ইসলামে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ঈমানের পরিচায়ক

tim-foster-moJmTRR7E8U-unsplash
Fotoğraf: Tim Foster-Unsplash

মানবজীবনে যেকোনো সমস্যারই সমাধান দিয়েছে ইসলাম। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।

জীবনের প্রয়োজনে আমরা রাস্তায় চলাচল করি। বর্তমানে রাস্তায় চলাচল করার জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একারণেই জীবনের কোন কোন সময় রাস্তায় চলাফেরা করতে গিয়ে আমরা ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হই। এবং বর্তমানে সারা পৃথিবীতে এর নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে সড়ক থেকে কষ্টদায়ক বিষয় সরানোর নির্দেশের পাশাপাশি চালক বা অন্য কারো কোন অবহেলা বা খেয়ালীপনার কারণে কেউ নিহত হলে তাদের শাস্তির বিধানও রেখেছে ইসলাম।

সড়কে সবার চলাচলের অধিকার রয়েছে, কিন্তু মনে রাখতে হবে সড়ক কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় , এটি সবার। তাই অন্যের অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সড়কে এমন কোন কাজ করা যাবে না বা ব্যবহার করা যাবে না, যাতে অন্য কারো কোনো রকম ক্ষতি হয়। কেউ এমন কোন বস্তু সড়কে ফেলা যাবে না যাতে অন্য কারো কষ্ট হয়। বরং কষ্টদায়ক কোন বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে তা সরিয়ে সড়ককে নিরাপদ করতে হবে।

রাস্তা নিরাপদকরণের এ বিষয়টি ঈমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত, ঈমানের পরিচায়ক। এ প্রসঙ্গে নবীজি (সা.) বলেন, ‘ঈমানের ৭০টিরও বেশি শাখা আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শাখা হলো, এ কথার স্বীকৃতি দেওয়া যে আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আর সবচেয়ে নিচের শাখাটি হলো রাস্তায় কোনো কষ্টদায়ক বস্তু থাকলে তা সরিয়ে দেওয়া।’ (সহিহ বুখারি : ৯; সহিহ মুসলিম : ৩৫)।

আমরা প্রায়ই দেখে থাকি ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় চলাচল করছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন এর কারণে প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আইনের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের যানবাহন ইচ্ছা করে রাস্তায় চালানো ঈমানের বিপরীত। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ময়লা, উচ্ছিষ্ট খাবার, বা বিভিন্ন বস্তু ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তায় ফেলে দেয়াটাও ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায়। কারণ এসব ফেলে রাখার কারণে সাধারণ মানুষের নানা সময়ে নানা ধরনের কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। আর ইসলামে অন্যের কষ্ট হয় এই ধরনের কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বা খামখেয়ালিপনা করে করা হচ্ছে গুনহা।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, মানুষের ওপর প্রতিদিন তার শরীরের প্রতিটি গ্রন্থির জন্য সদকা দেওয়া আবশ্যক। …রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়াও একটি সদকা।’ (সহিহ মুসলিম : ১১৮১)

রাস্তা থেকে এ ধরনের কষ্টদায়ক বস্তু সরানো মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও জান্নাত পাওয়ার অসিলা হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘একবার রাস্তার ওপর একটি গাছের ডাল পড়ে ছিল, যা মানুষের জন্য কষ্টদায়ক ছিল, অত:পর এক লোক তা সরিয়ে দিল। এর ফলে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করেছেন।’ (সহিহ বুখারি : ৬২৪)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতের লাল গালিচায় গড়াগড়ি খেতে দেখলাম। (জান্নাতে তার এ পুরস্কার লাভের কারণ) মানুষের চলাচলের পথে একটি গাছ ছিল, যার কারণে চলাচলে কষ্ট হচ্ছিল। ওই ব্যক্তি তা কেটে দিয়েছিল (ফলে আল্লাহ খুশি হয়ে তাকে জান্নাতে এ পুরস্কার দান করেন)।’ (সহিহ মুসলিম : ১৯১৪)।

এছাড়াও আমরা বিভিন্ন সময় দেখে থাকি অবৈধভাবে রাস্তার অংশ দখল করে রাস্তা কে সংকীর্ণ করে ফেলা হয়। এর ফলে মানুষের দুর্ভোগ সহ প্রায় সময় নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। রাস্তা দখলের ব্যাপারে নবীজি (সা.) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘খবরদার! তোমরা রাস্তায় বসে থেকে রাস্তা দখল করবে না। একান্ত যদি বসতেই হয়, তাহলে রাস্তার হক আদায় করবে।’ (সহিহ বুখারি : ২২৯৭; সহিহ মুসলিম : ৩৯৭২)।

আসলে একজন মুসলমান দ্বারা অন্য কেউ যেন কষ্ট না পায়। কোন ড্রাইভার এমনভাবে যেন গাড়ি না চলায় যাতে অন্য কোন মানুষ শয়তানি তা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেউ যেনো রাস্তাকে বেআইনিভাবে দখল না করে। যার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই বা সঠিক প্রশিক্ষণ নেই, সে যেন যানবাহন চালনা থেকে নিজেকে বিরত রাখে। অর্থাৎ এমন কোন কাজ করা যাবে না যা দ্বারা অন্য কারো ক্ষতি হয় বা কষ্ট পায়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমান তো সে-ই, যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলমানরা নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি : ১০)।

আমাদের প্রতিদিনের জীবনের সাথে যানবাহন, রাস্তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং আমাদের এমন কোন কাজ বা আচরণ করা উচিত নয় যার দ্বারা অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কষ্ট পায়। রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে কবুল করুক।