ইসলামী অভিবাদন সালামের শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়?

two old men on the street firmly shaking hands
© Giuseppe Sparta | Dreamstime.com

প্ৰত্যেক জাতি ও ধর্মের একে অপরকে অভিবাদন জানানোর নির্দিষ্ট ধরণ ও বৈচিত্র্য আছে। যেমন ইউরোপে সুপ্রভাত বলার চল আছে, হিন্দুদের মধ্যে নমস্কার ইত্যাদি বলা হয়। আরবে বলা হতো আল-নিমাহ্ যার অর্থ সুপ্রভাত, এর থেকে বোঝানো হতো কোনো ব্যক্তি যদি সকালে কোনো শুভ ঘটনার সাক্ষী হয় তাহলে পুরোদিনটাই ভালো যাব।

ইসলামের সূচনাকালে আল্লাহর নির্দেশিকা অনুযায়ী সমস্ত মুসলমানদের আল-সালামু আলায়কুম বলতে বলা হয় এবং নির্ধারিত করে দেওয়া হয় যে এই সালাম শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্যই প্রচলিত। সালামের আক্ষরিক অর্থ শান্তি, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা কিন্তু যেহেতু ইসলাম অনুযায়ী এসবই আল্লাহের দান তাই বলা হয় “আল্লাহ্ তোমাকে সকল প্রকার বিপদ থেকে নিরাপদ রাখুন!”

ইবন-আল-কাইম বলেন বাদাই-আল-ফাওয়াদ(১৪৪):

সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ বলেছেন প্রত্যেক মুসলমান একে অপরকে আল-সালামু আলায়কুম বলে অভিবাদন জানাতে। এই সালাম নিঃসন্দেহে অন্য সকল জাতির কল্পনাশ্রয়ী ও অসম্ভব অভিবাদনের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর। “ঈশ্বরের আশীর্বাদে তুমি শতায়ু হও” বা সুপ্রভাতের মতো অভিবাদন কোনো অভ্রান্ত ধারণার উপর তৈরি নয় এবং সবটাই কাল্পনিক বিশ্বাসে ভর করে তৈরি। সেই কারণে সালাম দেওয়া অন্য সবকিছুর থেকেই শ্রেষ্ঠ, কারণ এর অর্থ কারও জীবনের শান্তি, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। এগুলি ছাড়া যেকোনো মানুষের জীবনই অচল। একজন মানুষের জীবনে দুটি লক্ষ্য: নিজেকে সমস্ত ক্ষতির থেকে দূরে রাখা এবং কিছু ভালো ঘটনার অংশীদার হওয়া।

হজরত মহম্মদ(সাঃআঃ) বলেন সালামকে মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। আল-বুখারী (১২, ২৮, ৬২৩৬), মুসলিম (৩৯), আহমেদ (২/১৬৯), আবু দাউদ (৫৪৯৪), আল-নিসাই (৮/১০৭) এবং ইবন হিবানে(৫০৫) আব্দ-আল ইবনের একটি ঘটনার বিবরণ দেওয়া আছে। আল্লাহর দূতকে একজন জিজ্ঞাসা করে ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ জিনিস কী? উত্তরে বলেছিলেন, অন্যদের খেতে দেওয়া এবং সেই সমস্ত মানুষদের সালাম দেওয়া যাদের তুমি জানো এবং যাদের জানো না।

ইবন হাজার বলেন আল ফথ-এ (১/৫৬):

কোনো ব্যক্তিকে অহংকারবশত অথবা দুর্বলতাবশত নির্দিষ্ট করে দেখো না। প্রত্যেককে সালাম দাও ইসলামের প্রতীক হিসেবে এবং ইসলামের ভাতৃত্বকে বাড়ানোর জন্য।

ইবন-রজব বলেন আল ফথ-এ (১/৪৩):

অভুক্তদের খাওয়ানো ও পরষ্পরের মধ্যে সালাম ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে হাদিস। যেহেতু এর দ্বারা ভালো কথা ও কাজ দুটিই হয়, তাই এটাই তোমার সর্বোচ্চ কর্তব্য যা একজন মুসলমান হয়ে তুমি করবে।

আল-সানুসি বলেন ইকমাল আল-মুয়ালিমে (১/২৪৪):

সালামের অর্থ একে অপরকে অভিবাদন জানানো যা পরষ্পরের মধ্যে সৌহার্দ্যের বীজ বপন করবে এবং হৃদয়ে বন্ধুত্বের সূত্রপাত ঘটবে। হতে পারে তাদের হৃদয়ে কোনো দুর্বলতা আছে যা তুমি সালামের মধ্যে দিয়ে দূর করতে পারো, আবার হয়তো কোনো শত্রুতা আছে যা বন্ধুত্বে পরিণত করে সালাম।

আল-কাদি বলেন ইকমাল আল-মুয়ালিমে (১:২৭৬):

নবী হজরত মহম্মদ তাঁর অনুসরণকারীদের হৃদয়কে কোমল করতে বলেছিলেন। সর্বশ্রেষ্ঠ ইসলামীয় আচরণ হলো একে অপরকে ভালোবাসা ও অভিবাদন জানানো। তিনি মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার পরিবেশ বাড়ানোর জন্য উপহার ও খাবার দেওয়া নেওয়া করার কথা বলেন এবং একে অপরকে সালাম দিতে বলেন। একে অপরের প্রতি হিংসা, বিশ্বাসঘাতকতা, সন্দেহপ্রবণতা থেকে বিরত থাকতে বলেন, এছাড়াও একে অপরের কাজে নজর রাখা, গুজব রটানো এসব কাজেও কঠিন হতে বলেন।

ভালোবাসা ও শান্তি হলো ইসলামের একমাত্র পন্থা ও প্রধান স্তম্ভ। প্রত্যেক মানুষের উচিত প্রত্যেককে সালাম দেওয়া, সে ব্যক্তি জানা-অজানা যেই হোকনা কেন। অবশ্যই যে ব্যক্তি আল্লাহকে মেনে চলবে, সে পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম দেবে। এর দ্বারা শুধু মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতিই বাড়েনা, ছড়িয়ে যায় উম্মতের বার্তা সালামের মধ্যে দিয়ে। সেজন্যই মহানবী সালামকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন সালাম চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে।