ইসলাম নির্দেশিত পথে সন্তান প্রতিপালন করতে চান?

family spending time

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সন্তানের সুন্দর নাম রাখা,তাকে উত্তম শিষ্টাচার ও কুরআন শিক্ষা দেওয়া পিতামাতার দায়িত্ব।”

কোনো সন্দেহ নেই যে ইসলামী দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সন্তান প্রতিপালন অনেক কঠিন একটি কাজ। আর এটি আরও কঠিন হয়ে যায় যখন আমাদের চারপাশের পরিবেশ ইসলামিক না হয়।

সন্তান পিতামাতার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত। তাই সন্তানের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের মঙ্গলের জন্য তাকে উত্তমরূপে গড়ে তোলা পিতামাতার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন, “হে ঈমানদারগণ! নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো” (আল কুরআন-৬৬:৬)। এই আয়াতটিতে শুধু নিজেকেই জাহান্নাম থেকে বাঁচতে বলেনি বরং নিজের পরিবারকেও বাঁচাতে বলেছে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিজের সন্তানকে তিনটি বিষয়ের প্রশিক্ষণ দাওঃ নবীর প্রতি ভালবাসা, তাঁর বংশধর(আহলুল বাইত) এর প্রতি ভালবাসা এবং কুরআন তেলাওয়াত।” কোনো শিশু যদি ছোট বয়সেই কুরআন মুখস্ত করতে পারে তাহলে এটি তার রক্ত-মাংসে মিশে যায়। এ কারণে শিশুদের ছোট থেকেই ভালোবাসার মাধ্যমে কুরআন ও উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে হয়, তাহলে বড় হয়েও তারা পিতামাতার শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়। কোনো শিশু যদি তার পিতামাতা থেকে পরিপূর্ণ ভালোবাসা না পায় তাহলে সে অন্যকেও ভালোবাসতে পারে না। এ কারণে নবীজী ও আহলুল বাইতের প্রতি তাদের মনে ভালোবাসা জন্মাতে তাদেরকেও ভালোবাসতে হবে।

আমরা মনে করি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সন্তানকে শুধু কুরআনই শিক্ষা দিতে হবে। তবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়। কারণ নবীজী ছোট শিশুদের সাথে খেলা করতেন; অনেক হাদিস আছে যেখানে উল্লেখ আছে নবীজী (সাঃ) তাঁর নাতি হাসান ও হুসাইনের সাথে খেলা করতেন। যেকোনো ধরনের হালাল বিনোদন সন্তানের মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একারণে নবীজী (সাঃ) শিশুদেরকে সাঁতার কাটা ও তীর চালনা শিক্ষা দিতে উৎসাহ দিয়েছেন।

এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তানের লালনপালনকে তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন; জন্ম থেকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত। প্রথম সাত বছরের জন্য সে একজন শিক্ষক,পরবর্তী সাত বছরের জন্য সে একজন দাস এবং তারপরের সাত বছরের জন্য সে একজন বুদ্ধিজীবী। সুতরাং, সে যদি ২১ বছরের মধ্যে ভাল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করে তবে তো ভাল; অন্যথায়, তাকে তার মত ছেড়ে দাও কারণ তুমি আল্লাহর কাছে নিজের দায়িত্ব পালন করেছ”

ইমাম জাফর সাদিক(রহঃ) এই হাদীসটির ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, “আপনার সন্তানকে সাত বছর অবধি খেলতে দিন, তাকে আরও সাত বছর অবধি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিন; অতঃপর সে যদি সফল হয় তাহলে তো ভাল। অন্যথায়, তার মধ্যে কোনো মঙ্গল নেই”

হাসান(রাযিঃ) তার সন্তানদের এবং তার ভাতিজাদের একত্রিত করে তাদেরকে বলেছিলেন, “তোমরা আজ ছোট শিশু, তবে তোমরাই আশা করা যায় আগামীদিন সমাজদের নেতা হবে। তাই তোমাদের সময়কে ইলম শিক্ষার কাজে যথাসম্ভব ব্যয় করো” রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের আরেকটি হাদিসে আমরা দেখতে পাই তিনি বলছেন, “হাসান আর হুসাইন জান্নাতে যুবকদের সর্দার হবে”

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ধার্মিক সন্তান হল আল্লাহর পক্ষ থেকে দানকৃত ফুল, যা তিনি তাঁর বান্দাদের মাঝে বিতরণ করেছেন”

পিতামাতার আরও উচিত সন্তানের সাথে বন্ধুর মত আচরণ করা। আর সন্তানদের সাথে যেন মন্দচরিত্রের কেউ মিশতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা। কারণ নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মানুষ তাঁর বন্ধুর বিশ্বাস আর কর্ম দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়।” এ কারণে পিতামাতার উচিত সন্তানের বন্ধুদের চরিত্র, অভ্যাস ও ব্যবহৃত ভাষার দিকে খেয়াল রাখা।

জাফর সাদিক(রহঃ) থেকে একটি সুন্দর উক্তি বর্ণিত আছে, “আপনার বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনকিছু আপনার সন্তানের নিকট পৌঁছার আগেই তাঁকে উত্তম আক্বিদা-বিশ্বাস শিক্ষা দিন”

আলী(রাযিঃ) বলেছেন, “আমি আমার পালনকর্তার কাছে সুন্দর চেহারা বা সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী সন্তানের জন্য দু’আ করিনা। বরং এমন সন্তানের জন্য দু’আ করি যে তাঁর ফরমাবরদারি করবে, তাঁকে ভয় করবে এবং এটা দেখে আমার চক্ষু শীতল হবে”

উপসংহারে বলা যায়, যদিও সন্তান প্রতিপালন একটি চ্যালেঞ্জ, তবে এর জন্য আল্লাহ অনেক পুরষ্কারও রেখেছেন। সেই পিতামাতা সত্যিই ভাগ্যবান যাদেরকে আল্লাহ নেককার সন্তান দান করেছেন। তাই আসুন আমরা উপরে বর্ণিত দিকনের্দেশনাগুলি মানার চেষ্টা করি আর আল্লাহর কাছে দু’আ করি তিনি যেন আমাদেরকে নেককার সন্তান দিয়ে ধন্য করেন। আমীন