ইউরেনাস থেকে এক্স-রে: ধরা পড়ল বিজ্ঞানীদের চোখে

আবিষ্কার Contributor
জ্ঞান-বিজ্ঞান
ইউরেনাস
Photo : Dreamstime

আমাদের সৌরজগতে সূর্য কে প্রদক্ষিণ করা সপ্তম গ্রহ হল ইউরেনাস। আমাদের সৌর জগতের তৃতীয় বৃহত্তম ব্যাসার্ধ এবং ভরের দিক থেকে চতুর্থ বৃহত্তম গ্রহের শিরোপা ইউরেনাসের মাথায়। ইউরেনাসের দুটি বলয়ও বর্তমান এবং এই গ্রহের অক্ষ অনেকটা কাত হয়ে থাকায়, অন্যান্য গ্রহ থেকে এর ঘূর্ণনের প্রকৃতি অনেকটাই আলাদা। প্রধানত হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন দিয়ে তৈরী হলেও, প্রচুর পরিমাণে এমোনিয়া, মিথেন এবং বরফ থাকার কারণে বিজ্ঞানীরা একে ‘আইস জায়েন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন নেপচুনের পাশাপাশি।

পৃথিবী থেকে অনেক দূরে অবস্থানের জন্য খুব বেশি অভিযান এখনও অব্দি চালানো হয়নি ইউরেনাসে। ১৯৮৬ সালে ভয়েজার-২ মহাকাশযান প্রথম ইউরেনাস এর কাছে ছবি তোলে এবং তারপর থেকে পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের টেলিস্কোপ দিয়েই চোখ রাখা হয়ে থাকে। তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান হল নাসার চন্দ্র এক্স-রে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র যার টেলিস্কোপে প্রথমবারের মত ধরা দিল ইউরেনাস থেকে আসা এক্স-রে। একটি আন্তর্জাতিক দলের এই গবেষণা সম্প্রতি প্রকাশিত হল বিখ্যাত Journal of Geophysical Research এর পাতায়।

কীভাবে ইউরেনাস থেকে এক্স-রে আসছে?

বিজ্ঞানীরা চন্দ্র প্রোগ্রামের ২০০২ সালের নথিভুক্ত তথ্য কে বিশ্লেষণ করেন এবং তার সাথে ২০১৭ সালের পাওয়া তথ্য কেও বিশ্লেষণ করে সেখানে এক্স-রে এর উপস্থিতি লক্ষ করেন। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সূর্য থেকে যে আলো আসে তা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বিক্ষিপ্ত হয়, আবার বৃহস্পতি এবং শনি সূর্য থেকে আসা এক্স-রে কে বিক্ষিপ্ত করে। প্রথমে ইউরেনাসের ক্ষেত্রেও এই বিক্ষেপনকেই একমাত্র উৎস ধরলেও, খোঁজ চালিয়ে বোঝা যায় আরও অন্ততঃ একটি উৎস রয়েছে। পৃথিবীতে অরোরা নামের যে অদ্ভুত সুন্দর আলোর উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়, তা আসলে সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত আয়ন কণা দ্বারা বিক্ষেপণের ফল। এই সময়ে অরোরা থেকে এক্স-রে নির্গত হয়। ইউরেনাসকে ঘিরে থাকা আয়ন কণার উপস্থিতি এবং তার অরোরাও এই এক্স-রে এর উৎস হতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন। আরও গবেষণা চলছে সমস্ত উৎস গুলিকে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করার জন্য।

এই গবেষণা থেকে আমরা কী জানতে পারি?

ইউরেনাসের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং ঘূর্ণন অক্ষের অস্বাভাবিক অভিমুখ একে এক্স-রে পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এমনকি অন্যান্য গ্রহের ক্ষেত্রে তাদের আবর্তন অক্ষ তাদের কক্ষপথের তলের সাথে উল্লম্বভাবে থাকলেও ইউরেনাসের ক্ষেত্রে তা থাকে সমান্তরাল ভাবে। তার সাথে একদিকে হেলে থাকার কারণে ইউরেনাসের চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের অভিমুখও হেলে থাকে। এই কারণে, ইউরেনাসের অরোরার চরিত্র বেশ আলাদা এবং জটিল। তাই আমরা যদি এই এক্স-রে এর উৎস সম্পর্কে সব তথ্য জানতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর, নিউট্রন ষ্টার ইত্যাদির মত মহাকাশে থাকা আরো জটিল বস্তুর চরিত্র নির্ধারণ করতে সুবিধে হবে।