উত্তর আমেরিকার প্রথম ইসলামিক মিউজিয়ামটি কেমন?

Aga Khan Museum in Toronto, Ontario at twilight with pond reflections.
Aga Khan Museum in Toronto, Ontario at twilight with pond reflections. Photo 78790481 © - Dreamstime.com

আজ থেকে ছ’বছর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে আমেরিকার টরন্টো শহর এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। একথা এখন সকলেই জানে যে সারা বিশ্বে ইসলামিক সাহিত্য, সংস্কৃতি আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ছে। ঠিক সেই কারণেই টরন্টো শহরে উদ্বোধন হয় আগা খান ইসলামিক মিউজিয়ামের, উত্তর আমেরিকায় এই ধরনের মিউজিয়াম এই প্রথম। 

কীভাবে পৌঁছবেন এখানে?

মিউজিয়ামটি ইসমাইলি সেন্টারের ঠিক পাশেই অবস্থিত। এই ইসমাইলি সেন্টারের স্থপতি বিখ্যাত ভারতীয় স্থাপত্যবিদ চার্লস কোরেয়া। এই ইসমাইলি সেন্টারেই এই শহরের মুসলমানরা প্রার্থনা করতে আসেন। উপাসনাগৃহে অপূর্ব সুন্দর কাচের ডোম  রয়েছে। কোরেয়ার মতে, আধুনিক ও ঐতিহ্য মিশিয়ে মিলিয়ে তিনি কাজ করতে চান। 

আগা খান মিউজিয়াম ও ইসমাইলি সেন্টারটিকে যুক্ত করেছে একটি সুন্দর পার্ক। এই পার্কটির স্থপতি লেবাননের স্থাপত্যবিদ ভ্লাদিমির জুভোরিক। পার্কটি মূলত পারস্যের ‘চার বাগ’- এর অনুকরণে  তৈরি। অনেকে বলেন, চার বাগ নাকি মূলত কুরআনে বর্ণিত পৃথিবীতে নেমে আসা স্বর্গের একটি রূপ। 

টরন্টো শহরের পরিবেশ এমনিতে বেশ সুন্দর। একটি সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের আভাস রয়েছে। শহরটিতে এমনিতে  ১২৫ টি  মিউজিয়াম রয়েছে। এছাড়া বিমানযোগে মাত্র ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই ইউএসএ পৌঁছে যাওয়া যায়। ফলে উত্তর আমেরিকার প্রথম ইসলামিক মিউজিয়াম গড়ে ওঠার পিছনে এই জায়গাটিরও যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। আগা খানের ব্রেন চাইল্ড এই মিউজিয়াম, কিন্তু সম্পূর্ণ  বিষয়টি দাঁড়িয়ে থেকে তৈরি করেছেন মাকি নামক একজন স্থপতি। সম্পূর্ণ মিউজিয়ামে কাচ, স্ফটিক ও আলোর অভূতপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায়। বেশ ঝকঝকে ও আধুনিক তার উপস্থাপনা। বিশেষ করে মিউজিয়ামের সামনের অংশে আলোর কারূকার্য দেখতে অপূর্ব , অজস্র পর্যটক সেই আলো দেখে প্রশংসা করে গিয়েছেন। 

কী কী রয়েছে মিউজিয়ামে?

কম করে ১০০০টি প্রাচীন শিল্পকলা রয়েছে এখানে। মূলত দশম শতকের জিনিস পত্রই বেশি দেখা যায়। ক্যালিগ্রাফি, সেরামিক, ধাতুর জিনিস, প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, প্রায় ২৫০ খানা প্রাচীন কুর আন রাখা হয়েছে মিউজিয়ামটিতে।
চতুর্দশ শতকের একটি ব্রোঞ্জের জ্যোতির্বিজ্ঞানের যন্ত্রও রাখা রয়েছে এখানে, এটি দক্ষিণ স্পেন  থেকে পাওয়া  । ইবন সিনা বা আভিসেনার চিকিতসাবিজ্ঞান্রের কিছু খণ্ড , অজস্র ক্ষুদ্র  বা মিনিয়েচার চিত্রশিল্প, এই চিত্রশিল্পগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৬ শতকের পারস্যের ‘বুক অফ কিংস’ থেকে প্রাপ্ত ছবি। এছাড়া দশম শতকের ‘দেওয়ান ই হাফেজ’ ছবিগুলিও এখানে রয়েছে। 

মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের মতে, এখানকার মূল আকর্ষণ বৈচিত্র্য। নবম শতক থেকেই ইসলামের স্থাপত্যবিদ্যা ও সংস্কৃতি আঞ্চলিক প্রভাবে প্রভাবিত হতে শুরু করেছে। এর ফলেই এক এক জায়গায় এক এক তফাত লক্ষ্য করা যায়।

আগা খান ট্রাস্ট অফ কালচারের লুই মনরিয়েল মনে করেন, সামাজিক মেলামেশা, আদান প্রদান ধীরে ধীরে ইসলামের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। সেই খান থেকেই একটা কালচারাল মেল্টিং পটের সূচনা। সেভাবে দেখতে গেলে , মুঘলদের সঙ্গে স্পেনের মুর অঞ্চলের মুসলমানদের কিছু অমিল রয়েছে। আবার আরব ও পারস্যের কিছু অমিল রয়েছে। 

কুর আনকে নিরাকার মনে হলেও ইসলামে ছবি আঁকার চল বহুদিনের। মানুষ , জন্তু, ড্রাগন প্রভৃতি নানা ছবি আকা হয়েছে সেই নবম শতক থেকে। 

মিউজিয়ামের তিনতলায় মূলত প্রদর্শনী হয়। এছাড়াও এখানে আর্ট গ্যালারি রয়েছে। এই সমস্ত আর্ট গ্যালারিতে বিবিধ ছবি রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিখ্যাত ছবি হল ‘কোর্ট অফ কেয়োমারস’, সোনা রূপা প্রভূত দামী ধাতু ব্যবহার করে এই ছবি আঁকা হয়েছে।