মতামত ১০-সেপ্টে.-২০২০

ইসলামি ইতিহাসের বিজ্ঞানীরা কি সেকুলার বা নাস্তিক ছিলেন? 

Muhammad Nassar
কাজী একরাম
শিক্ষাথী, মাহাদুল ফিকরি ওয়াদদিরাসাতিল ইসলামিয়াহ, ঢাকা। ধর্মতত্ত্ব ও গবেষণাকেন্দ্র।

ইসলামের প্রকৃত জ্ঞানদর্শন সম্পর্কে ভাল অবগতি না থাকার কারণে, ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে ভাল পড়াশোনা না থাকার অভাবে, খ্রিষ্টধর্ম তথা অন্যান্য ধর্মের ম ইসলামকেও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিপক্ষ বানিয়ে দিয়েছে একশ্রেণীর স্যেকুলার ও নাস্তিকরা। ধর্ম ও বিজ্ঞানের সংঘাতের যে ঐতিহাসিক বাস্তবতা, তার যথাযথ বোঝাপড়া না করে এলোপাতাড়ি অভিযুক্ত করে দিয়েছে ইসলামকেও। ইসলাম ও মুসলমানদের ইতিহাস সম্পর্কে তাদের এমন ভ্রান্তচিন্তার উদ্ভব হতে পেরেছে ইসলামবিদ্বেষী ইউরোপীয়দের ইতিহাস পড়ার মধ্য দিয়ে। ইসলামকে বুঝতে হলে যে ইসলামের প্রকৃত জ্ঞানউৎসের আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়, সে বিষয়টা সম্পর্কেও এরা সম্পূর্ণ উদাসীন।

ধর্ম ও বিজ্ঞান সতীনের ন্যায় মিলেমিশে বসবাস করা সম্ভব নয়’র প্রচলিত যে তত্ত্ব, তা যে ইসলামের তরফে অসত্য, সেটা জেনে কি না জেনে, নিছকই ধর্মবিরোধিতার জায়গা থেকে একশ্রেণির সেকুলার ও নাস্তিকরা দাবি করে থাকে যে, ইসলামের ইতিহাসের মহান বিজ্ঞানীগণ ছিলেন সেকুলার বা নাস্তিক। অথচ সত্যিকার ইতিহাসের বয়ান এর সম্পূর্ণ বিপরীত। মুসলিম দুনিয়ার বড় বড় বিজ্ঞানীগণ ছিলেন ধার্মিক মুসলমান। বিজ্ঞানী ও দার্শনিক হওয়ার পাশাপাশি তারা একইসাথে, একইসময়ে ছিলেন আলিম, ফকীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ধর্মতাত্ত্বিক…

ড. আহয়াদ হাসান এ বিষয়ে  کیااسلامی تاریخ کے تمام بڑےسائنسدان سیکولراورملحدتھے؟  অর্থাৎ ইসলামি ইতিহাসের সকল বড় বিজ্ঞানীরা কি সেকুলার এবং নাস্তিক ছিল শিরোনামে একটি রচনায় বলেন–

سیکولر اور ملحد طبقے کا یہ دعوی ہے کہ اسلامی دنیا کے عظیم سائنسدان سیکولر اور ملحد تھے اور سائنس اور مذہب کبھی اکھٹے نہیں چل سکتے ۔ ہماری یہ تحریر اسی دعوی کی حقیقت واضح کرتی ہے۔ اس سے یہ بات کھل کر سامنے آئے گی کہ اسلامی دنیا کے عظیم سائنسدانوں کی اکثریت سنی مسلمانوں پہ مشتمل تھی اور تمام نامور سائنسدان مذہب سے وابستہ تھے اور ان میں سے کوئی بھی سیکولر یا ملحد نہیں تھا بلکہ ان میں سے کچھ لوگ تو وہ تھے جو بیک وقت مولوی ،عالم ،فقیہ اور سائنسدان تھے۔“

ড. আহয়াদ হাসান তাঁর লেখায় ইসলামি ইতিহাসের বড়বড় স্বনামধন্য চৌত্রিশ জন বৈজ্ঞানিক মনীষীর নাম ও কীর্তিনামা উল্লেখ করেন, তাদের সকলেই ছিলেন ধার্মিক মুসলিম। জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার সাথেসাথে ধর্মচর্চার ক্ষেত্রেও তারা ছিলেন সমানভাবে  অগ্রসর। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যেমন ছিলেন অনুকরণীয়, তেমনি ধর্মীয় জ্ঞানের ক্ষেত্রেও ছিলেন আদর্শ। তাঁর উল্লেখ করা সেই তালিকার মধ্যে আছেন ইবনে বাজা, ইবনে তোফায়েল, ইবনে রুশদ, উমর খৈয়াম, আল ফারাবী, ইবনে সীনা, আল খাওয়ারেজমী, ইবনে হাইয়ান, আল কিনদী, ইবনে খালদুন, নাসিরুদ্দিন তুসী, আল গাজালী এবং মাসুদী সহ বহু তারকা মনীষী।

তিনি দেখান, উপরোক্ত তালিকার কেউই মতাদর্শগত ভাবে সেকুলার কিংবা বিশ্বাসের দিক থেকে নাস্তিক ছিলেন না। মাসউদী এবং নাসিরুদ্দিন তুসী ছিলেন শিয়াপন্থী। কিন্তু সকলেই ইসলামি দুনিয়ার মহান বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির অধীনে প্রশিক্ষিত হয়েছিলেন এবং তারা ইসলামি বিশ্বে বাস করতেন এবং ইসলামি পরিবেশ দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত ছিলেন । সেকুলার এবং নাস্তিক শ্রেণীর দাবি ও আপত্তি যে, ইসলামি বিশ্বের সকল মহান বিজ্ঞানীগণ সেকুলার এবং নাস্তিক ছিলেন এবং বিজ্ঞান ও ধর্মীয়তার কোন যোগসুত্র নেই, তা একটা নির্জলা মিথ্যা! অবাস্তব এবং ঐতিহাসিকভাবে ভিত্তিহীন। ইসলামের সাথে এমন আপত্তি আদৌ যায় না।

বস্তুত, বিজ্ঞানের সাথে ইসলামের কোন লেনদেন নেই। ইসলাম বিজ্ঞানের সঙ্গে কোন সংঘাত তৈরি করে না। ইসলামের আচরণ এক্ষেত্রে বরং সহযোগিতামূলক। আমাদের স্মরণে রাখা দরকার যে, বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের যে বিরোধ, ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের যে সংঘাত, তার উৎপত্তি ইসলাম নয়, খৃষ্টবাদ। তার প্রবক্তা মুসলিম দুনিয়া নয়, ইউরোপ!

প্রাসঙ্গিক নিবন্ধসমূহ
মতামত
মতামত ২৮-আগস্ট-২০২০
Zeeshan R

সর্বপ্রথম যে মুসলিম দেশ থেকে মুসলমানরা ব্রিটেনে গিয়েছিল সে দেশটি হলো ইয়েমেন। সে সময় ইয়েমেনিরা ব্রিটিশদের বাণিজ্য জাহাজে নাবিক হিসেবে কাজ করতো। সেই সুবাদেই তারা ব্রিটেনে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছিল। ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে তারা ব্রিটেনে সর্বপ্রথম মসজিদ তৈরি করেছিল।

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ২৩-জুলাই-২০২০
Zeeshan R

কুরআন শরীফকে যদি এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, তাহলে তা ছোটদের বোঝাতে অনেক বেশি সুবিধা হবে বলেই মনে হয়। ছোটবেলা থেকে ধর্ম সম্পর্কে সঠিক এবং সুশিক্ষা তাদের বড় হয়ে সাচ্চা মুসলিম হতে সাহায্য করবে

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ১৭-জুন-২০২০
Muhammad Nassar
Zeeshan R

আশ্রয় প্রার্থনায় শরণার্থী হওয়া বা আরও সমৃদ্ধ ভূমির সন্ধানে অভিবাসী হওয়ার পরিবর্তে, অভিবাসনের সন্ধানকারী মুসলমানদেরকে সমগ্র ইউরোপে অস্বীকার করার জন্য বলা হয়েছে

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ০৪-জুন-২০২০
Tamalika Basu

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ২৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে পানিকে মানবাধিকার হিসাবে গণ্য করা হয় না। এটিকে কুরআনের সাথে তুলনা করে দেখুন যা মানব অস্তিত্বের শুরু থেকেই চারটি প্রয়োজনীয় বিষয়কে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেঃ খাদ্য, পানি, পোশাক এবং আশ্রয়।

চলবে চলবে