এই অধ্যায়টি অনুপ্রেরণা হারানো মুসলিমদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য

ID 172652403 © Eakrin Rasadonyindee | Dreamstime.com
ID 172652403 © Eakrin Rasadonyindee | Dreamstime.com

এখানে একটি মাদানী সূরা নিয়ে আলোচনা করা হবে। বেশিরভাগ সাহাবীদের বর্ণনা অনুসারে, এই সূরাটি যখন নাযিল হয় তখন নবীজীর মদিনায় ইতোমধ্যে চার বছর চলছিল।

সুতরাং এই চার বছরে মুসলমানরা অনেক পথ পাড়ি দিয়েছে এবং এ সময়কালে তারা যে সকল সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে তার মধ্যে একটি হল সামগ্রিকভাবে অনুপ্রেরণায় কিছু ঘাটতি। আল্লাহ লক্ষ করলেন যে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে এখনও কিছু দুর্বলতা রয়েছে।

কিছু মানুষ ছিলেন যারা সবেমাত্র মুসলমান হয়েছেন। তারা বুঝতে পারছিলেন না যে, তারা কীভাবে নিজেকে গড়ে তুলবেন।

আরও কিছু ছিলেন যারা কপটতার রোগে ভুগছিলেন।

তবে আল্লাহ তা’আলা এখানে তাদের সবাইকে একত্রেই সম্বোধন করেছেন।

এই সূরাটির একটি সৌন্দর্য এই যে, এই সূরাটি যদিও মাদানী, তবে এতে ৬টি মাক্কী আয়াতও আছে।

“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবাই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী; প্রজ্ঞাময়।” (আল কুরআন ৫৭:১)

এই আয়াতটি আমাদেরকে আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

সাধারণত আল্লাহ তা’আলার পরিচয় নিয়ে মাক্কী আয়াতেই আলোচনা করা হয়েছে।

“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম” (আল কুরআন ৫৭:২)

হিজরতের চতুর্থ বর্ষের পরে, মুসলমানরা কি এগুলো ইতিমধ্যে জানত না?

এগুলি এমন আয়াত যা দেখে আপনি ভাববেন যে, আল্লাহ কুরাইশের কাফেরদের জন্য হয়ত এগুলো নাযিল করেছেন। তারা আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে, আকাশ ও পৃথিবী নিয়ে কখনও চিন্তা করে না।

আর মুসলমানরা এগুলি ইতিমধ্যে জানে। তবে আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করছেন এটি নিয়ে আপনি আবার একটু চিন্তা করুন।

সুতরাং আসুন শুরু করা যাক।

আল্লাহ জানেন যে, আমরা মুসলমান। কিন্তু তারপরও তিনি আমাদের এটি জানাচ্ছেন।

তিনিই আকাশ ও পৃথিবীর অধিপতি।

এর কারণ হল, আমরা জানার পরও তাঁর তসবীহ পাঠ করি না।

চূড়ান্ত কর্তৃত্ব তাঁরই

আমার কর্তৃত্ব কি যথেষ্ট নয় যে, তুমি এটিকে সম্মান কর না?

বুদ্ধিমান পদক্ষেপ

তুমি কেন বিশ্বাস কর না যে, আমি তোমাকে যে জিনিসগুলি করতে বলছি তা তোমার জন্য কল্যাণকর? আমার বিচারবুদ্ধিতে তোমার নির্ভরযোগ্যতা নেই কেন?

তিনি বলেনঃ

“আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই”

কেন তুমি তোমার শত্রুকে ভয় পাচ্ছ? তাদের হাতে অস্ত্রবল, অর্থবল ও শক্তি আছে এজন্য? এগুলো তোমার ক্ষতি করবে এটি ভাবছ?

আমার রাজ্যের বাইরে আকাশ ও পৃথিবীতে কোনোকিছুই নেই। সত্য এবং মিথ্যার মধ্যকার সমস্ত লড়াই আল্লাহর রাজত্বের মধ্যেই ঘটছে। তাহলে আল্লাহ ব্যতীত কেন অন্য কাউকে ভয় করতে হবে?

তুমি কি মৃত্যকে ভয় পাও? তিনি বলেনঃ

“তিনিই জীবন দেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন”

তাহলে আপনি জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে কেন এত উদ্বিগ্ন?

তিনি দেবেন এবং তিনি নেবেন কারণ এটি তো আপনার নয়। তিনিই আপনাকে সুযোগ দিয়েছেন এবং তিনিই তা গ্রহণ করবেন।

তিনি সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে আছেন।

তিনিই প্রথম এবং তিনিই শেষ।

এটির অনেকগুলি ব্যাখ্যা রয়েছে, তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে, প্রথম অগ্রাধিকার, আপনার দিনের প্রথম চিন্তাটি কাকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত?

‘আল্লাহ’

আবার দিনের শেষ মুহুর্তে, ঘুমানোর আগে আপনার শেষ কাজটি হল আপনার মালিক সম্পর্কে চিন্তা করা।

আজ আপনার মালিক আপনার জন্য কি কি করেছেন তা ভাবুন।

অপরদিকে, আমি, এই তুচ্ছ সৃষ্টি, আল্লাহর জন্য আজ কি করেছি?