শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

ইউরোপের এই দেশে রয়েছে সুমহান ইসলামিক সাহিত্য ভান্ডার যার কথা কেউ জানে না

Dublin Castle
ID 85546071 © Jill Meyer | Dreamstime.com

অনেক কারণেই মানুষ আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে বেড়াতে আসে কিন্তু সেই কারণ গুলোর মধ্যে সুন্দর ভাবে সজ্জিত এবং সবার কাছে প্রশংসিত প্রাচীন কোরআন নেই। সারা বিশ্বের অনেক মুসলমানেরই এটা জানা নেই, এমনকি ডাবলিনে বসবাসকারীরা অনেকেই জানেন না যে আয়ারল্যান্ডের রাজধানীটি সম্ভবত সারা বিশ্বের না হলেও পাশ্চাত্য পরিমন্ডলে ইসলামিক বইপত্রের অন্যতম ভান্ডার।

আজ্ঞে হ্যাঁ। ডাবলিন প্রাসাদের ভিতরে প্রাচীন কোরআন এবং ইসলামিক বই পত্র রয়েছে। আয়ারল্যান্ডের ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত ডাবলিন মসজিদের অনেক কর্মচারীও এ বিষয়ে অবগত নন।

ডাবলিন মসজিদ থেকে  মাত্র ২৫ মিনিটের হাটার দূরত্বে অবস্থিত ডাবলিন ক্যাসেলের চেস্টার বিটি লাইব্রেরি। এটিকে বলা যেতে পারে ইসলামিক সাহিত্য ভান্ডার।
চেস্টার বিটি লাইব্রেরিটি ১৯৫৭ সালে ডাবলিনের একটি প্রাচুর্যপূর্ণ শহরতলির বিশাল ভবনে প্রথম শুরু হয়েছিল এবং এটি ডাবলিন ক্যাসলের আঠারো শতকের ক্লক টাওয়ারের ভিতরের বর্তমান জায়গাটিতে স্থানান্তরিত হয় ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
আমেরিকান আইরিশ বংশোদ্ভূত ধনী খনি ব্যবসায়ী স্যার আলফ্রেড চেস্টার বিট্টি ছিলেন এই গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা। তার ১২৫ তম জন্মদিনের দিন আধুনিক সুবিধা সম্বলিত খোলামেলা পরিসরের এই নতুন ভবনটি উদ্বোধন করা হয়।
এই লাইব্রেরীতে থাকা ২০০০০ বই, পাণ্ডুলিপি এবং পার্চমেন্টের মধ্যে, এই ধনী ব্যবসায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এবং দুর্ল্ভ ৬০০০ ইসলামিক নিদর্শন সংগ্রহ করেছিলেন।
উনার এই সংগ্রহের ভিতর অষ্টম শতাব্দীর পূর্ববর্তী সময়কার ২৭০টি সম্পূর্ণ বা খণ্ডিত কোরআন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর সবগুলোই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের একশত বছরের মধ্যে লেখা হয়েছিল। অনেকের কাছে সংগ্রহ করাটা একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়ানোর অনেক আগে থেকেই স্যার বিট্টি এই ইসলামিক নিদর্শনগুলি জোগাড় করছিলেন।

ইসলামের পবিত্রতম বইয়ের উনার এই সংগ্রহে এখন পর্যন্ত পাওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ কুরআন রয়েছে যেটি ইবনে আল-বাওয়াব কুরআন নামে পরিচিত এবং যা ৩৯১ হিজরিতে (১০০০ – ১০০১) আবদুল হাসান আলী ইবনে হিলাল বাগদাদে অনুলিপি করেছিলেন। তিনি ছিলেন মধ্যযুগের অন্যতম মুসলিম ক্যালিওগ্রাফার এবং অনুলিপিকারি।

পার্সিয়ান গুরু যিনি ইবনে আল-বাওয়াব নামে অধিক পরিচিত, তার নামটির আক্ষরিক অর্থ ‘দারোয়ানের পুত্র’, যেটা কিনা উনার বাবার ক্ষুদ্র পেশার কারণে হয়েছিল, তাঁর জীবদ্দশায় কেবল ৬৪ টি অনুলিপি তৈরি করতে পেরেছিলেন বলে জানা যায়। সারা বিশ্বে এখন ছয়টি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা ইবনে আল-বাওয়াবের তৈরি বলে ধারণা করা হয়। , তবে এটি সকলের বিশ্বাস যে চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে কুরআনে যে নিদর্শনটি রয়েছে তা নাসখ-রায়হান ভঙ্গিতে লিখিত, এটি তার টিকে থাকা রচনা গুলোর মধ্যে অন্যতম।

কুরআনের আরো একটি রত্ন রয়েছে যার নাম রুজবিহান কোরআন। এর অধ্যায়গুলোর ফ্রেম বানানো হয়েছে ঘন নীল সবুজ এবং লাল রঙের জড়ি দিয়ে। ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে ইরানের শহর শিরাজে এটি তৈরি করা হয়ছিল।্কোরআনের এই নিদর্শনটির নামকরণ করা হয়েছে এর অনুলিপিকার রুজবিহান মুহাম্মদ আল-তাবি’ই আল-শিরাজের নামে যিনি গুরু ও দক্ষ ক্যালিগ্রাফার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

কুরআনের বাহিরে অন্যান্য সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১,০০০ মুঘল-যুগের চিত্রকর্ম, নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর জীবনীর একটি অটোমান সাম্রাজ্যের সময়কার চিত্রিত খণ্ড, মহান পারস্য কবি ফিরদাউসি এবং হাফিজের রচনাগুলির অনুলিপি এবং হেলেনিকের প্রথম দিকের আরবী অনুবাদ।

গ্রন্থাগারের ইসলামিক নিদর্শনগুলো সিংহভাগই আরব বিশ্ব, ইরান, তুরস্ক এবং ভারত থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

সকল সংগ্রহ গুলোর মধ্যে থেকে বাছাইকৃত কিছু্ নিদর্শন লাইব্রেরীর দুটি প্রদর্শনীতে সর্বদা প্রদর্শিত হয় যেমন আর্টস সব বুক এবং পবিত্র সনাতন। চেস্টার বিটি লাইব্রেরি, যা ২০০২ সালে ইউরোপীয় যাদুঘর হিসাবে উপাধি পেয়েছিল, এটিতে জনসাধারণের প্রবেশের জন্য অর্থ লাগে না এবং গবেষকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

কোথায় অবস্থিতঃ চেস্টার বিটি লাইব্রেরিটি আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন শহরের প্রাণকেন্দ্রে লিফফি নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ডাবলিন ক্যাসলের ক্লক টাওয়ারে রয়েছে।

যাওয়া-আসাঃ লাইব্রেরিতে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হল ডাবলিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থেকে ৭৮৭ নম্বর বাসটিতে উঠা যা আপনাকে ডাবলিন শহরের দক্ষিণ কার্নেগি সেন্টারে নিয়ে যাবে । সেখান থেকে ডাবলিন ক্যাসলটির দূরত্ব মাত্র পাঁচ মিনিটের হাটা পথ।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শঃ শহরের দক্ষিণ সার্কুলার রোডের দিকে যে ১৫০ নম্বর বাসটি যায় তাতে উঠে পড়ুন এবং সেটিতে করে ওয়ারেনমাউন্ট ডোনার অ্যাভিনিউয় পর্যন্ত যান। সেখানে আপনি উনবিংশ শতাব্দীর ডোনোর প্রিসবিটারিয়ান গির্জা দেখতে পাবেন যা এখন ডাবলিন মসজিদ। এটি দারুণ একটা জায়গা যেখানে আপনি স্থানীয় আইরিশ মুসলমানদের সাথে সাক্ষাত করতে পারবেন এবং তাদের তৈরি মধ্য প্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার সুস্বাদু হালাল খাবার খেতে পারবেন।

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন