ইসলামে নারী মুক্তির বিরোধিতা কখনই ছিল না  

নারী Contributor
ফিচার
ইসলামে নারী
© Tetiana Zaiets | Dreamstime.com

ইসলাম সর্বকালে সর্বযুগে মানুষের জন্য আমাদের মহান আল্লাহর প্রদর্শিত জীবন দর্শন, জীবন দর্শন ও পথ নির্দেশিকা। মানবতার কল্যাণ ও মুক্তি ইসলামেই নিহিত। তাই সহজেই বলা যায় ইসলাম জীবন দর্শনের ভিতিতে গড়ে ওঠা সমাজ ও সভ্যতাই আসলে সুস্থ সমাজ।

কিন্তু ইসলামে নারী-র মুক্তি ও নারীর অধিকার বিষয়ক প্রশ্ন এলেই বিতর্ক শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে অমুসলিম মানুষের ধারণা, আমাদের পবিত্র কুরআনে নারী মুক্তি বা নারীদের অধিকার সম্পর্কে বিশেষ কিছুই বলা নেই। আদতে এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। সুপ্রাচীন কাল থেকে ইস্লাম নারীদের সমানাধিকারের কথা বলে আসছে। শুধু তাই নয়, ইসলামে একজন নারী তার জীবনে কই ভূমিকা পালন করতে চায় সেই বিষ্যেও স্বাধীনতা দেওয়া রয়েছে।

উদাহরণ হিসেব্যে বলা যায় বিখ্যাত সেবিকা রুফাইদা আল আসলামিয়া (রাঃ)-এর কথা। শৈশব থেকেই তিনি জানতেন তিনি সেবিকা ও চিকিৎসক হতে চান, মহান আল্লাহ তাঁকে পথ দেখিয়েছেন বলেই তিনি খিমাতু রুফাইদা পত্তন করতে পেরেছিলেন।

প্রাচীন ইসলামে নারী-রা দুই হাতে সংসার সন্তান ও বহির্জগত সামলাতেন। আমাদের প্রিয় নবী রাসুল (সাঃ)-এর স্ত্রী আয়িষা (রা্যি)ই এই বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ বলা চলে।

নারী ও পরুষ সমগ্র মানব সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পুরুষ যেমন মানব সমাজের একটি অংশের প্রতিনিধি, নারীও তাই। নারীকে উপেক্ষা করলে মানবতা হয়ে ওঠে অসম্পূর্ণ।

ইসলামের চোখে নারী

নারী দীর্ঘকাল ধরে নানা ভাবে অবহেলিত সভ্য সমাযে। অথচ আনুনদের বিষয় এটাই যে আমাদের এই পবিত্র ধর্ম শুরু থেকেই নারী নির্যাতনের বিপক্ষে বলে এসেছে। সমাজে নারীর অবস্থান রক্ষা করার জন্য ইসলাম একের পর এক সঠিক ও উদাহরণযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এখনও নিচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ্য হল,

১। ইসলামে নারী-কে সম্মান 

ইসলামের চোখে মানুষ অত্যন্ত সম্মানিত ও ম্ররযাদাপূর্ণ। আমাদের মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

‘আর নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানদের সম্মানিত করছি। [সুরা আল ইসরা: ৭০]

মূলত নারী ও পুরুষ দুজনের জন্যই ইসলামের এই সম্মান ও মর্যাদা চিরন্তন। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী হচ্ছে মহান আল্লাহর সম্মানিত সৃষ্টি।

২। ঈমান ও আমলই মর্যাদা নির্ণায়ক

ইসলামে মানুষের মর্যাদা সুস্থ চিন্তা ও সঠিক কর্মের সঙ্গে সন্নিহিত। ইসলাম কখনওই নারীকে নিচু মনে করে না। আমাদের ধর্মে পরিষ্কার জানানো রয়েছে, মর্যাদা, মহত্ব ও নীচতার নির্ণায়ক তাকওয়া প্রহেযগারই, সঙ্গে নৈতিক চরিত্র। এই নির্ণায়কে যে যত মহান, আল্লাহর কাছে তার সম্মান সবচেয়ে বেশি।

আল্লাহ বলেছেন, তাদের রব তাদের দুআ কবুল করলেন এই মর্মে যে পুরুষ হোক বা নারী হোক তোমাদের কোনো আমলকারীর আমল আমি নষ্ট করব না। [সুরা আলে ইমরানঃ ১৯৫]

৩। ইসলামে নারী সম্পর্কে  ভুল দৃষ্টির অপসারণ 

ইসলাম আগমনের পূর্বে সমগ্র বিশ্বর কাছে নারী ছিল শুধু সংসার সামলানোর উপায়। দুনিয়ার এই আচরণের প্রতি একমাত্র ইসলামই প্রতিবাদ করে। এবঞ ইসলাম সমগ্র বিশ্বকে জানায় যে গতিশীল জীবনে নারী ও পুরুষের উভয়ের প্রয়োজন। ইসলাম নারী জাতিকে অপমান ও অমর্যাদার অবস্থান থেকে উঠয়ে নিয়ে এসেছে।

আব্দাল্লুহ ইবন আব্বান আনহু থেকে জানা যায়, আমাদের প্রিয় নবী বলেছেন,

“যে ব্যক্তির কন্যা সন্তান রয়েছে আর যে তার সাথে লাঞ্ছনারকর আচরণ করেনি ও পুত্র সন্তানকে তার উপর অগ্রাধিকার দেয়নি, আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” [সুনান আবু দাউদ, ৫১৪৮]

৪। নারীদের মৌলিক অধিকার দেওয়া

ইসলাম সুবিচার ও ন্যায়ের জন্য নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের আইনের পত্তন করেছে। ইসলাম নারীর শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদির নিশ্চয়তা সুনির্দিষ্ট করেছে। স্মরিয়া আইন অনুসারে অর্থনৈতিক উপার্জনের অনুমতি রয়েছে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই।

ইসলাম সর্বতোভাবে নারীর উন্নতি ও নারীর সমানাধিকারের পক্ষে। আবার ইসলামই নারীকে হেফাজত করে সকল প্রকার নির্যাতন ও অত্যাচার থেকে। অর্থাৎ বলা যায়, নারী নির্যাতন থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হলে সর্বতোভাবে ইসলামী অনুশাসন ও পালন প্রয়োজন।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.