SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন বা ঋণ নেওয়ার বিধান

ব্যবসা ১৯ ফেব্রু. ২০২১
ফোকাস
ইসলামী ব্যাংক
Photo by Karolina Grabowska from Pexels

বিষয়টি সংক্ষেপে বলতে গেলে, যেকোনো ব্যাংক থেকে টাকা ঋণ নেওয়া হলে ঋণ পরিশোধের সময় কোনো অতিরিক্ত টাকা না প্রদানের শর্তে ঋণ নেওয়া জায়েজ আছে। এ প্রসঙ্গে হযরত ফাযালা ইবনে উবাইদ (রাযিঃ) বলেন, “যেই ঋণ কোনো মুনাফা (লাভ) নিয়ে আসে তা সুদের প্রকারসমূহের একটি।” (বাইহাকী)

এছাড়া, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন,

“যে ব্যক্তি কোনো বস্তু ঋণ দিবে সে যেন অতিরিক্ত কোনো কিছু পাওয়ার শর্ত আরোপ না করে। যদিও তা এক মুঠো ঘাসই হোক না কেন।” (মুআত্তা মালেক)

আর যদি ঋণ (লোন) হিসেবে পণ্য বা ব্যবসায়ী সামগ্রী ইত্যাদি নেওয়া হয়, তাহলে নিম্নোক্ত শর্তের ভিত্তিতে হলে তা জায়েজ, অন্যথায় তা জায়েজ নয়। ইসলামী ব্যাংক-ব্যবস্থার সূচনালগ্নে পরিবেশ-পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে যুগের ফকীহগণ প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিম্নোক্ত শর্ত সাপেক্ষে ব্যাংকগুলোকে মুরাবাহা করার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং যত দ্রুত সম্ভব ব্যাপকভাবে মৌলিক ও আদর্শ বিনিয়োগ মুদারাবা চালু করার প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছেন।

ইসলামী ব্যাংক থেকে পণ্য ঋণ নেওয়ার শর্তাবলী 

১। শর্ত ১

ইসলামী ব্যাংক-এর মালিকানায় কোনো পণ্য আসার পূর্বে তা বিক্রি করতে পারবে না। অর্থাৎ, বিনিয়োগগ্রহীতা ব্যাংকের নিকট পণ্য চাওয়ার পর প্রথমে ব্যাংককে তা ক্রয় করতে হবে এবং পণ্যে হস্তগত করতে হবে। এরপর ক্রেতার নিকট তা বিক্রি করতে পারবে।

২। শর্ত ২

কোনো না-জায়েয বা হারাম পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।

৩। শর্ত ৩

ব্যাংক যে পণ্য গ্রাহকের নিকট বিক্রি করবে সেটি যদি এমন হয় যে, গ্রাহক নিজেই সেই পণ্যের মালিক এবং সে ব্যাংকের নিকট তা নগদে কম মূল্যে বিক্রয় করে পরে আবার বাকিতে বেশি মূল্যে সেই একই পণ্য ক্রয় করছে তবে কারবারটি সুদী কারবারের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং হারাম হবে। অর্থাৎ, যার নিকট বিক্রি করবে তার থেকেই এ মুহূর্তে পণ্যটি খরিদ করেছে এমন হলে চলবে না।

৪। শর্ত ৪

বাস্তবতা ভিত্তিক ক্রয়-বিক্রয় হতে হবে। এমন হলে চলবে না যে, কোনো দোকানে আগে থেকেই ব্যাংকের এমন চুক্তি রয়েছে যে, আমরা তোমার দোকান থেকে কোনো পণ্য খরিদ করে গ্রাহকের নিকট বিক্রি করলে সেই একই পণ্য গ্রাহক আবার তোমার নিকট কম মূল্যে বিক্রি করে দিবে। অর্থাৎ বাস্তবতা ভিত্তিক ক্রয়-বিক্রয় হতে হবে। হীলা-বাহানা হলে চলবে না।

৫। শর্ত ৫

কারবারটি এমন হতে হবে যেখানে বাস্তবেই ক্রেতার কোনো পণ্যের জন্য অর্থের প্রয়োজন। যদি এমন হয় যে, শুধু পণ্যের নাম ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা বিনিয়োগ নিচ্ছে; কিন্তু পণ্য খরিদের কোনো ইচ্ছা গ্রাহকের নেই তবে উক্ত কারবারটি হারাম হবে।

৬। শর্ত ৬

ব্যাংকের নিকট বিনিয়োগপ্রার্থী যদি এমন জিনিস খরিদের নামে টাকা নেয়, যা আগেই সে খরিদ করে ফেলেছে অথবা তা কাজেও লাগিয়ে ফেলেছে; এখন সে সকল পণ্যের বকেয়া মূল্য পরিশোধের জন্য অথবা অর্থের অন্য কোনো প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় ঐ পণ্যের নামে ব্যাংকের সাথে মুরাবাহা করছে; তবে তাও সুদী কারবার ও হারাম বলে বিবেচিত হবে।

৭। শর্ত ৭

মুরাবাহার একটি অপরিহার্য শর্ত হল, পণ্যটি কিছুক্ষণের জন্য হলেও ব্যাংকের দায়িত্বে ও তার ঝুকিতে থাকতে হবে। যে সময়ের মধ্যে পণ্যটি নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা ব্যাংকের ক্ষতি বলেই ধর্তব্য হবে। যদি মুরাবাহার পণ্য গ্রাহক কে বিক্রির পূর্বে এমন কোনো ঝুঁকি ব্যাংক বহন না করে তবে উক্ত কারবারটি হারাম বলে বিবেচিত হবে

৮। শর্ত ৮

মুরাবাহার আরেকটি শর্ত হল, খরিদ্দারের নিকট নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করে দেওয়ার পর তার মূল্য পরবর্তীতে আর বৃদ্ধি করা যাবে না। অর্থাৎ সনাতন পদ্ধতির ব্যাংকগুলো যেমন বছরান্তে বা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী সুদের হার বাড়িয়ে দেয় সেভাবে মুরাবাহা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা যাবে না। যদি এরূপ করে তবে তা সুদ হিসেবে গণ্য হবে।

সুতরাং, উপরোক্ত শর্তাবলি মেনে ব্যাংক যদি টাকা না দিয়ে বাকীতে পণ্য দিয়ে দেয়, যার মূল্য বাজার মূল্য থেকে বেশী থাকে, এবং ব্যাংক কিস্তিতে ঐ মূল্য বাবদ টাকা প্রদানের সুযোগ দিয়ে দেয়, তবে তা জায়েয হবে।

সুতরাং, প্রচলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে একান্ত প্রয়োজনে ঋণ নিতে হলে উপরোক্ত শর্তাবলি পুরোপুরি মেনে তবেই ঋণ নিতে হবে। কেননা যদি কোনোভাবে এই শর্তসমূহের মধ্যে কোনোটি লঙ্ঘন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ না করুন তা সুদী কারবারির অন্তর্ভুক্ত হবে।

আর সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাযিঃ) এর পিতা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, “যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়, তার সাক্ষী যে হয়, আর যে দলিল লিখে তাদের সকলের উপরই আল্লাহ তা’আলা অভিশম্পাত করেছেন।” (মুসনাদে আহমাদ)

আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমীন।