ইহসান – আল্লাহর নিকটতম হওয়ার উপায়

warren-wong-J33qmCVr02A-unsplash
Fotoğraf: Warren Wong-Unsplash

আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

“অতএব, যে দান করে এবং খোদাভীরু হয়, এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে” (আল কুরআন-৯২:৫-৬)

উত্তম বিষয়টি(আল-হুসনা) হল জান্নাত।

ইহসানকে জান্নাত দ্বারা পুরস্কৃত করা হবে।

“আমি আমার মুত্তাকী বান্দাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি যা কোনো চোখ কখনও দেখেনি, কোনো কান কখনও শোনেনি এবং কোন মানুষের হৃদয়ও তা কল্পনা করতে পারেনি” (বুখারী, মুসলিম)

যারা পার্থিব জীবনে সৎকর্ম করে এটি তাদের প্রতিদান।

“যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ(জান্নাত) এবং রয়েছে আরও অনেক কিছু” (আল কুরআন-১০:২৬)

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে সেই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।

আলেমরা বলেছেন যে “আরও অনেক কিছু” অর্থ হল আল্লাহর সম্মানিত মুখের দিকে তাকানো।

“সেদিন অনেক মুখমন্ডল হবে উজ্জ্বল। তারা তাদের পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে” (আল কুরআন-৭৫:২২-২৩)

আল্লাহ বলেছেনঃ

“যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য উত্তম পুরষ্কার(অর্থাৎ, জান্নাত)”

এখানে ‘সৎকর্ম’ বলতে পার্থিব জীবনে যে কাজগুলি করা হয় সেগুলিকে বোঝানো হয়েছে।

পৃথিবীতে একটি জান্নাত রয়েছে এবং আখিরাতে একটি জান্নাত থাকবে। যে পৃথিবীর জান্নাত উপলব্ধি করতে পারে না সে আখিরাতেও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন না। নিম্নলিখিত আয়াতটি এই বিষয়টি প্রমাণ করেঃ

“অতঃপর তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। (অর্থাৎ তারা জান্নাতে তাদের জায়গাগুলি জানবে যেমনটা তারা পৃথিবীতে তাদের আবাসস্থলকে জানত)” (আল কুরআন-৪৭:৬)

তারা পার্থিব জীবনে এর স্বাদ গ্রহণ করেছিল।

সবকিছুই আল্লাহ পরিচাললা করেন, কিন্তু পরীক্ষা নেওয়া হয় মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার জন্যঃ

মুমিনেরর হৃদয় প্রশান্তি, সুখ এবং নির্মলতায় পরিপূর্ণ থাকে।

আল্লাহ বলেনঃ

“যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন যে, কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ?”(আল কুরআন-৬৭:২)

আল্লাহ তা’আলা মানুষকে পরীক্ষা করেন। অতঃপর যারা মুহসিন আল্লাহ তাদেরকে পুরষ্কৃত করেন।

“… এবং সৎকর্মশীলদের জন্য বৃদ্ধি করা হবে (পুরষ্কার)” (আল কুরআন-২:৫৮)

আপনি পিতা, শিক্ষক, অধ্যাপক, আইনজীবী বা ডাক্তার যাই হোন না কেন আপনাকে মুহসিন হতে হবে যা আপনাকে খাঁটি, সৎ, সত্য-মনের এবং সুন্দর করে তুলবে। সুতরাং, প্রতিটি মুহসিন ব্যক্তিই একজন উত্তম উদাহরণ হবে এবং সেই অনুসারে সে দ্বিগুণ পুরষ্কার পাবে, একটি তাঁর মহৎ বৈশিষ্ট্যের জন্য এবং অন্যটি তাঁর পদক্ষেপ অনুসরণকারীদের জন্য। আল্লাহ বলেনঃ

“তোমরা যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা কর, তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে আদর্শ(উদাহরণ) রয়েছে” (আল কুরআন-৬০:৬)

আপনি যদি ভাল কাজ করেন এবং লোকেরা সেটি অনুসরণ করে তবে আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কৃত করা হবে।

ইহসান মধ্যপন্থায় হওয়া উচিতঃ

আল্লাহ বলেনঃ

“আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না” (আল কুরআন-২:১৯৫)

আপনি যদি আপনার সমুদয় সম্পদ ব্যয় করে দেন তবে আপনি নিজেকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করলেন।

এছাড়াও, আপনি যদি কিছুই ব্যয় না করেন তাহলেও আপনি নিজেকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করলেন। সুতরাং, ইহসান হচ্ছে এই দুটির মাঝামাঝি।

এ আয়াতে ইহসান হল পরিমিত ব্যয় করা।

“তুমি একেবারে কৃপণও হয়োনা আবার একেবারে মুক্ত হস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি নিন্দনীয় হবে এবং নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে” (আল কুরআন-১৭:২৯)

“আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে-হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করো এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করো ” (আল কুরআন-২:২০১)

কিছু আলেম বলেছেন, “পার্থিব জীবনের কল্যাণ হল-নেককার স্ত্রী, যার দিকে তাকালে স্বামী প্রশান্তি পায়, স্বামীর অনুপস্থিতিতে সে তার ইজ্জতের হেফাযত করে এবং স্বামীর প্রতিটি কথার আনুগত্য করে।”

“নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী” (আল কুরআন-৭:৫৬)

আপনার সৎকর্মের সর্বাধিক প্রেরণা হল আল্লাহর রহমত লাভ, কারণ এটিই চূড়ান্ত সফলতা। আল্লাহ তা’আলার করুণার অর্থ হল আপনি স্থিতিশীল, সুখী, সুরক্ষিত, সন্তুষ্ট, জ্ঞানী এবং আপনার শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবার, একজন নেককার স্ত্রী এবং কর্তব্যশীল সন্তান রয়েছে।

ইহসান হল একটি বিস্তৃত দরজা এবং আল্লাহর নিকটতম হওয়ার উপায়।

আমি আরও একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাইঃ

“আপন পালনকর্তার প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন উত্তম পন্থায়” (আল কুরআন-১৬:১২৫)

সুতরাং, আপনি যখন দ্বীনের পথে কাউকে আহ্বান করবেন তখন আপনার সুন্দর শব্দ ব্যবহার করা উচিত, এবং বিতর্ক করার ক্ষেত্রে শব্দ নির্বাচন করার জন্য আপনাকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।

ইহসান হল সংক্ষিপ্ততম পথ এবং বিস্তৃত দরজা যার মধ্য দিয়ে আমরা আল্লাহর কাছে পৌঁছে যাই।

যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার(অর্থাৎ জান্নাত) এবং রয়েছে আরও অনেক কিছু।

নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহসিন(সৎকর্মশীলদের)কে পছন্দ করেন।