ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত ১০টি ভুল ধারণা (২য় পর্ব)

dreamstime_s_50047108

দ্বিতীয় পর্ব 

৪) ইসলাম অন্যান্য বিশ্বাস ও চিন্তাধারাকে সহ্য করে না

পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে ধারণা করা হয়, অন্য ধর্মের প্রতি ইসলাম সম্পূর্ণরূপে অসহিষ্ণু। ইসলাম মুসলিমদের  অন্য ধর্মের লোকদের হত্যা করার শিক্ষা প্রদান করে থাকে। কিন্তু বাস্তবে ইসলামের শিক্ষা এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, কেউ যদি ইসলামী রাষ্ট্রে কোনো জিম্মি(নিরাপত্তার অধীন) অমুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করে তবে সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না বলে হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে।

৫) ইসলাম কেবল ১৪০০ বছর আগে শুরু হয়েছে

ইসলাম শব্দের অর্থ আনুগত্য করা, আল্লাহর ইচ্ছার অধীন হওয়া এবং আল্লাহর ইচ্ছা অনুসারে জীবনযাপন করে শান্তি ও সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত হওয়া। আদম(আঃ) থেকে শুরু করে সকল নবীই ইসলামের দাওয়াত নিয়েই এসেছিলন। সকল নবীদের দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু একই ছিল। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন, “আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তাকে এ আদেশই দিয়েছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।” (আল কুরআন-২১:২৫)

রাসূল সালাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম যে, সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত রাসূল সে সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, “আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না।” (আল কুরআন-৩৪:২৮)

আর ইসলামই যে আলাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন সে সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, “আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে তা কখনই গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (আল কুরআন-৩:৮৫)

৬) মুসলমানরা ঈসা(আঃ)-কে বিশ্বাস করে না

মুসলমানরা সকল নবীকে ভালোবাসে ও প্রত্যেকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে; কারণ কোনো একজন নবীকে অবিশ্বাস করা মানে ইসলামকেই অস্বীকার করা। সুতরাং, মুসলমানরা ঈসা(আঃ) কে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে। কিন্তু মুসলানরা অনুসরণীয় নবী হিসেবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে মানে। কারণ, তিনিই শেষ নবী এবং কুরআনে তাকেই অনুসরণের জন্য মুসলমানদের আহ্বান করা হয়েছে। 

মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে, কিয়ামতের পূর্বে ঈসা(আঃ) আবার দুনিয়াতে আগমন করবেন এবং স্বাভাবিকভাবে মৃত্যবরণ করবেন। মুসলমানরা খ্রিষ্টানদের মত ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করে না; বরং ত্রিত্ববাদকে কুফরী ও শিরকী বলে।

৭) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন লিখেছেন

এই দাবিটি কুরআন অবতরণের সময় মক্কার মুশরিকরাও করত। কিন্তু কুরআনে এই দাবিটি পরিষ্কারভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। “ যখন তাদেরকে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনানো হয়, তখন সত্য আগমন করার পর কাফেররা বলে, এ তো প্রকাশ্য জাদু। তারা কি বলতে চায় যে, রাসূল নিজেই তা রচনা করেছে? বলুন, আমি যদি তা রচনা করি তাহলে আল্লাহর শাস্তি থেকে তোমরা আমাকে কিছুতেই বাঁচাতে পারবে না। তোমরা এ সম্পর্কে যা আলোচনা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। আমার আর তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট, আর তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (আল কুরআন-৪৬:৭-৮)

এছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম পড়তে বা লিখতে অক্ষম ছিলেন। কুরআনেও আল্লাহ তা’আলা এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, “আপনি তো এর পূর্বে কোনো কিতাব পাঠ করেননি এবং স্বীয় হাত দ্বারা কোনো কিতাব লেখেননি। এরূপ হলে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।” (আল কুরআন-২৯:৪৮)

৮) অর্ধচন্দ্রাকার চিহ্ন ইসলামের প্রতীক

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বাধীন মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো প্রতীক ছিল না। কাফেলা ও সেনাবাহিনী শনাক্তকরণের জন্য পতাকা ব্যবহার করা হত। তবে সাধারণত এটি হত গাঢ় কালো বা সবুজ। এছাড়া মুসলিমদের কোনো প্রতীকি চিহ্ন নেই। অর্ধচন্দ্রাকার চিহ্ন ভুলভাবে ইসলামের প্রতীক হিসেবে সমাজে প্রসার লাভ করেছে।

৯) মুসলমানরা চাঁদের দেবতার উপাসনা করে

এটি বড়ই হাস্যকর একটি ধারণা। যে ধর্ম শিরকের মূলোৎপাটন করতে দুনিয়াতে এসেছে সে ধর্মে কিভাবে আল্লাহ বাদে অন্য কারও উপাসনা হতে পারে। মুসলমানরা শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে এবং আল্লাহই এককভাবে সকল কিছুর স্রষ্টা।

১০) জিহাদ অর্থ পবিত্র যুদ্ধ

যুদ্ধের আরবি শব্দ জিহাদ নয়। জিহাদ শব্দের অর্থ সংগ্রাম করা। এটি প্রায়শই বিভিন্ন স্তরের বলে বর্ণনা করা হয়। প্রথমত, আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার প্রয়াসে নিজের আত্মার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ লড়াই-ও জিহাদ। দ্বিতীয়ত, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে মুসলিম সম্প্রদায়কে গড়ে তোলার লড়াই-ও জিহাদ। তৃতীয়ত, সামরিক বা সশস্ত্র সংগ্রাম-ও  জিহাদ। কুরআনে এই ৩য় টিকে ‘কিতাল’ শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

(সমাপ্ত)