ও তাওহীদের বিপরীত হল কুফর ও শিরক। আর কুফর ও শিরক সবচেয়ে জঘন্যতম গুনাহ। আল্লাহ বলেন, “নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। আর যে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক সাব্যস্ত করল, সে যেন মহা অপবাদ আরোপ করল” (আল কুরআন-৪:৪৮)

২)সালাত

ঈমানের পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সালাত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বিভিন্ন জায়গায় সালাতের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। সূরা ত্ব-হা তে আল্লাহ বলেন, “আমিই আল্লাহ; আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। সুতরাং, তোমরা আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে সালাত প্রতিষ্ঠা করো।’’

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন হাদিসে বারবার সালাত আদায়ের তাগিদ দিয়েছেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ। তাইতো প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতকে ঈমানের পরেই স্থান দিয়েছেন। 

সালাতের এই ফরজ বিধান কার্যকর হয় মে’রাজের রাত্রে। ইসলামের একমাত্র বিধান হলো সালাত যা মেরাজের রাত্রিতে আল্লাহ তা’আলা কার্যকর করেন। ঈমান আর কুফরের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সালাত।

পরিশেষে, নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া প্রতিটা মুসলিমের ঈমানের দাবি। কারণ, নামাজি ব্যক্তিই হল দুনিয়া ও আখিরাতে প্রকৃত সফলকাম।

৩)যাকাত 

যাকাত হল ইসলামী অর্থনীতির মূল বুনিয়াদ। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক নেসাব পরিমাণ মালিকের অধিকারী মুসলমান নর-নারীকে প্রতি বছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ যাকাত দিতে হয়।

যাকাত শব্দের অর্থ পরিচ্ছন্নতা। নিজের জমানো অর্থ থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ গরীব-দুঃখী মানুষকে দান করে নিজের আত্মা ও সম্পদের পরিশুদ্ধিই হল যাকাত। শরীয়তের ভাষ্যমতে, এক বছর যাবত নিসাব পরিমাণ(৭.৫ ভরি স্বর্ণ বা ৫২.৫ ভরি রূপা বা সমপরিমাণ অর্থ) সম্পদের মালিক থাকলে তাকে মোট অর্থের শতকরা ২.৫% হারে যাকাত পরিশোধ করতে হবে। । এতে সম্পদ হালাল ও আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং গরিব-মিসকিনদের জন্য আর্থিক সচ্ছলতার উপায় হয়।

৪)রমজানের সিয়াম

সূর্যোদ্বয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার খাদ্য-পানীয় এবং যাবতীয় ভোগ-বিলাস ও যৌন চাহিদা থেকে বিরত থাকার নাম সিয়াম। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, প্রতিটি সুস্থ মুসলমানের জন্য রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। সিয়াম কেবল উম্মাতে মোহাম্মাদীর উপরই ফরজ না, বরং এটি আগের উম্মতদের উপরও ফরজ ছিল।
 
আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর” (আল কুরআন-২:১৮৪)

রমজান মাসে রোজা রাখা প্রত্যেকের জন্যই ফরজ। যদি কোনো মুসলমান রমজানে ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা পরিত্যাগ করে, তবে সে বড় গুনাহগার, ঈমান ও ইসলামের খেয়ানতকারী এবং দ্বীনের মৌলিক বিধান লঙ্ঘনকারী হিসেবে গণ্য হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গকারীদের জন্য হাদিসে কঠিন ধমকি এসেছে।

৫)বাইতুল্লাহর হজ্জ্ব

শারীরিক ও আর্থিক দিক থেকে সক্ষম হলেই জীবনে একবার প্রত্যেক মুসলিমের জন্য হজ্জ্ব করা ফরজ। যিলহজ্জ্ব মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজ্জ্বের জন্য নির্ধারিত সময়। হজ্জ্ব পালনের জন্য মক্কা নগরীর পবিত্র কাবাঘর, মিনা, আরাফা, মুযদালিফা প্রভৃতি স্থানে গমন এবং অবস্থান করা আবশ্যক।

আল্লাহ বলেন, “এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর আল্লাহর জন্য বাইতুল্লাহর হজ্জ্ব করা ফরজ। আর যে ব্যক্তি কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সকল সৃষ্টি থেকে অমুখাপেক্ষী।” (আল কুরআন-৩:৯৭)

তাই হজ্জ্ব ফরজ হওয়ার শর্তগুলো পূর্ণ হলেই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত অনতিবিলম্বে হজ্জ্ব করা। কেননা প্রত্যেকটি ফরজ আমল অনতিবিলম্বে সম্পাদন করা বাধ্যতামূলক।

মুসলিম কারা?

মুসলিম অর্থ আত্মসমর্পণকারী। যারা ইসলামের এই ৫টি মূল স্তম্ভকে পুরোপুরি আকড়ে ধরে আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করে তারাই প্রকৃত মুসলিম।