এই চুক্তি কখনো বিফলে যাবে না

অর্থের সাথে মানুষের সম্পর্ক তড়িৎ ও তারের মতো, একে অপরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। অর্থ ছাড়া মানুষ এক প্রকার অচল বা নিষ্কর্ম, বৃহত্তর পৃথিবীতে এদের বিশেষ প্রভাব থাকে না। কিন্তু মানুষ যদি অর্থের মোহে নিজেকে সমর্পণ করে তবে অর্থের সদ্ব্যাবহারটাও আর হয়ে ওঠে না।

মহম্মদ (সাঃ) বলেছিলেন, কেউ যদি একটা সোনায় বাঁধানো উপত্যকা পায় তাহলে সে আর একটা চাইবে। এই রকম চাইতে চাইতে শেষ পর্যন্ত সে জঞ্জালের খেয়ে জীবন কাটাবে (আল বুখারী)।

মানুষের পার্থিব চাহিদার কোনো অন্ত নেই, যত পায় তত চায় তারা। এই জন্যই আল কোরআনে এই বিষয়ে আল্লাহতাআলা জোর দিয়ে বলেছেন। পার্থিব চাহিদা মানুষের যত বাড়বে মানুষ বিশ্বাস থেকে তত সরে আসবে। এবং এই চাহিদা যতদিন না কবরে যাবে ততদিন বাড়তেই থাকবে।

এই অর্থলোলুপ মনুষ্যপ্রজাতি ধনের মায়ায় এমনই বিভোর হয়ে যায় যে তারা সামনে থাকা মৃত্যুকে পর্যন্ত উপেক্ষা করতে থাকে। এর থেকে মুক্তির উপায় কী?

আমরা মনে করি যে, কাউকে হাজার টাকা দান করলে আমাদের কমে যাবে। আদতে কিন্তু তা নয়, দান করলে আমাদের কমে যায় না উল্টে আল্লাহের কাছে আমরা আরও ধনী হয়ে যাই। তাই ব্যাঙ্কে টাকা রেখে নিজেকে ধনী মনে করার থেকে সেই অর্থ থেকে দান করে হৃদয় থেকে ধনী হওয়াই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হতে হবে।

কোনো মুসলমান যদি জাকাত প্রদান করার সময় দুঃখ পায়, যদি সে হৃদয় থেকে অনিচ্ছুক হয় তাহলে সে বোকা। আল্লাহের রহমতে সে যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছে বা উত্তরাধিকারে পেয়েছে সেই অর্থকে সে কবরে নিয়ে যেতে পারবে না। জীবদ্দশাতেও এই অর্থের কতটা সে ভোগ করতে পারবে তাও সন্দেহের বিষয়।

এই বিপুল সম্পত্তির অধিকারী মৃত্যুর পর হয়ে যায় দরিদ্র দুর্বিষহ একটি প্রাণ। যে চোখের সামনে মানুষকে না খেতে পেয়ে মরতে দেখেছে, আশ্রয়হীন রাত কাটাতে দেখেছে তবু তাদের সাহায্য করেনি। যে ধন থাকতেও তাকে কাজে না লাগিয়ে স্বার্থপর জীবন যাপন করে, আল্লাহের কাছে তার কোনো জায়গা নেই।

কিন্তু যে প্রকৃতই জ্ঞানী সে জানে তার ধনের কী মূল্য এবং একজন ধনবানের কী দায়িত্ব। সেই অনুযায়ী সে জাকাত সদকা ইত্যাদি যথাযথ নিয়মে প্রদান করে এবং নিজের পরিবারের পাশাপাশি তার প্রতিবেশিদেরও সাহায্য করে।

পৃথিবীতে বিপুল পরিমাণ ধন থাকতেও তা অসম ভাবে বন্টিত, কিছু দেশে ১ শতাংশ ধনীরা ৭০% গরীবের মোট সম্পত্তির চারগুণেরও বেশী সম্পত্তির মালিক। যার ফলে একদিকে কোটি কোটি মানুষ না খেতে পায় না অপর দিকে কিছু মুষ্টিমেয় মানুষের কাছে পৃথিবীর সকল সুখ বর্তমান। এই অসম ব্যবস্থা ঘোঁচাতেই ইসলামে জাকাত, সদকা ও ফিতরার মতো ব্যবস্থার আছে।

এটাকে একটু অন্যভাবে দেখলে দাঁড়ায়, ব্যবসার চুক্তি তো অনেক রকম হয়, ইসলামের সাথে একটা চুক্তি করবেন? এই চুক্তিতে আপনি শুধু সর্বশক্তিমান আল্লাহের নির্দেশ অনুযায়ী নিজের উপার্জনের একটি নির্দিষ্ট অংশ দান করবেন গরীব-দুঃখী বদলে আল্লাহের কাছে আপনি আপনার কাজের ওসিলায় জান্নাতের দাবিদার হবেন।

মহম্মদ (সাঃ) নিজে ব্যক্তিগত ঐশ্বর্যকে ঘৃণার চোখে দেখতেন। তিনিও অন্যকে দান করার বাণীই প্রচার করেছেন সারা জীবন। কোনো রকম হিসেব ছাড়াই বিলিয়ে দিয়েছেন নিজের সর্বস্ব। একজন সত্যিকারের মুসলমানও তাই কোনোরকম কার্পণ্য না করে দান করবে, এই আশাই করতেন তিনি।