এইডস ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরি করতে গিয়েই করোনার উৎপত্তি, দাবি

বিশ্ব Tamalika Basu ২০-এপ্রিল-২০২০
Virus design with hazmat suit doctor in background
© Buddhilakshan4 | Dreamstime.com

বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব সৃষ্টি করে চলা নতুন করোনাভাইরাস প্রকৃতির সৃষ্টি নাকি মানুষের সৃষ্টি- এমন বিতর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। এই ভাইরাস প্রকৃতির সৃষ্টি অর্থাৎ বাদুর থেকে এসেছে বলে চিন দাবি করলেও, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ আরো কয়েকটি দেশ মনে করে ভাইরাসটি চিনের গবেষণারে তৈরি করা হয়েছিল। চিনের দিকে সন্দেহের এই পাল্লা এবার আরো ভারী করলেন নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ফরাসি বিজ্ঞানী লুক মন্টাগনিয়ার। তিনি দাবি করেছেন, সার্স কোভ-২ ভাইরাসটি একটি গবেষণাগার থেকে এসেছে এবং এটি এইডস ভাইরাসের বিরুদ্ধে একটি ভ্যাকসিন তৈরির প্রয়াসের ফলাফল। মানে, উহানের গবেষণাগারে এইডসের একটি ভ্যাকসিন তৈরি করার সময় চিনের বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটি সৃষ্টি করেছেন।

ফ্রান্সের সিনিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এইচআইভি’র সহ-আবিষ্কারক অধ্যাপক মন্টাগনিয়ার বলেন, ‘করোনাভাইরাসের জিনোমে এইচআইভির উপাদানগুলোর উপস্থিতি, এমনকি ম্যালেরিয়ার জীবাণুর উপাদানগুলোও অত্যন্ত সন্দেহজনক।’ তিনি বলেন, ‘২০০০-এর দশকের গোড়ার দিক থেকে উহানের গবেষণাগার করোনাভাইরাসগুলো নিয়ে গবেষণা করে আসছে। এ বিষয়ে তাদের দক্ষতা রয়েছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ফক্স নিউজ বলেছেন, নতুন করোনাভাইরাসটি সম্ভবত চিনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির কোনো ইন্টার্ন এর মাধ্যমে ভুলবশত ছড়িয়েছে। নিউজ চ্যানেলটি জানিয়েছে, ভাইরাসটির প্রাথমিক সংক্রমণ বাদুর থেকে মানুষের মধ্যে ছিল। কিন্তু ‘রোগী শূন্য’ গবেষণাগারে এটি নিয়ে কাজ করা হয়েছিল। উহান শহরের গবেষণাগারের বাইরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে দেওয়ার আগে দুর্ঘটনাক্রমে একজন ল্যাব কর্মী সংক্রামিত হয়েছিল।

এইডস ভাইরাস আবিষ্কারের জন্য অধ্যাপক মন্টাগনিয়ারকে ২০০৮ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। তিনি তার সহকর্মী অধ্যাপক ফ্রাঙ্কোয়েজ ব্যারে-সিনৌসির সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন। করোনাভাইরাসের উৎস সম্পর্কে অধ্যাপক মন্টাগনিয়ারের নতুন এই দাবির সমালোচনা করেছেন তাঁর সহকর্মীসহ অন্যান্য বিজ্ঞানীরা।