ইসলাম একমাত্র সত্য ধর্ম হওয়ার কারণ

dreamstime_s_5025100
dreamstime_s_5025100

মানবজীবনে ধর্মের প্রভাব প্রাকৃতিকভাবে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত। আর সকল ধর্মের মধ্যে ইসলামই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ দ্বীন; বিশ্বজনীন ধর্ম; আল্লাহর তা’আলার মনোনীত, চির উন্নত বিজয়ী ধর্ম; অপরাপর সকল ধর্মের মধ্যে এগুলিইসলামের একক বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্যগুলো যথাযথ অনুধাবন করতে না পারার কারণে অনেকে ইসলামকে প্রচলিত বিভিন্ন ধর্মের ন্যায় কিছু আচার-অনুষ্ঠান সর্বস্ব মনেকরে।

সমাজনীতি,রাজনীতি,রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি এবং আইন ও বিচার ইত্যাদি বিষয়ে ইসলামকে অকার্যকর মনে করে এবংএই সকল ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুশাসনকে সাম্প্রদায়িকতা মনে করে। তাই এই নিবন্ধে আমরা ইসলামের কিছু অনন্য বৈশিষ্টের উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাতের চেষ্টা করব। যাতেইসলামেরপূর্ণাঙ্গতা ও সার্বজনীনতাআমাদের সামনে স্পষ্ট হয়।

১) ইসলাম পূর্ণাঙ্গ দ্বীন

ইসলাম আল্লাহর মনোনীত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা। ইসলাম শুধুমাত্র ব্যক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনীতি,সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, আকীদা, ইবাদত এবং শিক্ষাসহ মানব জীবনের সকল দিকইসলামেরব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত।

কুরআনুল করীমে ইরশাদ হয়েছে,

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের উপর আমার নিয়ামতকেও পরিপূর্ণ করলাম। এবং তোমাদের দ্বীন হিসাবে ইসলামকে চিরকালের জন্য পছন্দ করে নিলাম।” (আল কুরআন-৫:৩)

সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহময় মানব জীবনের সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এবং বিধিবিধান রয়েছে। ইসলামী ফিকাহ শাস্ত্রে খুটিনাটি সব কিছুর বিস্তারিত আলোচনা আছে। এর কিছু মান্য করা আর কিছুকে অস্বীকার করা কুফরী।

ইসলাম-পূর্ব আসমানী ধর্মগুলো সারা পৃথিবীর জন্য এবং সব যুগের জন্য ছিল না। তাইবর্তমান প্রেক্ষাপটে সেগুলোতে জীবনের সকল বিষয়ের সমাধান নেই এবং সেগুলো পূর্ণাঙ্গও নয়। কিন্তু ইসলাম এর ব্যতিক্রম।

২) ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন

ইসলাম আল্লাহর মনোনীত সর্বশেষ দ্বীন। মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি একমাত্র এই ধর্মের মাঝেই নিহিত। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে,

“নিশ্চয় কেবলমাত্র ইসলামই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন।” (আল কুরআন-৩:১৯)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে:

“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করতে চায়,তার থেকে সে দ্বীন কবুল করা হবেনা এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (আল কুরআন-৩:৮৫)

৩) ইসলাম বিশ্বজনীন ধর্ম, সকল মানুষের ধর্ম

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

“পবিত্র রমযান মাসে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা বিশ্বমানবের জন্য শুরু থেকে শেষ অবধি পুরোটাই হেদায়াত এবং এমন সুষ্পষ্ট নিদর্শনাবলী সম্বলিত, যা সঠিক পথ দেখায় এবং সত্য-মিথ্যার মধ্যে চুড়ান্ত ফয়সালা করে দেয়।” (আল কুরআন-২:১৮৫)

আরও ইরশাদ হয়েছে,

“(হে রাসূল! তাদেরকে) বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল,যার আয়ত্তে রয়েছে আসমানসমূহ এবং পৃথিবীর রাজত্ব।” (আল কুরআন-৭:১৫৮)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,

“হে নবী! আমি আপনাকে জগতসমূহের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি। (আল কুরআন-২১: ১০৭)

ইসলাম সকলের স্বভাবজাত ধর্ম। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি ন্যায় বিচার, সহমর্মিতা, সৌজন্যমূলক আচরণ এবং জীবের প্রতি দয়া ইসলামের অন্যতম শিক্ষা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যারা মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন না। (মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন,

“(জীবের প্রতি) দয়াকারীর উপর দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন। জমিনে বসবাসকারী মাখলুকের প্রতি দয়া করো, আসমানওয়ালা তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।” (তিরমিযী)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন,“সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। আল্লাহর কাছে প্রিয় সেই যে তাঁর পরিবারের প্রতি দয়া করে।”

ইসলাম আল্লাহর কর্তৃক মনোনীত একমাত্র সত্য ধর্ম । ইসলাম সকলকে দরদের সাথে সত্যের পথে উদার আহবান করে। ইহকালীন ও পরকালীন নাজাতের পথে ডাকে। কিন্তু কাউকে বাধ্যকরে না। সকলের ধর্মীয়স্বাধীনতা স্বীকার করে।

ইসলাম একমাত্র বিজয়ী ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত থাকতে চায়। তবে কোনো অমুসলিমকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করেনা।

৪) ইসলাম বিজয়ী ধর্ম

ইসলাম যেহেতু আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক মনোনীত সত্য ধর্ম। সেহেতুবিজয়ী ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত থাকাতার একান্ত কাম্য। সত্যের হাতে পৃথিবীর নেতৃত্ব থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং অন্যায় অবিচার দূর করা, ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা, শান্তি স্থাপন এবং খোদাদ্রোহী কুফরী শক্তির দাপট চূর্ণ করে একমাত্র সত্যধর্মের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই ইসলামের লক্ষ্য।

কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে,

“আল্লাহ তো হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ নিজ রাসূলকে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি সব দ্বীনের উপর তাকে জয়যুক্ত করেন। মুশরিকগণ এটাকে যতই অপ্রীতিকর মনে করুক।” (আল কুরআন-৯:৩৩)