SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

ইন্টারনেটে নিষিদ্ধ হাতছানি, সুরক্ষিত থাকুন

শিশু ০৬ জুন ২০২০
ইন্টারনেটে হাতছানি
ID 172388319 © Vonghoong | Dreamstime.com

গোটা পৃথিবীকে আজ করোনা গৃহবন্দী করে দিয়েছে। অফিস, স্কুল, কলেজ, খেলা সব বন্ধ। এই অবস্থায় মানুষের জীবনের সবথেকে বড় ভরসা ইন্টারনেট। এর ব্যবস্থার মাধ্যমেই বাইরের দুনিয়ার সাথে সংযোগ রাখা, কাজকর্ম চলছে। গোটা পৃথিবী জুড়ে প্রায় দেড়শো কোটি স্কুল বন্ধ। বাংলাদেশেও সমস্ত স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনা করতে হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে । এই দেশে পর্যাপ্তভাবে ডিভাইস না থাকায় ৫০শতাংশ বাচ্চা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে না কিন্তু সংখ্যার বিচারে প্রায় দু’কোটিরও বেশি বাচ্চা এই ইন্টারনেটর সাহায্য নেয়।

ইন্টারনেটে এখন সবকিছুঃ

বাংলাদেশ টেলি সংস্থা মুঠোফোন একটি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে বাচ্চারা ঘরবন্দী থাকলেও তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে ইন্টারনেট,  এর ফল অত্যন্ত ভয়ংকর। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোশিয়েশন জানিয়েছে, লকডাউনে ঘরবন্দি দেশের প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ শিশু-কিশোর (প্লে থেকে দশম শ্রেণি)। সরকার স্কুল-কলেজের নির্দেশনা অনলাইনভিত্তিক ক্লাস করায় ফলে ৪ থেকে ১৪ বছরের শিশু-কিশোররা এক প্রকার বাধ্য হয়েই ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ইন্টারনেটে কাটছে তাদের সময়।

আর এই কারণেই দেশের ১ কোটি ২০ লাখ শিশু-কিশোর ইন্টারনেট ব্যবহারের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। গত ৬ মে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) খুব কম বয়সের শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, বিশ্বের প্রায় ১৫০ কোটি স্কুল-কলেজ বন্ধ। এরা লেখাপড়া, খেলাধুলা, ভিডিও গেমস দেখতে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এতে করে তারা সাইবার ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে।

পাশাপাশি, একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার সার্ভে রির্পোটে উঠে এসেছে কয়েকটি তথ্য যেমন বাংলাদেশি শিশুদের পড়তে  হচ্ছে ধর্মীয় উস্কানির মধ্যে। আবার অনেক ছেলেমেয়ে অজানা ছেলেমেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলে এমনকি তারা দেখা করতে যাওয়ার কথা অবধি স্বীকার করেছে।ইন্টারনেট যেহেতু নিজের ঘর অবধি নিয়ে যাওয়া যায় তাই বাড়ির লোক  নজরদারি  চালাতে পারবে না।এই ব্যাবস্থার সুরক্ষার ব্যাপারটি নিয়ে তেমন কোনো আইন নেই। যেসমস্ত আইন আছে সেগুলি দেশের সার্বিক নিরাপত্তার উপর।

ইন্টারনেটে অশ্লীলতার হাতছানিঃ

বাংলাদেশে ব্যাক্তিগত ডিভাইসের উপর নজরদারি চালানো হয় না।তাই অশ্লীল ভিডিও, চ্যাট,গেম এসব বিষয় নিয়ে ছেলেমেয়েদের আসক্তি কতটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। আমরা জানি ইন্টারনেট খুললেই কত রকমের আসক্তির জিনিস উপস্থিত হয়।যা দেখে আমরা নিজেদের সামলাতে না পেরে প্রলোভনে পা দিয়ে ফেলি।বাংলাদেশি অভিভাবকদের সাথে এই নিয়ে সরকার তেমন কোনো আলোচনাতেও আসতে পারছেনা যেহেতু টেলিকম দপ্তর এখনও অবধি কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আমরা সকলেই জানি এই ইন্টারনেট কতটা ক্ষতিকার প্রতিটি বাচ্চার কাছে।

সালামওয়েব ও ইন্টারনেটঃ

এই জায়গায় দাঁড়িয়ে সালামওয়েব ব্রাউজার আপনার শিশু ও পরিবারের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট রূপায়ন করেছে। এই ব্রাউজারে রয়েছে সালাম প্রোটেক্টের মতো বৈশিষ্ট্য। যা সমস্ত অশ্লীল তথ্য এবং ভিডিও ছেঁকে ফেলে। কোন উস্কানিমূলক মন্তব্য বা ধর্মীয় অপমানসূচক তথ্য সম্পর্কে গ্রাহককে সতর্ক করে। পাশাপাশি এই ব্রাউজার রয়েছে সালাম টকস ফিচার। যা আপনাকে যে কোন সাইটে কমেন্ট করার স্বাধীনতা দেয়। যাতে ওয়েবসাইট সম্পর্কে সৎ রিভিউ আপনি পান। তবে হ্যাঁ এ ক্ষেত্রেও কেউ অশ্লীল মন্তব্য করতে পারবেন না। তা রোধের যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, মেধার বিকাশের পূর্বে শিশুদের মন যদি কোনো খারাপ জিনিসের প্রতি আসক্ত  হয়ে যায় তাহলে সেই শিশুর ভবিষ্যত ভারসাম্য হারিয়ে যাবে। পড়াশোনা, ক্লাস ইত্যাদির বাইরে ইন্টারনেটে গেম আছে তার প্রতি ছেলেমেয়েরা অতিরিক্ত মন দিয়ে ফেলছে। নিজেদের জীবন সম্পর্কে উদাসীনতা বাড়ছে প্রতিদিন। দিনের বেশিটা সময় ইন্টারনেটে বসেই  কাটিয়ে দিচ্ছে।পরিবারের লোকদের কথা ভুলে যাচ্ছে। জীবনকে নিজের মতো করে চালিত করতে শুরু করছে। বাচ্চারা ইন্টারনেট হাতে পাওয়ার ফলে অধৈর্য্য হয়ে পড়ছে। এই সমস্ত বিষয় বাংলাদেশি নাগরিকদের যথেষ্ট ভাবাচ্ছে।

তবে ইন্টারনেটের বহু ভালো দিকও আছে। গৃহবন্দী অবস্থায় জীবনকে সচল রাখার একমাত্র পথ। অফিসের কাজ বাড়িতে বসে করা হচ্ছে যেমন খাদ্য দ্রব্যও পাচ্ছি আমরা বাড়িতে বসে। স্কুলের পড়াশোনাও চলছে ইন্টারনেটর মাধ্যমেই। বন্ধুদের সাথে আলাপ আলোচনা চালাতে পারা যাচ্ছে একমাত্র ইন্টারনেটের মাধ্যমে।আমাদের ডাক্তারের সাথে আলোচনাও যেমন করতে পারছি ঘরে বসে তেমনি ওষুধও পাচ্ছে বাচ্চাদের জন্য অভিভাবকরা বাড়িতে থেকেই।