ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা এবং অবগত হওয়ার প্রথম ধাপ

শিক্ষা Contributor
ইসলাম পড়াশুনো

অনেকেই ইসলাম সম্পর্কে পঠনপাঠনে আগ্রহী। ইসলামী আইনশাস্ত্রের পণ্ডিতদের মতে, আপনার এবং আপনার সৃষ্টিকর্তার মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপনের জন্য আপনার উপর যে বাধ্যতামূলক বিষয়গুলি রয়েছে তা পূরণ করতে আপনাকে ধর্ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষা নিতে হবে। কারও কারও পক্ষে এটি সহজ; আবার কারও জন্য কিছুটা চেষ্টা করাও লাগতে পারে। কি কি জানা লাগবে?

এখানে কয়েকটি ইসলাম নিয়ে পঠনের মূল বিভাগ নিয়ে আলোচনা করা হলঃ

১) মৌলিক আকিদাঃ একজন মুসলিমের জন্য আল্লাহ, তাঁর প্রেরিত নবী-রাসূলগণ, ফেরেশতাগণ এবং তাঁর নবীগণের কাছে অবতীর্ণ পবিত্র গ্রন্থসমূহ, কিয়ামতের শেষ দিন,পূর্ব নির্ধারিত তাকদীর এবং মৃত্যুর পরে জীবন সম্পর্কে বিশ্বাস করা বাধ্যতামূলক। একজন মুসলিমের জন্য এটা জানাও গুরুত্বপূর্ণ যে, কীভাবে ইসলামী নীতিমালা অনুসারে আত্মা ও হৃদয়ের অসুস্থতা নিরাময় করা যায়।

২) বুনিয়াদি ফিকহ (আইনশাস্ত্র): নামায, কোরআন তেলাওয়াত, যাকাত (দান-সদকা করা), রোজা ও হজ্জের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাস’আলা জানাটাও প্রত্যেক মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক। এছাড়াও ইসলামের মৌলিক পরিচিত, বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান রাখাটাও জরুরী। যেমন বড় বড় গুনাহের কাজ এবং এমন কথা বা কাজ যা আপনাকে ইসলাম থেকে সরিয়ে দিতে পারে। কারও জন্য আরও কিছু বিষয় জানা জরুরী হতে পারে যেমন চিকিত্সা ক্ষেত্রে যারা রয়েছেন তাদের জন্য চিকিত্সা সম্পর্কিত মাস’আলা, ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেনের ক্ষেত্রে হারাম হালালের নীতি ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান রাখাটাও জরুরী।

৩) সন্দেহ অপসারণ: যেসকল জিনিস একজন মুসলিমের ঈমান নষ্ট করতে পারে তা জানাও একজন মুসলিমের জন্য জরুরী। এটি ব্যক্তি বিশেষ আলাদা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে বেশি প্রয়োজন নাও হতে পারে, আবার কিছু লোকের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলিতে বিস্তৃত অধ্যয়ন প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একজন নতুন মুসলিম যিনি খ্রিস্টান ত্যাগ করছেন খ্রিস্টধর্মের গঠনমূলক সমালোচনা তার জন্য আরও বেশি প্রয়োজন হতে পারে এবং যে মুসলমান নাস্তিকতার কারণে সন্দেহের মুখোমুখি হন, তাকে ইসলামের মর্যাদা সম্বোধনকারী বিষয়গুলিতে আরও অধ্যয়ন করা প্রয়োজন হতে পারে। সর্বজনীন দর্শন, প্রাচ্যবিদদের সমালোচনা বা ইসলামী নীতিশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব জানার জন্য বেশিরভাগ মুসলিমের কয়েকটি ইউটিউব ভিডিও, নিবন্ধ এবং কখনও কখনও বই পড়াও যথেষ্ট হতে পারে।

এসবের পরে অবগত মুসলিমরা যা কিছু শিখবে তা হবে অতিরিক্ত। যাইহোক, একজন অবগত মুসলিমকে তাদের ঈমানকে আরও শক্তিশালী করতে আরবী শেখা, কুরআন মুখস্থ করা, কুরআনের অর্থ বুঝা এবং ইসলামের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার চেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে।

অনলাইনে শিক্ষাঃ

অবগত মুসলিমরা যেভাবে এটি সম্পাদন করে চলেছে তা আলহামদুলিল্লাহ আজকাল খুবই সহজ হয়ে গেছে অনলাইনে প্রচুর ইসলামিক আলোচনা, ইসলামিক টিভি অনুষ্ঠান, ইসলামিক সাহিত্য,  এবং মসজিদে অনুষ্ঠান, ক্লাস এবং দাওয়াহ এর আধিক্যের কারণে। শিক্ষক থাকারও তেমন প্রয়োজন নেই, যদিও শিক্ষক থাকলে অনশ্যই আরও ভাল, বিশেষত যদি অবগত মুসলিমের কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি থাকে। যাকে আপনি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন এমন কারো সাথে পরিচয় থাকাটা বাঞ্ছনীয়; এটি হতে পারেন একজন মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট বা স্কলার।

বলা বাহুল্য, অবগত মুসলিমদের জন্য এটা বাধ্যতামূলক যে, তারা যা শিখবেন তা যেকোনো মূল্যে আমলে রুপান্তরিত করে তা অনুশীলন করবেন। সময়ের সাথে ক্রমবর্ধমানভাবে অন্যান্য আমলও বৃদ্ধি করবেন। অবগত মুসলিম যদি অমুসলিম কোনো দেশে বাস করেন তবে অতিরিক্ত ইবাদতের চেয়ে স্থানীয় মসজিদ, দাতব্য সংস্থা বা অন্যান্য ধর্মীয় সংস্থার মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ততা অর্জন করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।