SalamWebToday নিউজলেটার
সালামওয়েবটুডে থেকে সাপ্তাহিক নিবন্ধ পাওয়ার জন্য সাইন আপ করুন
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

ইসলামে সকল রোগেরই চিকিৎসা আছে (২য় পর্ব)

সিয়াম ১১ জানু. ২০২১
মতামত
রোগের চিকিৎসা
© George Tsartsianidis | Dreamstime.com

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ ব্যক্তিকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা নিতে এবং সবিশেষ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিতেন। এর পাশাপাশি হারাম বস্তু ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন।

হাদিসে এসেছে ‘আল্লাহ তা’আলা রোগ দিয়েছেন এবং রোগের প্রতিষেধকও দিয়েছেন। প্রত্যেক রোগেরি চিকিৎসা রয়েছে। সুতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। তবে হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা নিয়ো না। কারণ, হারাম বস্তুতে আল্লাহ তোমাদের জন্য কোনো রোগমুক্তি রাখেননি।’ এ হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, ইসলামের দৃষ্টিতে চিকিৎসা গ্রহণ করা শুধু বৈধই নয় বরং হালাল উপায়ে তা গ্রহণ করাই কাম্য।

১ম পর্বের মত এই পর্বেও আমরা এমন কিছু ঘটনা ও উদাহরণ বর্ণনা করব যা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদত্ত আরোগ্য পদ্ধতির সহজবোধ্যতা ও সহজসাধ্যতার প্রতিফলন ঘটাবে।

ঔষধ হিসাবে মধু

মধুকে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে ঔষধ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ বলেন,

“তার (মৌমাছির) উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য।”

মধু কেবল ঔষধ হিসাবে নয়, পানীয় হিসাবেও পান করা যায়। মধু পান এর মাধ্যমে চিকিৎসা একটি সুপরিচিত চিকিৎসা পদ্ধতি। সকালে খালি পেটে মধু খেলে তা অনেক রোগের আরগ্যের কারণ হয় । মধুর সাথে পানি মিশিয়ে সারা রাত্রি নির্জীব ভাবে রাখার পর ক্ষুধা বৃদ্ধির জন্য মধু মিশ্রিত পানি পান করতে হয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সাধারণত সকাল বেলা খালি পেটে মধু পান করে তা চিকিৎসা গ্রহণ করতেন। মাঝে মাঝে তিনি সকালের নাস্তার সাথেও মধু খেতেন। আসরের নামাজের পরেও এভাবে মধু পান করতেন।

তিনি চর্ম রোগের ক্ষেত্রেও মধু ব্যবহার করতেন। পোড়া ও চর্ম রোগের স্থানে মধু মালিশ করে দিতেন। এভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত মধুপান করতেন আর মধুর প্রশংসা করতেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন ব্যক্তি মাসে তিন দিন সকালে মধু পান করলে তার গুরুতর কোন সমস্যা হবে না।”

ঔষধ হিসাবে খেজুর

খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলমানি কমবেশ ধারনা রাখে। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানও খেজুরের নানাবিধ উপকারিতার কথা স্বীকার করেছে। খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি করে আযওয়া খেজুর খাবে সে সেদিন কোনো বিষাক্ত রোগ কিংবা জাদুমন্ত্রে আক্রান্ত হবে না।”

রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন,

“আযওয়া বেহেশতি ফল, এতে বিষ জাতীয় রোগ সকল রোগের আরোগ্য রয়েছে।”

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে যেমন খেজুর খেতেন তেমনি তাঁর উম্মতকেও এর উপকারিতা বর্ণনা করে তা খেতে উৎসাহিত করেছেন।

রক্তক্ষরণ বন্ধে ছাই ব্যবহার

উহুদ যুদ্ধের সময় আঘাত লেগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের মাথার রক্তে তার মুখমণ্ডল রঞ্জিত হয়ে যায়। এ সময় আলী(রাযিঃ) তাঁর বর্মে করে পানি আনেন আর ফাতিমা(রাযিঃ) তাঁর মুখমণ্ডল ধুয়ে দেন। ফাতিমা(রাযিঃ) যখন দেখলেন রক্তপ্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে, তখন তিনি খেজুর পাতার পাটি পোড়ালেন আর তার ছাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের ক্ষতস্থানের উপর প্রলেপ দিয়ে দেন। এরপর ক্ষতস্থানের রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।

এই হাদিস দ্বারা ক্ষতের জন্য ছাইয়ের উপকার অনুমেয় হয়।

হৃদরোগের চিকিৎসা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে- থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, রক্তশূন্যতা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃশ্চিন্তা, ভয়-ভীতি, অত্যধিক মদপান, নেশাজাতীয় বস্তু গ্রহণ, অতিরিক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ মেডিসিন ব্যবহার ইত্যাদি। মানুষ ইসলামি অনুশাসন মেনে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করলে এসব রোগ থেকে তাঁর সুস্থ থাকার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

হৃদরোগে আক্রান্তদের উপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা রোজা রাখার কারণে অনেকাংশে কমে আসে। রমজানের নির্দিষ্ট সময় রোজা রাখার কারণে শরীরের চর্বি বার্ন হয়। কিন্তু এই উপবাস যদি দীর্ঘ সময় ধরে করা হয় তাহলে আবার মাংসপেশির আমিষ ভেঙে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সাহরি খেতে এবং ইফতারে দেরি করে না করার ব্যাপারে আদেশ দিয়েছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রোজা রাখলে ৫৮ শতাংশ হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। রোজা রাখার কারণে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমে যায় যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এক কথায় বলা যায়, রোজা হচ্ছে ওষুধবিহীন হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম একটি মাধ্যম। এরকম বিভিন্ন হিকমতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের বাইরেও নিজে অত্যধিক রোজা রাখতেন এবং তাঁর উম্মতকেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন।

শেষ কথা

উপরে উল্লেখিত এ সকল পদ্ধতি ব্যতীত রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম চিকিৎসার জন্য আরও অনেক পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। ১৪০০ বছর আগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম চিকিৎসায় যুগান্তকারী কিছু পদ্ধতি তাঁর উম্মতকে শিখিয়েছেন, যা বর্তমান আধুনিক যুগের জন্য এক বিস্ময়কর বিষয়।

 

(সমাপ্ত)