ইসলামী পর্যটনকে বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সৌন্দর্যনীয় স্থান Omar Faruque ১২-সেপ্টে.-২০১৯
hasina

ইসলামী পর্যটনকে ‘বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড’ হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

ওআইসি এবং এ সংগঠনভুক্ত দেশগুলোর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামী পর্যটনকে ‘বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড’ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও রোডম্যাপ থাকা জরুরি। ইসলামী পর্যটনের বিকাশে আন্তঃ-ওআইসি পর্যটক প্রবাহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ভিসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং ও মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

ইসলামী পর্যটনের বিশাল আকার ও বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ওআইসির ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে মুসলিম ট্যুরিস্টের সংখ্যা ১৫৬ মিলিয়ন, যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ১৮০ মিলিয়ন। একই বছর সারাবিশ্বের জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ হবে মুসলিম।

নবরূপে বিকাশমান ইসলামী অর্থনীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘ইসলামী অর্থনীতি’ বর্তমানে নবরূপে বিকাশ লাভ করছে। হালাল ফুডস, ইসলামী ফাইন্যান্স, হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রসাধনী, হালাল পর্যটন ইত্যাদি ইসলামিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান খাত। এ খাতগুলো বিকাশের জন্য ওআইসি সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব একান্ত প্রয়োজন।

বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের সমপর্যায়ে উপনীত হওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি লক্ষ্য পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের স্বপ্নপূরণে পর্যটন খাতের বিকাশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। এক্ষেত্রে ইসলামী পর্যটন আমাদের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত, যেখানে আমাদের সবার একত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের বৈচিত্র্যপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বৈচিত্র্যপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, প্রাচীন ও আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইসলামিক স্থাপনা ইত্যাদি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ।

তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে প্রায় চারশত বছরের প্রাচীন শহর ঢাকা গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জন্য সুপ্রসিদ্ধ। এখানে রয়েছে আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, কার্জন হলসহ উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। আধুনিক স্থাপত্য নিদর্শনসমূহের মধ্যে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সংসদ ভবন, শহীদ মিনার, জাতীয় জাদুঘর অন্যতম।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঢাকা মসজিদের শহর হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম-এর নকশা পবিত্র মক্কা নগরীর কাবা শরীফের আদলে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় চল্লিশ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। শুধু মুসলিমদের জন্যই নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঢাকায় রয়েছে বিখ্যাত আর্মেনিয়ান গির্জা, ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ সুন্দর সুন্দর স্থাপনা।

Source: The Dhaka Tribune

Photo: Collected