SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

ইসলামী শরীয়াহ: বৈশিষ্ট্য ও প্রচলিত আইনের সাথে পার্থক্য (১ম পর্ব)

ইসলামে রূপান্তর ১৯ জানু. ২০২১
ফিচার
ইসলামী শরীয়াহ
© Sonyasgar | Dreamstime.com

আল্লাহ তা’আলা মানুষসহ বিশ্বজগতের সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। এ কারণে কোন জিনিসের মধ্যে মানুষ ও সমগ্র বিশ্বজগতের কল্যাণ নিহিত আছে তা তিনি উত্তমরূপেই অবগত আছেন। সুস্থ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে যেন এ পৃথিবীতে মানুষ বসবাস করতে পারে সেজন্য তিনি একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে মানুষকে প্রদান করেছেন ইসলামী শরীয়াহ্।

ইসলামী শরীয়াহ-র সংজ্ঞা

‘শারীয়াহ’ একটি আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ দ্বীন, ধর্ম, জীবনপদ্ধতি, নিয়মনীতি ইত্যাদি।

ইসলামী শারীয়াহ্ এর সংজ্ঞা সহজভাবে আমরা এভাবে বলতে পারি, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সালামের মাধ্যমে স্বীয় বান্দাদেরকে সার্বিক যে হুকুম-আহকাম ও বিধান প্রণয়ন করেছেন, তা-ই হল ইসলামী শরীয়াহ।”

ইসলামী শরীয়াহ-র বৈশিষ্ট্যসমূহ

এই আলোচনায় ইসলামী শরীয়াহর অসংখ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিম্নে তুলে ধরা হল।

১। আল্লাহ প্রদত্ত

ইসলামী শরীয়াহ প্রদান করেছেন সে মহান স্রষ্টা, যিনি মানুষ ও জগতসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং জগতের স্থান কাল ও পাত্রভেদে মানুষের জন্য কোন কোন বিষয় সবচেয়ে কল্যাণকর তা সম্যকভাবে অবগত আছেন। আল্লাহ বলেন,

‘‘আপনার প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাকে ইচ্ছা মানোনীত করেন, এর মধ্যে কারও কোনো এখতিয়ার নেই। আল্লাহ পবিত্র, মহান এবং তারা যে শরীক করে তা হতে তিনি বহু উর্ধ্বে’’।

অন্যত্র বলেন, ‘যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি (ভাল-মন্দ) জানেন না? নিশ্চয় তিনি সুক্ষ্মদর্শী ও সম্যক অবহিত’’।

অতএব, এটি নির্দ্বিধায় বলা যায়, ইসলামী শরীয়াহ সকল প্রকার ত্রুটিমুক্ত ও মানবতার জন্য সবচেয়ে বেশী কল্যাণকর।

২। গোটা বিশ্ব মানবতার জন্য

ইসলামী শরীয়াহর সকল হুকুম-আহকাম, উসূল ও বুনিয়াদী নীতিমালা এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্য দেশ, জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,

“আর আমি তো আপনাকে সৃষ্টিকুলের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি’”

‘‘বলুন, হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের সকলের নিকট প্রেরিত হয়েছি আল্লাহর রাসূলরূপে।’’

‘‘আর আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে পাঠিয়েছি।’’

৩। ব্যাপকতা

ইসলামী শরীয়াহ তে রয়েছে মানব জীবনের সকল দিকের সাথে সম্পর্কিত নীতিমালা, আহকাম ও আইন-কানুন। সেগুলি মানুষের আকীদা, ইবাদাত ও চরিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক কিংবা ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও বিচার পদ্ধতি প্রভৃত সংক্রান্ত হোক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

‘‘আমি প্রত্যেক বিষয়ের ব্যাখ্যাস্বরূপ এবং মুসলিম জাতির জন্য হিদায়াত, রহমত ও সুসংবাদস্বরূপ আপনার প্রতি কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি।’’

৪। মৌলিকত্ব ও স্থায়ীত্ব

ইসলামী শরীয়াহ-র নীতিমালা মৌলিক এবং এর উৎস সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং নিজে নিয়েছেন। এ কারণে কিয়ামত অবধি এ শরীয়াহ স্থায়ী হবে। আল্লাহ বলেন,

“নিশ্চয় আমিই কুরআন নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।’’

৫। পালনে সহজতা ও কঠোরতা থেকে মুক্ত

মানুষ যাতে ইসলামী শরীয়াহ-র সমস্ত হুকুম-আহকাম ও বিধি-নিষেধ অত্যন্ত সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যভাবে পালন করতে পারে সেভাবেই শরয়ী নীতিমালাসমূহ প্রণীত হয়েছে। এরপরও শরীয়াহ অনুসরণ করতে গিয়ে কেউ যদি কোনো যুক্তিগ্রাহ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন তার উপর থেকে পূর্বের হুকুমের ভারও হালকা করে দেওয়া হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

‘‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তিনি তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না।’’

অন্যত্র বলেন, ‘‘আল্লাহ তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোনো কঠোরতা আরোপ করেন নি।’’

অন্যত্র বলেন, ‘‘আল্লাহ তা’আলা কারও উপর এমন কোন দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার সাধ্যের বাইরে।”

৬। বৈষয়িক ও আধ্যাত্মিকতার চমৎকার সমন্বয়

ইসলামী শরীয়াহ একদিকে যেমন ইবাদাতসমূহ পালনের মাধ্যমে মানুষকে আখিরাতমুখী করে তোলে, তেমনি অন্যদিকে দুনিয়ার বাস্তব জীবনের প্রয়োজন ও দাবী-দাওয়া পূরণের নির্দেশও দিয়ে থাকে। দুনিয়ার কাজ ও ব্যস্ততার মধ্যেও যাতে মানুষ যেন আল্লাহর ইবাদাত পালন করে সেদিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে,

‘‘সে সব লোক (প্রকৃত সফল) যাদেরকে তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান হতে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেদিনকে যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।’’

আবার ইবাদাত পালনের পাশাপাশি জীবিকার ব্যবস্থা করার নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘‘সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহের (জীবিকা) সন্ধান করো।’’

৭। ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত বিষয়ের যথাযথ মূল্যায়ন

ইসলামী শরীয়াহ ব্যক্তি ও সমষ্টি কারও স্বার্থহানি না করে সকলের স্বার্থের প্রতি সমান দৃষ্টি দিয়েছে। ইসলামে ব্যক্তি মালিকানা ও ব্যক্তিস্বার্থকে কখনোই অবজ্ঞা করা হয় না। তবে ব্যক্তি ও সমষ্টিগত স্বার্থের মধ্যে বিরোধ যখন দেখা দেয়, ইসলাম তখন সমষ্টিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার প্রদান করে।

৮। যুগোপযোগিতা

ইসলামী শরীয়াহ প্রগতিশীল; সকল যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা কালের আবর্তনে উদ্ভূত সকল সমস্যা সমাধানের জন্য কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক চিন্তা-গবেষণার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ইসলামী শরীয়াহ-তে রয়েছে। সুতরাং, এটি উদ্ভুত যাবতীয় নতুন অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যশীল হতে সক্ষম। ইসলামের শুরুর যুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যেমন এর সফল কার্যকারিতা রয়েছে, তেমনি কিয়ামত অবধি এর কার্যকারিতা অক্ষুন্ন থাকবে। কেননা এটিই আল্লাহ কর্তৃক প্রণীত সর্বশেষ ও একমাত্র জীবনব্যবস্থা।

৯। উদারতা

ইসলামী শারীয়াহ উদারতা সম্পন্ন। এ প্রসঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সালাম বলেছেন,

‘‘আমাকে উদারতাসম্পন্ন দ্বীন সহকারে প্রেরণ করা হয়েছে।” এই উদার নীতির ফলে অমুসলিমরাও ইসলামী রাষ্ট্রে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা লাভ করে থাকে।

১০। সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা

জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য সাম্য ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা ইসলামী শরীয়াহর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।