ইসলামে সকল রোগেরই চিকিৎসা আছে (১ম পর্ব)

শারীরিক স্বাস্থ্য ১০ জানু. ২০২১ Contributor
মতামত
রোগের চিকিৎসা
© Mvg682 | Dreamstime.com

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন আমাদেরকে আখিরাতে মুক্তির পথ ও পদ্ধতি দেখিয়েছেন, তেমন দুনিয়ার জীবনে বিভিন্ন রকম অসুস্থতা ও রোগবালাই থেকে নিরাপদ থাকারও অনেক পথ ও পন্থা দেখিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের প্রসঙ্গে বলেছেন, তিনি নিজে থেকে কিছুই বলেন না। যা কিছু বলেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহির ভিত্তিতেই বলেন। এ কারণে তিনি আমাদেরকে যত চিকিৎসার কথা বলেছেন, সেগুলো সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা; সেটি প্রত্যক্ষভাবে হোক বা পরোক্ষভাবে হোক।

আমাদের চেষ্টার পরেও যেকোনো অসুখ থেকে বাঁচার আপাতদৃষ্টিতে সকল উপায়ও যদি বন্ধ হয়ে যায়, সব পথ যদি রুদ্ধ হয়ে যায়; তবুও একজন মুমিন হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো সর্ব রোগের চিকিৎসা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ও শেষ অবলম্বন হিসেবে ঠিকই থেকে যায়। এই নিবন্ধে আজ এমনই কয়েকটি চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করা হবে যেগুলোতে আল্লাহ তা’আলা বিভিন্ন রকম রোগবালাই ও অসুস্থতা থেকে সুস্থ ও নিরাপদ থাকার উপায় নিহিত রেখেছেন।

চিকিৎসা পদ্ধতি

অনেকে অসুস্থাকে অভিশাপ হিসেবে মনে করে। কিন্তু ইসলামে অসুস্থতার ধারণাটাই ভিন্নরকম। প্রকৃতপক্ষে অসুস্থতা আখিরাতের সফলতা অর্জনের জন্য একটি পরীক্ষা বিশেষ। কেননা আল্লাহ মানুষকে ভয়, ক্ষুধা, ধনসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, অসুস্থতা ও ফল ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করে থাকেন।

এসব পরিস্থিতিতে ধৈর্যধারণ করা এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা মুমিনের দায়িত্ব। এর পাশাপাশি পরিস্থিতি পরিবর্তনে কিছু উপায় অবলম্বন করাও মুমিনের দায়িত্ব। চিকিৎসা হিসেবে প্রায় ১৪০০ বছর আগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো এমনই কিছু পদ্ধতি নিম্নে আলোচনা করা হল।

জ্বর হলে ঠান্ডা পানি

ঠান্ডা পানিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম একটি চমৎকার চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করতেন। তিনি জ্বর হলে মাথায় ঠান্ডা পানির পট্টি ব্যবহার করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের বলেন, “জ্বর হল জাহান্নামের তাপ থেকে আগত, সুতরাং পানি দিয়ে তা ঠান্ডা করো।”

কঠিন আঘাতে লবণ-পানির চিকিৎসা

বিচ্ছু বা সাপের কামড়ের বিষ নামানোর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম লবণ ব্যবহার করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো ঔষধ ব্যবহার করা ত্যাগ করেননি কিংবা ঔষধ বাবহারের পর শুধু ঔষধের উপরও অত্যধিক নির্ভর করেনি।

বিষাক্ততা নিরাময়ের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বিষাক্ত স্থানে লবণ-পানি মালিশ করতেন। আবার এর সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের আয়াত পাঠ করে সেই স্থানে ফুঁ দিতেন।

শিঙ্গা লাগানো

শিঙ্গা লাগানো হলো একটি ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দেহ হতে দূষিত রক্ত বের করে দেওয়া। বর্তমান যুগে এই চিকিৎসা খুব একটা দেখা যায় না। চীনে এই চিকিৎসা যৎসামান্য পরিবর্তন করে করা হয়; যা ‘আকুপাংচার’ নামে পরিচিত।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও শিঙ্গা লাগাতেন এবং তাঁর সাহাবীদেরকেও উৎসাহিত করতেন। তিনি বলেন, “তিনটি জিনিসের চিকিৎসা এখন প্রচলিত আছে। মধু, শিঙ্গা লাগানো এবং আগুনের সেকা। তবে আমি আমার উম্মতকে আগুনের সেকা ব্যবহার করতে নিষেধ করেছি।”

রোগের জন্য অস্ত্রোপচার

আলী(রাযিঃ) বলেন জনৈক রোগীকে দেখতে যাওয়ার সময় আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। রোগীর কোমর ফুলে গিয়েছিল। লোকজন বলাবলি করছিল যে, এর ভিতরে পুঁজ আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ফোঁড়ার উপর অস্ত্রোপচার করতে বলেন। আমি তাঁর উপস্থিতিতে সাথে সাথে ঐ লোকটির ফোঁড়ায় অস্ত্রোপচার করি। এবং এতে সেই ব্যক্তি সুস্থতা অনুভব করে।

এ থেকে বোঝা যায়, আলী(রাযিঃ) ছোটখাটো অস্ত্রোপচারে দক্ষ ছিলেন, তা না হলে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে অস্ত্রোপচার করতে পারতেন না।

ঔষধ হিসাবে উট বা গরুর দুধ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদেরকে উট বা গরুর দুধ পান করতে হবে কারণ এর মধ্যে ঔষধি গুণ আছে। গরুর দুধের তৈলাক্ত পদার্থের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে তবে এর মাংস রোগ সৃষ্টি কারক।”

দুধ খাদ্য আর পানীয়র বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। গরুর দুধ মহিষ, ভেড়া এবং ছাগলের দুধের চাইতে উত্তম ও সুষম পানীয়। এটা মহিষ, ছাগল এবং ভেড়া দুধের চেয়ে পুষ্টিগুণেও অনেক এগিয়ে।

গরুর দুধ অনেক রোগের ঔষুধ হিসেবে কাজ করে। বর্তমানেও চিকিৎসকগণ গরুর দুধকে রুগীর স্বাস্থ্যহানির পর স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য ঔষধ হিসেবে পান করার জন্য ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন।

ঔষধ হিসাবে কালোজিরা

কালোজিরা কে সর্বরোগের ঔষধ বলা হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কালোজিরার মধ্যে মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের চিকিৎসা আছে।”

রাসূলের এই হাদিসের পর কালোজিরার গুরুত্ব নিয়ে বলার মত আর কিছু বাকি থাকে না।

 

(চলবে)