SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

ইসলামী অর্থনীতি-র সূচনা কেন হল?

অর্থনীতি ২৫ জানু. ২০২১
ফোকাস
ইসলামী অর্থনীতি
© Ababil12 | Dreamstime.com

ইসলামী অর্থনীতি হলো কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক পরিচালিত অর্থব্যবস্থা। আমাদের ইসলামী অর্থনীতি ব্যবস্থায় সম্পদ উপার্জন ও ব্যয়ের ব্যবস্থা ন্যায়, সুবিচার ও ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক প্রণীত নীতি-পদ্ধতি অনুসরণে যাবতীয় সম্পদের সামগ্রিক কল্যাণধর্মী ব্যবস্থাপনাই হল ইসলামী অর্থব্যবস্থায় মুল লক্ষ্য।

ইসলামী অর্থনীতি ও প্রচলিত অর্থনীতি

ইসলামী অর্থব্যবস্থায় আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, আত্মিক স্বাধীনতা ও মুক্তির সমান সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বাধীনতার উপর জোর দেওয়া হয়, অর্থনৈতিক মুক্তি সেখানে অবিদ্যমান। অপরদিকে সমাজতন্ত্রে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক মুক্তির উপর জোর দেওয়া হয়ে, কিন্তু রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বাধীনতা সেখানে অনুপস্থিত।

পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা চরমপন্থী ও শাসকশ্রেণীর স্বেচ্ছাচারিতামূলক নীতিমালার উপর প্রতিষ্ঠিত। অপরদিকে ইসলামী অর্থব্যবস্থা মধ্যমপন্থী এবং কুরআন-সুন্নাহ নিয়ন্ত্রিত নীতিমালা অনুসরণ করে। সম্পদ পুঞ্জিভূত করে রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় কাজ।

আল্লাহ বলেন,

“সম্পদ যেন তোমাদের ধনীদের মাঝে পুঞ্জিভূত না থাকে।” (আল কুরআন-৫৯:৭)

সম্পদের বৈষম্য দূরীকরণে ইসলামী অর্থনীতি-তে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী সকল সম্পদের মূল মালিক হলেন আল্লাহ। তবে যোগ্যতা, দক্ষতা ও প্রচেষ্টার ভিত্তিতে মানুষ ধন-সম্পদ উপার্জন করে সীমাবদ্ধভাবে তা ভোগ করতে পারে, কিন্তু সকল সম্পদ নিজের কাছে পুঞ্জীভূত করে রাখতে পারবে না।

প্রচলিত অর্থনীতির সাথে ইসলামী অর্থনীতি-র এই পার্থক্যগুলির আলোকেই ইসলামী অর্থনীতির সূচনার কারণ সুস্পষ্ট হয়ে যায়। এরপরও নিম্নে ইসলামী অর্থব্যবস্থার কিছু মূলনীতি উল্লেখ করা হল যার দরূণ বিষয়টি পাঠকের নিকট আরও পরিষ্কার হবে।

ইসলামী অর্থব্যবস্থার মূলনীতি

প্রতিটি অর্থনীতির মত ইসলামী অর্থনীতিরও নিজস্ব কিছু মূলনীতি ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর এই সকল মূলনীতিই মূলত ইসলামী অর্থনীতির মূলভিত্তি। কুরআন-হাদিসের আলোকে কিছু মূলনীতি সংক্ষেপে নিম্নে উল্লেখিত হলঃ

অর্থোপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের পার্থক্য করা

ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে মানুষের মুক্ত স্বাধীনতা নেই। বরং আল্লাহ তা’আলা যেসকল উপায়ে সম্পদ উপার্জন হালাল করেছেন, কেবল সে সকল উপায়েই উপার্জন করতে হবে। আল্লাহ বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা হয় কেবল তাই- বৈধ।” (আল কুরআন-৪:২৯)

সম্পদ কুক্ষিগতকরণে নিষেধাজ্ঞা

ইসলাম মানুষকে ইচ্ছা মতো সম্পদ সঞ্চয় করে রাখতে নিরুৎসাহিত করে। বরং এর পরিবর্তে কল্যাণমূলক কাজে ও দারিদ্রতা দূরীকরণে সম্পদ ব্যয়ে উতসাহিত করে।

আল্লাহ বলেন,

“আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর রাহে ব্যয় করে না, তাদের কঠোর শাস্তির সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।” (আল কুরআন-৯:৩৪)

ব্যয় ও বিনিয়োগের নির্দেশ

সম্পদ পুঞ্জীভূত করে রাখার পরিবর্তে ইসলাম মানুষকে নির্দেশ দেয় তা প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করার এবং হালাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করার। আল্লাহ বলেন, “তোমার কাছে তারা জিজ্ঞেস করে যে, তারা কি ব্যয় করবে? বলে দাও-যে বস্তুই তোমরা ব্যয় করো, তা হবে তোমার পিতা-মাতার জন্য, আত্নীইয়স্বজনের জন্য, অনাথ-এতীমদের জন্য, অসহায়-দুঃস্থদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য। আর তোমরা যে কোনো সৎকাজই করো না কেন, নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত উত্তমরূপেই আল্লাহর জানা রয়েছে।” (আল কুরআন-২:২১৫)

পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় মনে করা হয়, সম্পদ সুদভিত্তিক বিনিয়োগ করলে অতিরিক্ত লাভবান হওয়া যাবে। কিন্তু ইসলাম তা অস্বীকার করে।

“আল্লাহ তা’আলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং দান খয়রাতকে বর্ধিত করে দেন। তিনি পছন্দ করেন না কোনো কাফিরকে।” (আল কুরআন-২:২৭৬)

সুদভিত্তিক অর্থ বিনিয়োগ ও লেনদেনের কারণে সম্পদ একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর কাছে পুঞ্জিভূত হয়ে যায়। গরীবের হাতে সম্পদ থাকে না। অর্থাৎ, সম্পদের একমুখী বন্টন হয়। এর ফলে গরীবের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পায়। যা বাজারের সামগ্রিক চাহিদা কমিয়ে দেয়। শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এক কথায়, পুরো অর্থব্যবস্থা ধ্বসে যায়।

পারস্পরিক সহযোগিতা

পারস্পরিক সহযোগিতা ইসলামী অর্থব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ বলেন,” যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত। আর যদি তাঁর ঋণ ক্ষমা করে দাও, তবে তা খুবই উত্তম যদি তোমরা উপলব্ধি করো।” (আল কুরআন-২:২৮০)

অনুরূপভাবে আল্লাহ তা’আলা গোপনে মানুষকে দান করতে উৎসাহিত করে বলেন, “যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত করো, তবে তা কতইনা উত্তম! আর যদি গোপনে দান করো এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম।…” (আল কুরআন-২:২৭১)

যাকাত

প্রয়োজনের অতিরক্তি সম্পদ যদি কারও নিকট থাকে, তবে তার একটি নির্দিষ্ট অংশ অবশ্যই গরীবদের মাঝে বন্টন করে দিতে হবে। এটিকেই যাকাত বলে। আর যাকাত হল ইসলামী অর্থব্যবস্থার মূলভিত্তি। যাকাতের নির্দেশ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তাদের মালামাল থেকে (নির্দিষ্ট হারে) যাকাত গ্রহণ করো যাতে এর মাধ্যমে তুমি তাদের সম্পদকে পবিত্র ও বরকতময় করতে পারো।” (আল কুরআন-৯:১০৩)

মিরাস

ধন-সম্পদের সুষম বন্টনের পরও কোনো ব্যক্তির নিকট যা অবশিষ্ট থেকে যায়, মৃত্যুর পর তা ওয়ারিশদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইসলাম মিরাসের বিধান রেখেছে।

ইসলামী অর্থনীতির এসকল বৈশিষ্ট্য অন্য কোনো অর্থনীতিতে পাওয়া যায় না। বরং সেখানে পাওয়া যায় চরম বৈষম্য এবং সম্পদের একমুখী বন্টন। এ সকল বৈষম্যকে দূর করতেই ইসমালী অর্থনীতির সূচনা হয়।