ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির উপর মনোনিবেশ করুন

আকীদাহ Contributor
ইতিবাচক
ID 181614220 © Leo Lintang | Dreamstime.com

ইতিবাচক মনোভাব সবসময় প্রয়োজনীয়।

ইতিবাচক মনোভাবের বিপরীত একটি ঘটনাঃ

আমার বয়স যখন সাত বছর, আমি একটি হালাকা(ধর্মীয় পাঠ) এ যোগ দিতাম। আমরা সেখানে অনেক কিছু শিখতাম। তবে আমাদের কিছু বিধিনিষেধ সম্পর্কেও শেখানো হত। যেমন এয়া?গ্রীষ্মের দিন ক্লাসে প্রবেশের পরে, আমার শিক্ষক এবং আমার মধ্যে কথোপকথন হয় এরুপঃ

“এটা কি?” আমার শিক্ষক আমার কব্জির চারপাশে চকচকে ব্রেসলেটটি দেখতে পেয়ে বলেন।

“এটি একটি ব্রেসলেট; আমার দাদি দিয়েছিলেন।

“আমি কি তোমাকে বলিনি যে গহনা হারাম?”

“তবে এটি রৌপ্য। ছেলেরা রূপা পরতে পারে। আমার দাদি আমার জন্মদিনে দিয়েছিলেন।

“আমি কি তোমাকে বলিনি যে জন্মদিন পালন করা হারাম?” তাঁর অভিব্যক্তি আরও গুরুতর ছিল।

“না, না পালন করিনি শুধু  ম্যাকডোনাল্ডসে গিয়েছিলাম।”

“আমি কি তোমাকে বলিনি ম্যাকডোনাল্ডস হারাম ?!”

সত্যি, এমনটাই ঘটেছিল। এতগুলো ‘না’ শুনে আমার ছোট মন দমে গিয়েছিল। বড় হয়েও অনেক মুসলিম ক্রমাগত “না” শব্দটি শুনে। “না, আপনি এটি করতে পারবেন না”, “না আপনি এটি খেতে পারবেন না”, “না আপনি দেখতে পাচ্ছেন না।” আমি একবার একটি রসিকতা শুনেছিলাম যে কয়েকটি মসজিদকে “সুখের অনুমতি নেই” কেন্দ্র বলা উচিত। অবশ্যই, জীবনে গণ্ডিগুলি প্রয়োজনীয়, কিন্তু যখন আমরা তাদের উপর শুধুই সেগুলির উপর মনোনিবেশ করি তখন কী ঘটে? কেন ইতিবাচক ভাবে ভাবি না?

যখন আমাদের ক্রমাগত যা করতে নিষেধ করা হয়েছে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন আমরা আল্লাহর সাথে এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলি যা ভয় এবং উদ্বেগের ভিত্তিতে থাকে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে, একটি আত্ম-ধ্বংসাত্মক প্রবণতা বিকশিত হয়। আমাদের কিছু ভাই-বোন এই প্রবণতার কারণে মারাত্মক ব্যাধিতে ভুগছে। এই শব্দটিকে স্ক্র্যাপুলোসিটি বলা হয় এবং এটি একটি বিপজ্জনক ও দুঃখজনক অবস্থা। আমি একবার এমন এক ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করেছি, যিনি ওযু করতে এক ঘন্টা সময় এবং নামাজ পড়তে দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় নিচ্ছিলেন। তিনি সেগুলি নিখুঁত না হওয়া পর্যন্ত বার বার করছিলেন। তিনি এই ভয়ে করেছিলেন যে আল্লাহর প্রতি তার ভুল ধারণা থাকার কারণে যে তাঁর প্রার্থনা কবুল হবে না।

আমি মনে করি এই জাতীয় লোকদের সাহায্য করার অন্যতম উপায় হ’ল তাদের “হ্যাঁ ধর্ম” হিসাবে ইসলাম সম্পর্কে তাদের ধারণার পুনর্নির্মাণ করতে বলা। ইতিবাচক দৃষ্টি উজ্জ্বল করতে হবে। ভাবতে হবে, হারাম করা ব্যতীত সবকিছুই পূর্বনির্ধারিতভাবে হালাল।

ইতিবাচক মনোভাব অনুসরণ করুন :

আমরা ২৪ ঘন্টা সময় পাই এবং আমাদের প্রার্থনা করার মাধ্যমে আমাদের স্রষ্টার সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য দিনের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ব্যয় করি। যা প্রার্থনার মধ্যে দিনের ১.৭%। বছরে মাত্র এক মাস, আল্লাহ আমাদের উপবাসের মাধ্যমে এবং তাঁর উপাসনায় মনোনিবেশের মাধ্যমে স্ব-শৃঙ্খলা অনুশীলন করতে বলেছেন। এবং বছরের ৯২ শতাংশ আমাদের যখনই ইচ্ছা খাওয়ার জন্য রেখে গেছে যা হালাল।

হ্যাঁ, আল্লাহ আমাদের ধনীদের প্রায় ২.৫% যাকাত দিতে বলেছেন তবে, আপনি এখনও আপনার সম্পদের প্রায় ৯৭.৫% রাখতে পারবেন।

আমরা যদি আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম হয়ে থাকি তবে আল্লাহ তার বান্দার মাফের জন্য আমাদের পুরো জীবনে একবার মক্কায় হজ্জ করার আহ্বান জানিয়েছেন! আপনি যদি ৮০ বছর বাঁচেন, একটি হজ্জ পালন করতে আপনার সময়ের প্রায় ০.০১৭% প্রয়োজন। আমাদের জন্য ক্ষতিকারক কয়েকটি জিনিস ব্যতীত আমরা সমস্ত কিছু খেতে এবং পান করতে পারি।

আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা দেখায় যে ইসলাম একটি “হ্যাঁ ধর্ম”।

নবী মুহাম্মদ(সা) যাতে ইতিবাচক ছিলেনঃ

নবী মুহাম্মদ( সা.) তাঁর পথে আসা প্রায় সমস্ত অনুরোধকে “হ্যাঁ” বলেছিলেন:

মানুষকে ক্ষমা করা এবং অন্যায়ের সামনে ধৈর্যধারণ করা।

অন্যান্য মানুষের সংস্কৃতি এবং রীতিনীতিগুলির প্রতি নমনীয়তা এবং সহনশীলতা প্রদর্শন।

প্রত্যেককে রায় না দিয়ে নিজের সময়ে ইসলামের আহ্বান গ্রহণ করতে দেওয়া।

অন্যকে সহায়তা করা।

আশাবাদী, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং হাসিখুশি লোকদের সাথে দেখা করা।

এমনকি এমনও বলা হয়ে থাকে যে যদি শাহাদাতে যদি না, না থাকত তবে নবী “না” শব্দটি কখনও ব্যবহার করতেন না।

আমি আপনাকে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্নির্মাণ করতে এবং ইসলাম কীভাবে গ্রহণের চেয়ে বেশি দেয় তার নিজস্ব তালিকা তৈরি করতে উত্সাহিত করি। ইসলাম যা নিষেধ করে তার চেয়ে বেশি যা প্রদান করে তার প্রতি মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করি। আসুন এই “হ্যাঁ” মানসিকতার দিকে ফিরে আসি। আসুন আমরা  উপহার এবং আশীর্বাদগুলিকে স্বীকৃতি জানায় এবং আল্লাহ আমাদের যা দিয়েছেন তা উপলব্ধি করি। আসুন আমরা ইতিবাচক হয়ে নিজেদের অস্তিত্বের আনন্দ খুঁজে পাই এবং আমাদের প্রভুর সাথে দেখা করার প্রত্যাশায় থাকি।

লিখেছেন করিম সেরেজাল্ডিন

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.