ইসলামে দাওয়াতের গুরুত্ব

dreamstime_s_131949739
Fotoğraf:

মহান আল্লাহর মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম। আর এই ইসলামের রীতিনীতি অনুসরণ, ইসলামের প্রচার এবং প্রসারে নিজেকে আত্মনিয়োগ করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। দুনিয়াতে এই ইসলামের পথে আহবান জানানোর জন্যই রাব্বুল আলামীন যুগে যুগে কালে কালে নবী-রাসূলদেরকে পাঠিয়েছেন। সুতরাং আমরা একথা জোরালো ভাবেই বলতে পারি যে একজন মুমিনের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে দ্বীনের দাওয়াত অর্থাৎ স্রষ্টার শাশ্বত বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

পরিচ্ছন্ন, কার্যকর, সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে দাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম। এ বিষয়ে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট করে বলেছেন যে, “ (হে বিশ্বাসীগণ!) তোমাদের এমন একটি সঙ্ঘ থাকা উচিত, যা সঙ্ঘবদ্ধভাবে মানুষকে ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করবে আর অন্যায় কাজে নিষেধ করবে। তাহলেই তোমরা সফলকাম হবে “(আলে ইমরান :১০৪)।

আমরা দেখতে পাচ্ছি বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা এক ভয়াবহ নেতিবাচক চিন্তা ও কর্মের ভেতরে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ঘুষ-দুর্নীতি, হত্যা, জুলুম-নির্যাতন , মাত্রাতিরিক্ত লোভ সহ বিভিন্ন পাপাচারে জাতি আজ নিমজ্জিত। বিশেষ করে আমাদের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় যুবসমাজ সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে বিভিন্ন ধরন পাপাচার জড়িয়ে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সঠিক উপায় আল্লাহ তাআলার বাণী তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, মানে দাওয়াত দেয়া।

জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগে মানবতার মুক্তির দূত হিসাবে আল্লাহ মুহাম্মদ (সা.) কে পাঠিয়েছেন। তার আগমনের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ “ এজন্যেই আমি তোমাদের মধ্য থেকে একজনকে রসুল মনোনীত করে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি, যে আমার সত্যবাণী তোমাদেরকে শোনায়, তোমাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করে, কিতাব ও হিকমা শিক্ষা দেয়। আর তোমাদের সেই সত্যসমূহ জানায়, যা তোমরা জানতে না।” (সূরা বাকারা-১৫১)

দাওয়াতের বিষয় রাব্বুল আলামীন আরও বলেনঃ “ আর তোমার ওপর আল্লাহর বাণী নাজিল হওয়ার পর, তা পালনে যেন কোনোকিছুই তোমাকে নিবৃত্ত করতে না পারে। বরং তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকেই সবাইকে আহ্বান করো, আর সর্বাবস্থায়ই শরিককারীদের মধ্যে শামিল হওয়া থেকে বিরত থাকো। “ (সূরা কাসাস – ৮৭)। আল্লাহ আরো বলেনঃ “ হে নবী!

তোমার ওপর আল্লাহ যে বাণী নাজিল করেছেন তা সবার কাছে পৌঁছে দাও। যদি তা পুরোপুরি পৌঁছে না দাও তবে তোমার দায়িত্ব অসম্পূর্ণ থাকবে। সত্য অস্বীকারকারীদের হাত থেকে আল্লাহই তোমাকে রক্ষা করবেন। সত্য অস্বীকারকারীদের আল্লাহ কখনো (বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে) সাফল্যের পথ দেখান না। “ ( (সুরা মায়েদা : আয়াত ৬৭ )

এ আয়াত দ্বারা আমরা এটা বুঝতে পারছি যে আল্লাহ তাআলার বাণী সকলের নিকট পৌঁছে দেওয়া অর্থাৎ দাওয়াতের প্রচারই ছিল নবী-রাসুলদের প্রধান দায়িত্ব। আল্লাহ বলেনঃ “ আসলে রসুলদের কর্তব্য তো শুধু সত্যবাণী সবার কাছে পৌঁছে দেয়া। “ ( আন-নহলঃ৩৫)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ “ আমি তো তোমাদের কাছে প্রতিপালকের বাণী পৌঁছে দিচ্ছি এবং তোমাদের সৎ-উপদেশ দিচ্ছি। কারণ আল্লাহর কাছ থেকে (ওহীর মাধ্যমে) আমি যা জানি, তা তোমরা জানো না। “ (সুরা আরাফ : ৬২)।

মহানবীর (সা.) অবর্তমানে দাওয়াতের এ দায়িত্ব তার অনুসারীদের অর্থাৎ তাঁর উম্মতের উপর অর্পিত হয়েছে। তাই পরিপূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে আন্তরিকতার সাথে এ কাজ যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করতে হবে। কোন প্রকার অবহেলা করা চলবে না। রাসুল (সা.) বলেন, “তোমাদের কেউ অন্যায় কাজ দেখলে সে যেন তা হাত দ্বারা প্রতিহত করে। যদি হাত দ্বারা প্রতিহত করা সম্ভব না হয়, তাহলে মুখ দ্বারা বাধা দেবে। যদি মুখ দ্বারাও প্রতিহত করা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করবে। আর অন্তর দ্বারা ঘৃণা করা দুর্বল ইমানের পরিচয়” (মুসলিম :৪৯)।

দাওয়াত মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য নিজের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করা এবং সকলের সাথে সুসম্পর্কের বিষয়টিও রাব্বুল আলামিন কোরআনে সুস্পষ্ট করে বলেছেনঃ “ যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে, সৎকর্ম করে আর বলে, ‘আমি তো আল্লাহতে সমর্পিতদের একজন’, তার চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে? (হে নবী!) ভালো ও মন্দ কখনো সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত করো ভালো কাজ, ভালো আচরণ দিয়ে। তা হলে তুমি দেখতে পাবে—শত্রু হয়ে যাবে মিত্র। “ (হা-মিম-সেজদা :৩৩, ৩৪)।

উপরের আয়াতে দাওয়াতের গুরুত্ব স্পষ্ট আকারে ফুটে উঠেছে। এর ফলে পারস্পরিক শত্রুতা দূর হয় এবং বন্ধু সম্পর্ক ফিরে আসে। একে অপরের সাথে ভ্রাতৃত্ব ভালোবাসা এবং সুসম্পর্ক সর্ম্পক সৃষ্টি হয়।

পরিশেষে আমরা এই সিদ্ধান্তে সহজেই পৌছাতে পারি যে, সকলের কাছে আল্লাহ তাআলার বাণী পৌঁছে দেওয়াই মুমিন-মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন করেছেন অতীতের সকল নবী-রাসুল। এবং কোরআনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও তাই। রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে দ্বীনের দাওয়াত প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার তৌফিক দান করুন।