SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

উম্মুল মু’মিনীন মায়মূনা বিনতে হারিস (রাযিঃ) – উচ্চ নৈতিকতা সম্পন্ন একজন মহিলা

আকীদাহ ১৫ ডিসে. ২০২০
জানা-অজানা
মায়মূনা বিনতে হারিস

যেভাবে হলেন উম্মুল মু’মিনীন মায়মূনা বিনতে হারিস

হযরত হাফসা(রাযিঃ)-এর পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মায়মূনা বিনতে হারিস(রাযিঃ)-কে বিবাহ করেন। ইনিই সেই মহিলা যাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষ বিবাহ করেন।

রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হযরত মায়মূনা(রাযিঃ)-এর বিবাহ সম্পন্ন হয় হযরত আব্বাস(রাযিঃ)-এর অভিভাবকত্বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরী সপ্তম সনে উমারাতুল কাযা আদায়ের উদ্দেশ্যে যখন মক্কায় রওয়ানা হন, তখন হযরত জাফর ইবনে আবী তালিব(রাযিঃ)-কে বিয়ের পয়গামসহ মক্কায় অবস্থানরত হযরত মায়মূনা(রাযিঃ)-এর নিকট পাঠান। তিনি ভন্নিপতি হযরত আব্বাস(রাযিঃ)-কে উকিল নিয়োগের মাধ্যমে এ বিবাহ সম্পন্ন করেন।

আল্লাহর রাসূল উমরা আদায়ের পর মদিনা ফেরার পথে মক্কা হতে ছয় থেকে বারো মাইল দূরে ‘সারাফ’ নামক স্থানে যাত্রাবিরতি করেন। এবং এখানেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মায়মুনা(রাযিঃ) এর বাসর হয়।

হুদায়বিয়ার চুক্তি অনুযায়ী মক্কায় মুসলমানদের অবস্থানের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে ‘সারাফ’ নামক স্থানে রাত্রিযাপন করতে হয়।

মায়মূনা বিনতে হারিস -এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও দূরদর্শিতা

হযরত আয়িশা(রাযিঃ) হযরত মায়মূনা(রাযিঃ)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:

“মায়মূনা আমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করতেন এবং তিনিই সবচেয়ে বেশি আত্মীয়তার সম্পর্ককে অটুট রাখতেন।”

তিনি খুব পরিচ্ছন্ন ঈমান ও শুদ্ধ ধ্যান-ধারণার মহিলা ছিলেন। বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে তাঁর স্বচ্ছ চিন্তা-বিশ্বাসের স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন, একবার এক মহিলা অসুস্থ অবস্থায় মান্নত করেছিলেন যে, আল্লাহ তাকে সুস্থতা দান করলে তিনি বায়তুল মাকদিসে গিয়ে নামায আদায় করবেন। আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এখন তিনি মান্নত পূর্ণ করতে বায়তুল মাকদিসে যাবেন, এ উদ্দেশ্যে হযরত মায়মূনার নিকট বিদায় নিতে আসেন। হযরত মায়মূনা(রাযিঃ) তাঁকে বুঝিয়ে বললেন যে, মসজিদে নবীবীতে নামায আদায়ের সাওয়াব অন্য মসজিদের চেয়ে হাজার গুণ বেশি। সুতরাং তুমি সেখানে না গিয়ে এখানেই থাক।

হযরত মায়মূনা(রাযিঃ)-এর মধ্যে দাস মুক্ত করার প্রবল আগ্রহ ছিল। একবার একটি দাসীকে মুক্তি দিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বলেন, তুমি এতে অনেক সাওয়াব অর্জন করেছো।

শরীয়তের হুকুম আহকামের পাবন্দী

শরীয়াতের আদেশ-নিষেধের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। এ ব্যাপারে কখনই কোনোরকম নমনীয়তা তাঁর মধ্যে ছিল না। একবার তাঁর এক নিকট আত্মীয় তাঁর সাথে দেখা করতে আসে। তার মুখ দিয়ে তখন মদের গন্ধ বের হচ্ছিল। তিনি লোকটিকে খুব শক্ত ধমক দেন। এবং মদ ত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁর কাছে আসতে কঠোরভাবে নিষেধ করে দেন।

একবার হযরত ইবনে আব্বাস(রাযিঃ) তাঁর খালা হযরত মায়মূনা(রাযিঃ)-এর সাথে দেখা করতে আসেন। তাঁর মথার চুল ও দাড়ি অবিন্যস্ত দেখে তিনি প্রশ্ন করেন, বেটা, তোমার এ অবস্থা কেন? ইবন আববাস বললেন, উম্মু আম্মারের বর্তমানে মাসিক অবস্থা চলছে। সেই আমার কেশ পরিপাটি করে থাকে। হযরত মায়মূনা (রা) বললেন, বাহ, খুব ভালো! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকতেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন, যদিও আমরা এই বিশেষ অবস্থায় থাকতাম। সেই অবস্থাতেই মাদুর উঠিয়ে আমরা মসজিদে রেখে আসতাম। বেটা! হাতে কি কিছু থাকে?

হাদিসের খেদমত

হযরত মায়মূনা(রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৪৬টি, মতান্তরে ৭৬টি। একটি বুখারী ও পাঁচটি মুসলিম স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া অন্যান্য হাদিস বিভিন্ন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তাঁর থেকে বর্নিত কিছু হাদীসের মাধ্যমে শরী’আতের গুঢ়তত্ত্ব সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।

মৃত্যু

হযরত মায়মূনা(রাযিঃ)-এর মৃত্যুসন নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য আছে। বিভিন্ন বর্ণনায় হিজরী ৫১, ৬১, ৬৩ ও ৬৬ সনের কথা এসেছে। তবে ইবন হাজারসহ অধিকাংশ সীরাত বিশেষজ্ঞ হিজরী ৫১ সনের মতটিই সঠিক বলে মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর জীবনের এটা এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা যে, যে স্থানটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর বাসর হয়, ঠিক সেখানেই তিনি সমাহিত হন।

তিনি হজ্জ আদায়ের জন্য মক্কায় যান। হজ্জ শেষে সেখানেই ইনতিকাল করেন। হযরত ইবনে আববাসের নির্দেশে তাঁর মরদেহ কাঁধে করে ‘সারাফে’ নিয়ে আসা হয় এবং সেখানেই দাফন করা হয়।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস(রাযিঃ) তাঁর জানাযার নামায পড়ান। যখন তাঁর মৃতদেহকে খাটিয়ায় করে উঠানো হয় তখন হযরত ইবন আববাস (রাযিঃ) বলে উঠেন, “সাবধান! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী তিনি। বেশি ঝাঁকি দিবে না। আদবের সাথে নিয়ে চলো। কারণ, তিনি তোমাদের মা (উম্মুল মু’মিনীন)”