SalamWebToday নিউজলেটার
সালামওয়েবটুডে থেকে সাপ্তাহিক নিবন্ধ পাওয়ার জন্য সাইন আপ করুন
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

উম্মুল মু’মিনীন সাফিয়্যা(রাযিঃ)–আল্লাহর রাসুলের নবম স্ত্রী

বিখ্যাত ২৩ ডিসে. ২০২০
জানা-অজানা
সাফিয়্যা(রাযিঃ)
Tengyart

উম্মুল মু’মিনীন সাফিয়্যা(রাযিঃ) বিনতে হুয়াই ছিলেন হযরত হারুন ইবনে ইমরান আ’লাইহিস সালামের বংশধর। এ কারণে তাঁকে সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই ইসরালিয়্যা বলা হয়।

মূলতঃ সাফিয়্যা(রাযিঃ)-এর আসল নাম যায়নাব। কিন্তু তিনি খায়বার যুদ্ধে গনীমাতের মাল হিসেবে মুসলমানদের অধিকারে আসেন এবং বণ্টনের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের ভাগে পড়েন। আর তৎকালীন আরবে নেতা অথবা বাদশার অংশের গনীমাতের মালকে ‘সাফিয়্যা’ বলা হতো। তাই সেখানে থেকেই তিনি সাফিয়্যা নামেই প্রসিদ্ধ হয়ে যান এবং তাঁর আসল নামটি হারিয়ে যায়।

রাসূলের সাথে বিবাহ

হিজরী ৭ম সনে মুসলমানরা খায়বরের যুদ্ধে জয়লাভ করলে সাফিয়্যা(রাযিঃ) গণিমত হিসেবে মুসলমানদের হাতে বন্দি হন। তিনি গোত্রপ্রধানের মেয়ে হওয়ায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে মুক্ত করে বিবাহ করে নেন। বুখারী শরীফের একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বার অভিযান শেষ করে মদীনায় ফেরার পথে ‘সাবা’ নামক স্থানে যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে উম্মে সুলাইম(রাযিঃ) সাফিয়্যা(রাযিঃ)-এর মাথায় চিরুনী করেন, কাপড় পাল্টান এবং তার দেহে সৃগন্ধি লাগান। তারপর তাকে নবীজীর কাছে পাঠানো হয়। সেখানে বাসর হয় এবং ওলীমাও হয়। কেউ খেজুর, কেউ চর্বি, কেউ হাইস অর্থাৎ যার কাছে খাদ্যদ্রব্য যা ছিল তাই নিয়ে আসে। সকলের খাবার একত্র হলে সবাই এক সাথে বসে আহার করেন। এটাই ছিল মূলত ওলীমা।

রাসূলের সাথে পারস্পরিক মহব্বত

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সাফিয়্যা(রাযিঃ)-এর ছিল অন্তহীন ভালোবাসা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হযরত আয়িশা(রাযিঃ)-এর গৃহে অন্তিম রোগশয্যায় তখন একদিন সাফিয়্যা(রাযিঃ) সহ অন্য বিবিগণ নবীজীকে দেখতে ও সেবা করতে একত্র হন। হযরত সাফিয়্যা(রাযিঃ) অত্যন্ত ব্যথা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বললেনঃ “হে আল্লাহর নবী! আপনার সব কষ্ট যদি আমিই ভোগ করতাম, তাহলেই আমি সন্তুষ্ট হতাম।” তাঁর এমন কথা শুনে রাসূলের অন্যান্য স্ত্রীগণ একে অপরের দিকে এমন ভাবে তাকাতে লাগলেন যেন, তাঁরা তাঁর কথায় সন্দেহ করছেন। তখন আল্লাহর রাসূল বললেন, “আল্লাহর কসম! সে সত্য বলেছে।”

সাফিয়্যা(রাযিঃ)-এর প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসার অবস্থাও ঠিক এরকম ছিল। সাফিয়্যা(রাযিঃ)-এর সঙ্গ তিনি পছন্দ করতেন এবং সব সময় তাঁকে খুশী রাখার চেষ্টা করতেন। নবীজী সাফিয়্যা(রাযিঃ) সহ অন্যান্য স্ত্রীগণকে সাথে নিয়ে হজ্জের সফরে বের হন। পথিমধ্যে সাফিয়্যা(রাযিঃ)-এর বাহন উটটি অসুস্থ হয়ে বসে পড়ে। সাফিয়্যা(রাযিঃ) এতে ভয় পেয়ে যান এবং কান্না শুরু করেন। খবর পেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে আসেন এবং নিজের পবিত্র হাতে তাঁর চোখের পানি মুছে দেন।

তিরস্কারের সম্মুখীন

কিন্তু এতেও তাঁর কান্না না থেমে আরও বেড়ে যায়। উপায়ান্তর না দেখে নবীজী সকলকে নিয়ে সেখানে যাত্রাবিরতি করেন। সন্ধ্যার সময় তাঁর অপর স্ত্রী যায়নাব বিনত জাহাশ(রাযিঃ)-কে নবীজী বলেন, ‘যায়নাব, তুমি সাফিয়্যাকে একটি উট দিয়ে দাও।’ হযরত যায়নাব(রাযিঃ) প্রতিউত্তরে বলেন, “আমি উট দিব এই ইহুদী মহিলাকে?” তাঁর এমন জবাবে আল্লাহর রাসূল খুবই অসন্তুষ্ট হন এবং ২/৩ মাস যাবৎ যায়নাব(রাযিঃ)-এর সাথে কথা বলা এবং নিকটে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন। অবশেষে আয়িশা(রাযিঃ)-এর মধ্যস্থতায় অতি কষ্টে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ অসন্তুষ্টি দূর হয়।

একবার আয়িশা (রাযিঃ) সাফিয়্যা(রাযিঃ)-এর দৈনিক গঠন সম্পর্কে মন্তব্য করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “তুমি এমন একটি কথা বলেছো, যদি তাকে সমুদ্রের পানিতে ফেলা হয় তবে তা সমুদ্রের পানির রং-ও পরিবর্তন করে ফেলবে।”

চারিত্রিক গুণাবলি

উম্মুল মু’মিনীন সাফিয়্যা(রাযিঃ) ছিলেন খুবই দূঢ়চিত্তের মহিলা। তিনি জীবনে কখনও অধৈর্য্য হয়েছেন এমন কথা জানা যায় না।

তিনি স্বভাবগতভাবেই ছিলেন অত্যন্ত উদার ও দানশীল। যে ঘরে তিনি বসবাস করতেন জীবদ্দশায় তিনি তা দান করে গিয়েছিলেন। উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে মদীনায় আসার পর তিনি নিজের কানের সোনার দু’টি দুলও হযরত ফাতিমা(রাযিঃ) ও রাসূলের আরেকজন মেয়ের মধ্যে ভাগ করে দেন।

সকল সীরাত বিশেষজ্ঞগণ সাফিয়্যা(রাযিঃ)-এর নৈতিক গুণাবলীর আকুন্ঠ প্রশংসা করেছেন। আল্লামা ইবনে আবদিল বার বলেন, ‘সাফিয়্যা(রাযিঃ) ছিলেন ধৈর্যশীল, বুদ্ধিমতী ও বিদূষী নারী।’

ইবনুল আসীর বলেন, ‘তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমতী মহিলা।’

আল্লামা যাহাবী বলেন, ‘হযরত সাফিয়্যা(রাযিঃ) ছিলেন ভদ্র, বুদ্ধিমতি, উঁচু বংশীয়া, রূপবতী ও দীনদার মহিলা।’

মৃত্যু

হিজরী ৫০ সনের রমযান মাসে ৬০ বছর বয়সে হযরত সাফিয়্যা(রাযিঃ) মদীনায় ইনতিকাল করেন। সা‘ইদ ইবনুল আস(রাযিঃ) মতান্তরে মু’আবিয়া(রাযিঃ) তাঁর জানাযার নামায পড়ান। জান্নাতুল-বাকী গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।