ঈমান ও আধুনিকতার মধ্যে কীভাবে একজন মুসলিম যুবক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে?

dreamstime_s_13221039

আমরা এমন এক কঠিন সময়ে অতিবাহিত করছি যখন অনেক বেশি সংখ্যক মুসলিম যুবক ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কোনো ধর্মের সাথে সংযুক্ত থাকাটা তাদের কাছে রীতিমত একটা লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা কীভাবে আমাদের মুসলিম যুবকদের এই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনব? তারা কীভাবে ইসলাম, ঈমান এবং আধুনিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: বর্তমানে যুবকরা ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হচ্ছে। তারা মনে করছে যে, ইসলামের সাথে সংযুক্তি তাদেরকে প্রান্তিক বানিয়ে দিবে। তারা হতাশ হয়ে পড়েছে। আল্লাহকে একমাত্র সহায় হিসেবে কল্পনা করতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। দুনিয়ার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে তারা তাদের সমবয়সীদেরকে দেখছে, অমুসলিমদেরকে দেখছে। আর তাদের থেকে ধর্মহীনতার শিক্ষা পাচ্ছে। আর সেটিরই অনুসরণ করছে। এটাই বর্তমানে ইসলামের জন্য সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি। কারণ আজকের যুবসমাজই আগামী দিনে সমাজের কর্ণধার হবে। তাই তাদেরকে ধর্মহীনতার হাত থেকে বাঁচাতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মুসলিম যুবকরা যেসকল সমস্যার সম্মুখীন হয় তার সারসংক্ষেপ

মুসলিম যুবকদের যেসকল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অমুসলিম বন্ধুদের থেকে আসা চাপ, মিডিয়ায় মুসলিমদেরকে নিয়ে প্রচারিত অসত্য বিভিন্ন তথ্য; যার বেশিরভাগই তৈরি করা হয় মুসলিমদের ঈমানের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করার জন্য।

যুবকদের ইসলাম থেকে দূরে সরানোর জন্য আরেকটি যে বিষয়টি দায়ী তা আমাদের নিজেদের মাঝেই বিদ্যমান আছে। আমরা আমাদের যুবকদের মাঝে ইসলামের শিক্ষাকে পরিপূর্ণরূপে তুলে ধরতে পারিনি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী বইয়ের এখনও মানসম্মত অনুবাদ সম্পন্ন হয়নি অথবা মানসম্মত ইসলামী বই যুবসমাজকে উপহার দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমরা আরও ব্যর্থ হয়েছি ইসলামী শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার সাথে সমন্বয় সাধনে। যার ফলস্বরূপ যুবকরা ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণরূপে না জানতে পেরে বিজাতীদের আদর্শকে অনুসরণ করেছে।

মিডিয়ার ইস্যু

ইসলামের বিকৃত উপস্থাপনে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে মিডিয়া। মিডিয়া বিভিন্ন অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করছে। এদিক থেকে সোশ্যাল মিডিয়াও পিছিয়ে নেই।

আর মুসলিম যুবকদের উপর এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বিশেষত ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক প্রভৃতির মধ্যে ডুবে থেকে প্রকৃত ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহও তারা হারিয়ে ফেলেছে।

যার ফলশ্রুতিতে, বর্তমানে যুবকরা ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হচ্ছে। তারা মনে করছে যে, ইসলামের সাথে সংযুক্তি তাদেরকে প্রান্তিক বানিয়ে দিবে। তারা হতাশ হয়ে পড়েছে। আল্লাহকে একমাত্র সহায় হিসেবে কল্পনা করতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। দুনিয়ার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে তারা তাদের সমবয়সীদেরকে দেখছে, অমুসলিমদেরকে দেখছে। আর তাদের থেকে ধর্মহীনতার শিক্ষা পাচ্ছে। আর এটাই ইসলামের জন্য অনেক বড় একটি ট্রাজেডি।

এখন কি করণীয়

যুবকদের ইসলামের দিকে আগ্রহী করে তুলতে আমাদের মসজিদগুলি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। মসজিদে মুসলিমরা ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও জু’মআর নামাজে শরীক হয়। অনেকে ৫ ওয়াক্ত নামাজে শরীক না হলেও অন্তত জু’মআর  নামাজে শরীক হয়। সুতরাং, জু’মআর আগে বা পরে এই বিষয়ে মসজিদের ইমামরা গুরুত্বপূর্ণ তাকরীর পেশ করতে পারেন। ইসলামকে সুন্দররূপে সমাজের মাঝে তুলে ধরতে পারেন। মাঝে মাঝে কিছু সেমিনার আয়োজন করেও এটি করা সম্ভব। তবে সেমিনারে সবার অংশগ্রহণের জন্য যাদের মধ্যে কিছু দ্বীনি বুঝ আছে তাদেরকেই উদ্যোগী হতে হবে। 

সুতরাং, মসজিদভিত্তিক হোক বা সেমিনার আয়োজন করে হোক যুব সমাজকে ইসলাম সম্পর্কে জানাতে হবে। বিভিন্ন মানসম্মত লেখনীর মাধ্যমে তাদের কাছে ইসলামের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে হবে।

আর সবচেয়ে বেশি যেটি যুবকদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে সেটি হল মিডিয়া। তাই মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ইসলামকে যুব সমাজের মাঝে তুলে ধরার জন্যও আমাদেরকে প্রচেষ্টা করতে হবে। কারণ, বেশিরভাগ যুবকদের কার্যক্রম বর্তমানকালে মিডিয়া কেন্দ্রিক। মিডিয়া থেকে প্রকাশিত তথ্যের উপরই তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ভরশীল। তাই মিডিয়ার সুষ্ঠু ব্যবহার এক্ষেত্রে খুবই ফলপ্রসু হবে বলে আশা করা যায়। তবে দুঃখের বিষয় হলেও এটি সত্য যে, মিডিয়া বর্তমানে ইসলামবিদ্বেষীদেরই দখলে। চাক্ষুষ বিষয়গুলি দেখেও আমাদের  মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে না। তাই খুবই প্রয়োজন দ্বীনি বিষয়ে যারা সচেতন তাদের এ সকল বিষয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ। তাহলেই ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা যুবকদের মাঝে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। আর এতে প্রযুক্তিরও সদ্ব্যাবহার হবে। 

আল্লাহই ভাল জানেন।

আশা করি এই নিবন্ধটি ইসলাম ও আধুনিকতার মাঝে সমন্বয় সাধনে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।