ইকরা- কুরআনের সর্বপ্রথম শব্দ, জেনে নিন এর অর্থ

শিক্ষা ২৪ এপ্রিল ২০২০ Contributor

কুরআনে সর্বপ্রথম যে শব্দটি অবতীর্ণ হয়েছে, তা হলো ‘ইকরা’—পড়ো। এটি আদেশমূলক ক্রিয়াপদ। আল্লাহ বলেছেন, ‘পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, জমাট রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ো…।’ (সুরা আলাক, আয়াত: ১-৩)

প্রিয় নবী রাসূলে আকরামের (সা.) কাছে সর্বপ্রথম আল্লাহ প্রদত্ত পাঠানো ওহি হচ্ছে, ইকরা অর্থাৎ পড়ূন। মহান প্রতিপালক রবের নামে পড়ার তাগিদ দেওয়ার মাধ্যমে মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাজিলের সূচনা। পড়ার মাধ্যমে মানুষ জ্ঞানার্জন করে। এমনকি ইসলাম জানার জন্যও জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। সূরা মুহাম্মদের ১৯নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন, ‘জেনে নাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’ এখানে জেনে নাও মানে, জ্ঞানার্জন করো। আল্লাহর রাসূল আরও জোর দিয়ে বলছেন, জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক নর-নারীর ওপর অবশ্য কর্তব্য।

বর্তমান সমাজ ও ইকরাঃ

কিন্তু বর্তমান সমাজে পড়া মানে কি জ্ঞান অর্জন? নাকি সার্টিফিকেট জোগাড় করা? বই পড়া মানে কি বুঝায়। এটাই প্রিয় পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে চাই। পড়ার গুরুত্ব ইসলামের শুরু থেকেই ছিল এবং এখনও আছে। কালামে পাকে যে ইরশাদ হয়েছে ইকরা-এর মানে কি শুধুই পড়া? শুধু বই পড়াকেই বুঝানো হয়নি। সবই পড়তে বলা হয়েছে। আল্লাহর সৃষ্টিজগৎকে পড়, প্রকৃতিকে পড়, আকাশ, বাতাস, পাহাড়, সমুদ্রকে পড়। তার বিশাল জলরাশিকে পড়। তাছাড়াও নিজেকে পড়; আমার দেহরাজ্যকে পড়, আমার অন্তরাত্মাকে পড়, হৃদয়কে পড়। যেখানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর নাম জপছি আমার সেই কলব-কে পড়। ইকরা ও তার উদ্দেশ্য এটুকুই।

জ্ঞানী ও মূর্খের মধ্যে কী পার্থক্য ? দেখা যায়, যারা নিজেদের জ্ঞানের পথে নিয়োজিত করেছে, পড়েছে, বুঝেছে, বাস্তব জীবনেও তারা ভালো করছে। আর যারা তাতে বেশি গুরুত্ব দেয়নি তাদের জীবনও তেমনি। জানার প্রতি কুরআনের তাগিদও তাই- ‘বল, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?’ (সূরা আয-যুমার :৯)। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করে জ্ঞানী হয়, তার দ্বারাই আল্লাহ অজস্র নেয়ামত অনুধাবন সম্ভব। এর মাধ্যমে আপনিতেই তার মাথা নুইয়ে আসে।

ইলম ও ইকরাঃ

আল্লাহকে সে বেশি ভালোবাসতে শেখে। সে কথাই কুরআন বলছে, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই আল্লাহকে বেশি ভয় করে (সূরা আল ফাতির :২৮)। ইসলামকে জানতে হলে, জীবনের সব পর্যায়ে দ্বীনকে মানতে হলে জানার বিকল্প নেই। এ জন্য জ্ঞান বা ইলমের ব্যাপারে প্রিয় নবীও বলেছেন। ইলম অন্বেষণ করা এতই মর্যাদাপূর্ণ যে, তালেবে ইলমের জন্য আসমান ও জমিনের সবকিছুই ইস্তেগফার করে, আল্লাহর কাছে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেন :তালেবে ইলমের জন্য জগতের সবকিছুই (আল্লাহতায়ালার দরবারে) ক্ষমা প্রার্থনা করে। এমনকি পানির মাছও। (আবু দাউদ, তিরমিযী)

ইসলাম দুনিয়া জ্ঞানার্জনকে কখনো নাকচ করে দেয়নি। সমাজে চলতে হলে যেসব জ্ঞান দরকার, সেসব জ্ঞানের মাধ্যমে সভ্য নাগরিক হওয়া যায়, চরিত্রবান হওয়া যায়; এমনকি কারিগরি কিংবা ব্যবসায়িক অনেক জ্ঞানও প্রয়োজন। সে জন্য বই পড়া, জ্ঞান চর্চা হতেই পারে। এক কথায় বলা যায়, উপকারী ও নৈতিক সব জ্ঞানকেই ইসলাম অনুমোদন দিয়েছে। তবে বলে রাখা প্রয়োজন, সব জ্ঞানের উৎস মহাগ্রন্থ আল কুরআন। পড়ার ক্ষেত্রে কুরআনকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার।