ইসলামে ঐক্যে ও ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব জেনে নিন

আকীদাহ ০৫ মার্চ ২০২০ Contributor
ইসলামে ঐক্য
dreamstime_xs_122269612

সংঘবদ্ধ জীবনযাপন মুমিনের অপরিহার্য কর্তব্য। কেননা, ইসলামে ঐক্যের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ঐক্যবদ্ধভাবে জীবন পরিচালনা করতে ইসলামের পরিস্কার নির্দেশনাও রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মুসলমানদের পারস্পরিক সর্ম্পক ভালোবাসার, ভ্রাতৃত্বের। এ সর্ম্পকের ভিত্তি ইসলামের একটি স্তম্ভ, কালিমার সঙ্গে সম্পৃক্ত। যে কেউ তার স্বীকৃতি দিবে বা তাতে একমত হবে, সে-ই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবে। এই ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য বজায় রাখার ব্যাপারে মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সা.) জোর তাগিদ দিয়েছেন। আসুন দেখি আল-কুরআন আমাদের কি শিক্ষা দেয়।

ইসলামে ঐক্য প্রসঙ্গে কিছু আয়াত উল্লেখ করা হলো:

১.‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে (ইসলাম) আঁকড়ে ধরো (ঐক্যবদ্ধ হও) এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ (সুরা আলি ইমরান :১০৩)
২. ‘তোমরা সেসব লোকদের মত হয়ো না, যাদের কাছে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং নানা ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।’ (সুরা আল ইমরান :১০৫)
৩.‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, সালাত কায়েম করো এবং কখনো মুশরিকদের দলভুক্ত হয়ো না, যারা তাদের দীনকে টুকরো করে দিয়েছে এবং নিজেরা নানা দলে বিভক্ত হয়েছে, এদের প্রত্যেকটি দলই নিজেদের যা আছে তা নিয়েই মত্ত।’ (সুরা তাওবা :৩১-৩২)
৪.‘নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই।’ (সুরা হুজরাত :১০)
৫. ‘এই যে তোমাদের জাতি, এতো একই জাতি, আর আমি তোমাদের পালনকর্তা, অতএব, তোমরা (ঐক্যবদ্ধভাবে) আমারই দাসত্ব করো।’ (সুরা তওবা :৯২)
হাদীসে মহানবী সা. বলেন, তোমরা মুমিনদেরকে একটি দেহের ন্যায় দেখতে পাবে। যখন দেহের কোনো অংশ আঘাত পায়, তখন দেহের অন্য অংশও ব্যথা অনুভব করে।-(সহীহ মুসলিম)

পবিত্র কুরআনে ঐক্য সম্পর্কে এতো নির্দেশনা থাকার পরও দুঃখজনক সত্য হচ্ছে, বর্তমান মুসলিম উম্মাহ শতধা বিভক্ত।

সময় এসেছে, ছোটখাটো ভুলের ঊর্ধ্বে ওঠে ওলামায়ে কেরামদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এ  ক্ষেত্রে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুবই গুরত্বপূর্ণ। সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা বিশ্বের অস্থিরতা থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে হলে ওলামায়ে কেরামদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ জন্য পারস্পরিক হিংসা, দলাদলি বাদ দিয়ে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ, সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আমাদের বিভক্তি আর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব দেখে ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী শক্তি খুশিতে গদগদ হয়। ফলে দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে তারা মুসলমান জনগোষ্ঠীকে দিকভ্রান্ত করতে উঠেপড়ে লেগে যায়। এটা নিয়ে আমাদের কবে বোধোদয় হবে আল্লাহই জানে। ‘মুসলিম জাতি এক দেহ, এক প্রাণ’-এই চেতনাবোধ দিনে দিনে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে আসছে।

এ পথ থেকে মুসলিম উম্মাহ কে ফিরে আসতে হবে। মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলেই তারা তাদের পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।