শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

ইসলাম বলে আমানতের খেয়ানত না করা

ID 148386121 © Mayuree Moonhirun | Dreamstime.com
Foto

আমানতের খেয়ানত করা জঘন্য একটি অপরাধ। গচ্ছিত অর্থ বা বস্তুকে আমানত বলা হয়। যার কাছে অর্থ বা বস্তু গচ্ছিত রাখা হয় তাকে বলা হয় আমানতদার। যে রাখে, সে আমানতকারী। আমানত যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা আমানতদারের অপরিহার্য কর্তব্য, এটাও ওয়াজিব। আমানত অবশ্যই ফেরতযোগ্য। মালিক যখনই চাইবেন, ফেরৎ দিতে হবে, এটাও ওয়াজিব। আমানতকৃত অর্থ বা বস্তু সুরক্ষা এবং চাইবামাত্র ফেরৎ দেয়া আমানতদারির পরিচয় বহন করে।

আমানত রক্ষা করা অপরিহার্য দায়িত্ব। পবিত্র ইসলাম আমানত রক্ষার প্রতি জোর তাগিদ প্রদান করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতগুলো প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও। আর যখন মানুষের বিচার-মীমাংসা করবে তখন ইনসাফভিত্তিক মীমাংসা করো। আল্লাহ তোমাদের সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।’ (সূরা নিসা : ৫৮)।

আমানতের বস্তু পরিশোধ না করলে তাকে খেয়ানত বলে। খেয়ানত অত্যন্ত মারাত্মক গোনাহ। নবীজি (সা.) একে মোনাফিকের আলামত সাব্যস্ত করেছেন। আমানতের খেয়ানত করা মুনাফিকের আলামত সমূহের অন্যতম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি। (১) যখন সে কথা বলে, তখন সে মিথ্যা বলে (২) আর যখন সে অঙ্গীকার করে, তখন তা ভঙ্গ করে (৩) এবং যখন তার নিকট কিছু গচ্ছিত রাখা হয়, তখন সে খেয়ানত (আত্মসাৎ) করে (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮)।

যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে সতর্ক থাকে তারাই প্রকৃত মুমিন (মুমিনুন ৮)।

প্রকৃত আমানতদারদের আল্লাহপাক সুসংবাদ দিয়েছেন। বলেছেন: আর যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, যারা সাক্ষ্য দানে অটল এবং নিজেদের নামাজে যত্মবান, তারাই সম্মানিত হবে জান্নাতে। (সূরা মা’আরিজ : ৩২-৩৫)। আল্লাহপাক আল্লাহ ও রাসূলের সা. সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করতে যেমন বারণ করেছেন আমানতের খেয়ানত করতেও না করেছেন। বলেছেন : হে বিশ্বাসীগণ, জেনে-শুনে আল্লাহ ও তার রাসূলের সা. সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না। আর তোমাদের পরস্পরের গচ্ছিত দ্রব্য সম্পর্কেও নয়। (সূরা আনফাল : ২৭)।

আমানতের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান:

আমানত বুঝতে আমরা মনে করে থাকি আমার নিকট কোনো ব্যক্তি কিছু টাকা পয়সা নিয়ে আসল আর বলল এগুলো তোমার নিকট আমানত হিসেবে রাখলাম। যখন প্রয়োজন হবে তখন এসে এগুলো ফিরিয়ে নেব। শুধু এ কাজটুকুই আমরা আমানত মনে করি। আর যার নিকট আমানত রাখা হলো সে ব্যক্তি ওই টাকা-পয়সাগুলো নিজে খরচ করে ফেলল, কিংবা আমানত দাতা তার টাকা-পয়সা ফেরত নিতে চাইলে টাকা-পয়সা আমানত রাখার বিষয়টা অস্বীকার করল; এটাকেই আমরা খেয়ানত মনে করি। আমাদের নিকট আমানত আর খেয়ানতের পরিচয় এটুকুই, এর বেশি নয়। নিঃসন্দেহে একাজটুকু আমানত ও খেয়ানতের অংশ। কিন্তু কোরআন ও হাদিসের পরিভাষায় এর কোনো সীমা নির্ধারিত হয়নি। বরং আমানত শব্দ ব্যাপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা আমানতের মধ্যে শামিল। অথচ এর বেশির ভাগই এমন যেগুলোকে আমরা আমানতই মনে করি না। সেগুলোকে যে আমানত মনে করতে হয় সে ভাবনাও কখনো অন্তরে আসে না।

আমানতের খেয়ানতের মহামারি

আমানত বলতে আমরা শুধু টাকা-পয়সার বিষয়টি বুঝি। কিন্তু আমানতের অর্থ ও মর্ম আরও ব্যাপক। এর ক্ষেত্র ও পরিধি বিশাল। আল্লাহর দেওয়া সবকিছুই আমাদের কাছে আমানত। সহায়-সম্পত্তি সন্তান-সন্তুতি, এমনকি আমাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও আল্লাহর দেওয়া আমানত। পবিত্র কোরআন এবং ইসলামের বিধিবিধান আমাদের কাছে আমানত। আল্লাহ বলেন, ‘আমি আসমান-জমিন ও পর্বতের কাছে এই আমানত পেশ করেছিলাম। কিন্তু তারা এর বোঝা বহন করতে অপারগতা প্রকাশ করল এবং ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। আর মানুষ তা বহন করেছে। নিশ্চয়ই মানুষ জালিম, অজ্ঞ।’ (সূরা আহজাব : ৭২)। আয়াতে আমানত বলতে ‘দ্বীনের সব বিধিবিধান উদ্দেশ্য। এসব বিধিবিধান লঙ্ঘন করা আমানতের খেয়ানত।

রাসুল (সা.) তাঁর প্রিয় উম্মতকে এমন চারটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যেগুলোকে গুরুত্ব দিলে সেই উম্মত উভয় জাহানের সফলতা অর্জন করতে পারবে :

আমানাত রক্ষা করা : ‘হিফজু আমানাতিন’ অর্থাৎ বান্দার মধ্যে যার ওপর আমার হক আছে তা আমানতের সঙ্গে আদায় করা। আমানতের ব্যাপারে কারো সঙ্গে প্রতারণা না করা। কারো আমানত নিজের কাছে থাকলে তা তার কাছে যথাযথ পৌঁছে দেওয়া।

হালাল রিজিক : ‘রিজকে হালাল’ উপায়ে রিজিক অন্বেষণ করা, অর্থাৎ হালাল উপায়ে রিজিক উপার্জন করা।
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার উম্মত যদি আমার থেকে এই চারটি জিনিস নিতে পারে, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাত তার হাতের মুঠোয় এসে পড়বে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৬৬৫২)

এখন দেখার বিষয় হলো, এই চারটি জিনিসের মধ্যে আল্লাহর রাসুল ঠিকভাবে নামাজ পড়া, রোজা রাখা, জাকাত দেওয়া—এগুলো কিছুই বলেননি।

রাসুল (সা.) একদিন হঠাৎ করে মদিনার বাজারে ছুটলেন। এক লোক গম বিক্রি করছিল খোলা বস্তায়, রাসুল (সা.) গিয়ে তাতে হাত ঢুকিয়ে দিলেন। হাত বের করে দেখলেন হাত ভিজে গেছে। রাসুল (সা.) বুঝলেন ওপরের গম শুকনো আর ভেতরেরগুলো ভিজা। রাসুল (সা,) জিজ্ঞাসা করলেন, কেন তুমি এই কাজ করলে? বিক্রেতা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! কালকে রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। রাসুল (সা.) বলেন, তুমি ভেতরেরগুলো ওপরে না রেখে ভেতরে কেন রাখলে? এবং বলেন, যে ধোঁকাবাজি করবে সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (মুসলিম, হাদিস : ১০২)

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন