ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান-এর বিরুদ্ধে কী বিধান রয়েছে?

আকীদাহ Contributor
জানা-অজানা
ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান
Photo by Pixabay from Pexels

সকলেই এ কথা জানে যে, ধূমপান সস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কথাটা অনেকে স্বেচ্ছায় বলেন, আর অনেকে বলেন বাধ্য হয়ে। তবে যাই হোক ধুমপানের চতুর্মুখী ক্ষতির তুলনায় শ্লোগানটা খুবই ছোট। কারণ ধূমপান যে শুধু স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর তা নয়, বরং মস্তিষ্কের জন্য, আত্নার জন্য, স্বভাব-চরিত্রের জন্য, পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী, সমাজ ও পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।

একজন মসুলিমের জন্য এর চেয়েও বড় ক্ষতিকর দিক হল ধুমপানের মাধ্যমে ইসলামের নীতি ও আদর্শ লঙ্ঘিত হয়। ধূমপানকে বৈধতা দিতে অনেকেই এ কথা বলে থাকেন যে, কুরআনে বা হাদিসে কোথাও তো এ কথা নেই যে, ধূমপান হারাম বা নিষিদ্ধ। তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান নিষিদ্ধ হল কিভাবে? এ প্রশ্নটির সন্তোষজনক উত্তর খুঁজে পাবেন এ নিবন্ধে।

ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান: এটি ক্ষতিকর বস্তু হিসেবে বিবেচ্য

আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, “তিনি তোমাদের জন্য হালাল করেছেন ভাল ও উত্তম বস্তু আর হারাম করেছেন খারাপ ও ক্ষতিকর বস্তু।” (৭: ১৫৭)

এ আয়াতের উপর ভিত্তি করেই এমন বহু জিনিস আছে যা ইসলামী শরীয়ত হারাম ঘোষণা করেছে অথচ তার নাম কুরআন বা হাদিসে আসেনি। যেমন ধরুন, আমরা কেউ সাপ খাই না। কিন্তু কেন খাই না? কুরআনে বা হাদিসে কি এর নিষেধাজ্ঞা আছে? অবশ্যই নেই, কিন্তু উক্ত আয়াতের ভিত্তিতে তা হারাম হয়ে গেছে। কেননা সকল ক্ষতিকর ও খারাপ বস্তু হারাম।

অনূরুপভাবে, ধূমপান ক্ষতিকর ও খারাপ। এ ব্যাপারে দুনিয়ার সুস্থ বিবেক সম্পন্ন সকল মানুষই একমত। কোনো স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীও এতে দ্বিমত পোষণ করেননি। এছাড়া ধূমপান নিশ্চয়ই খাবায়িস (ক্ষতিকর- নোংড়া)-এর অন্তর্ভুক্ত, তাই তা সেবন করা বৈধ নয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান: এতে রয়েছে জীবন বিধ্বংসী উপাদান

আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তোমরা নিজেদের জীবনকে ধংসের সম্মুখীন করো না।” (২: ১৯৫) এ আয়াতের দাবীতেও ধূমপান নিষেধ। কারণ ধুমপানের কারণে অনেক জীবন বিনাশী রোগ হয়ে থাকে। কুরআনের বাণী অনুযায়ী মদ ও জুয়ার মধ্যে কিছু উপকারিতা থাকলেও ক্ষতির ভাগ বেশি হওয়ায় তা হারাম করা হয়েছে। কিন্তু ধূমপান তো মদ-জুয়ার চেয়েও জঘন্য। কারণ ধূমপানে কোনো ধরনের উপকার নেই। বরং শতভাগই ক্ষতি। তাহলে ধুমপান নিষিদ্ধ হবে না কেন?

আবার অনেকে বলে থাকেন, মদ-জুয়া হারাম করা হয়েছে নেশাগ্রস্থ হওয়ার কারণে, কিন্তু ধুমপানে তো কোনো নেশা নেই। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, এই যে আপনি ধুমপান ছাড়তে পারছেন না, এটা মূলত নেশার কারণে। কারণ নেশা মানেই আসক্তি।

এতে রয়েছে জাহান্নামিদের খাবারের নমুনা

আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামিদের খাদ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “এটা তাদের কোনো পুষ্টিও যোগাবে না, আবার ক্ষুধা নিবারণও করবে না।” (৮৮: ৭) ধুমপানের মধ্যে হুবুহু একই বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তা পানকারীর পুষ্টির যোগানও দেয় না, আবার ক্ষুধা নিবারণও করে না। সুতরাং, ধূমপানের তুলনা জাহান্নামিদের খাবারের সাথেই করা যায়। তাহলে ধূমপায়ী ভাইদেরকে প্রশ্ন করতে চাই যে, আপনারা কে রাজি আছেন জাহান্নামিদের কোনো খাবারের নমুনা জেনে বুঝে গ্রহণ করার জন্য?

অসৌন্দর্য পরিহার করা ইসলামের শিক্ষা

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হালাল স্পষ্ট, এবং হারামও স্পষ্ট। এ দুয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়াবলী। যা অনেক মানুষই জানে না। যে ব্যক্তি এ সন্দেহজনক বিষয়গুলো পরিহার করল, সে তার ধর্ম ও স্বাস্থ্য রক্ষা করল। আর যে এ সন্দেহ জনক বিষয়গুলোতে লিপ্ত হল সে প্রকারান্তরে হারাম কাজে লিপ্ত হল।” (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং, যারা ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো প্রমাণ পাচ্ছেন না তাদের জন্য কমপক্ষে এ হাদিসটির প্রতি দৃষ্টি দেওয়াই যথেষ্ট। কারণ তাদের দৃষ্টিতে ধুমপান হালাল না হারাম এই বিষয়টি যেহেতু স্পষ্ট নয়, তাই এই হাদিসের আলোকেও ধুমপান পরিত্যাগ করা উচিত।

রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন,

“যে সকল কথা ও কাজ মানূষের কোনো উপকারে আসে না, তা পরিহার করা তার ইসলামের সৌন্দর্য।” (মুসলিম)

এ কথা সকলেই স্বীকার করে যে, ধূমপান কোনো উপকারে আসে না। বরং ক্ষতিই করে। তাই এই হাদিসের আলোকেও ধূমপান পরিতাজ্য। এছাড়া গবেষণা বলে, একজন অধুমপায়ী ব্যক্তির চেয়ে একজন ধুমপায়ী অধিকতর উগ্র মেজাজের হয়ে থাকেন। তাছাড়া সমাজে যারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত তাদের শতকরা ৯৮ ভাগই ধূমপানে অভ্যস্ত। যারা মাদক দ্রব্য সেবন করে তাদের মধ্যেও শতকরা ৯৫ ভাগ প্রথমে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়ে পরে মাদক সেবন শুরু করেছে। তাই বাস্তবতার আলোকেও ধূমপান এমন একটি বদভ্যাস যা পরিত্যাগ করা উচিত।

আশা করি, ধূমপানে অভ্যস্ত ব্যক্তিরা এসকল ক্ষতিকর দিক সামনে রেখে ধূমপান সহ সকল বদঅভ্যাস থেকে সরে আসবেন। আল্লাহই তাওফিকদাতা।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.