SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

এই মশলা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে

স্বাস্থ্য ১৮ মে ২০২০
মশলা

করোনাতে আমাদের জীবনযাপন বিপর্যস্ত, সবটাই আজ দুনিয়াতে বন্ধ। নিজেকে বাঁচানোর তাগিদে আমরা আজ গৃহবন্দি।করোনা থেকে  নিজেকে  দূরে রাখার একমাত্র উপায় নিজের ভিতরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, তাই আমরা সারাদিন শরীরকে ভালো রাখার উপায় খুঁজছি। বিভিন্ন  সমীক্ষায় দেখা গেছে যাদের শরীরে কোনো দূরারোগ্য রোগ বাসা বেঁধেছে  তারা আক্রান্ত  হচ্ছে অনেক বেশি পরিমাণে এবং মৃত্যু হার টাও এই ক্ষেত্রে অনেকটা  বেশি। কোনো ওষুধ ছাড়াই বাড়ির প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু ঘরোয়া টোটকা ঢোকালেই আমাদের ইমিউনিটি  বাড়তে পারে বেশ অনেকটা। মশলা কিন্তু অন্যতম টোটকার মধ্যে পড়ে। সেরকমই কয়েকটা মশলার গুণাগুণ  আপনাদের জানাবো

রোজকারের মশলা আদা-

আমাদের রান্নাঘরে যে জিনিসটা  অবশ্যই  থাকে তার নাম আদা যা ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস রুগিদের  খাদ্যতালিকায়  যেন অবশ্যই থাকতে হবে। ডায়াবেটিস রুগিরা যদি সকালে খালি পেটে আদা খান তাদের শরীরে বেশি কাজ করবে। এছাড়াও আদাতে থাকে ম্যাগনেশিয়াম  ও জিঙ্ক যা রক্ত চলাচলের হার সঠিক রাখতে সাহায্য করে শরীরের। রক্তচাপ এই সময় বেড়ে গেলে যে কোনো মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হবে। আদাতে থাকা সাইটো কেমিক্যাল, অ্যালানাইট,সালফাইট,অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বাইরের জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।

মেথিকে মশলা,খাবার,পথ্য -তিনটেই বলা হয়।

মেথি খেতে তেতো হলেও,এর কাজ প্রচুর। ট্রিগোনেলিন নামে উপাদান এর উপস্থিতির জন্য রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে ডায়াবেটিসজনিত সব সমস্যায় খুবই কার্যকর। মেথি ভেজানো জল পেটের ব্যথা খুব সহজেই সারিয়ে দেয়। মেথিতে ডায়াটরি ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। রোগ প্রতিরোধী এই মেথি বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং হতাশা ও মানসিক অবসাদ দূর করে। গরমে বিভিন্ন  ফাংগাল রোগ থেকও বাঁচতে মেথি কার্যকরী  ভূমিকা নেয়।

লবঙ্গ এক দারুণ ঔষধি মশলা।

এটি রান্নার পাশাপাশি শরীরের নানা রোগের উপশম করে। লবঙ্গে ইউগেনল আছে যা রক্তে সংক্রমন থেকে রক্ষা করে। দু একটি লবঙ্গ দাঁতের ব্যথা,মাড়ি ফোলা বা দাঁতজনিত অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এছাড়া সর্দি-কাশি বা অ্যাসমাজনিত সমস্যা নিমিষে দূর করে,জ্বরের প্রকোপ থেকে বাঁচায়। দেহের উষ্ণতা সৃষ্টিতেও লবঙ্গ খাওয়া হয়। লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। লবঙ্গ অ্যান্টিপ্রোপালিজে পরিপূর্ন হওয়ায় সহজেই জীবাণুনাশ করে, যেকোনো রকম ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে।ত্বকের সংক্রমণ ও সাইনাস সংক্রমণে লবঙ্গ কার্যকরী। কন্ঠনালির জ্বালা ও টনসিলের সমস্যা কমাতে লবঙ্গ সাহায্য করে।

দারুচিনি মশলা হিসাবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ।

মিষ্টি ও যেকোনো রান্নার স্বাদ বাড়াতে এটি দারুণ কার্যকরী। চায়ের সাথে মিশিয়ে খেলে অদ্ভুত কাজ করে, শরীরে সতেজতা বাড়ায়। এছাড়াও শরীরে ম্যাঙ্গানিজ,ক্যালশিয়াম ফাইবার ও আয়রন সরবরাহ করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হিং-এর কার্যকারীতাও অনস্বীকার্য।

বাঙালিদের মধ্যে তরকারীতে হিং দেওয়ার প্রচলন আছে, যা রান্নার খাদ্যগুণ বেশ কিছুটা বাড়িয়ে দেয়। প্রধানত অ্যান্টিবায়োটিক শক্তির জন্যই এটি শরীরে বিশেষ ভাবে রোগ প্রতিরোধ করে। পেটের রোগেও হিং অব্যর্থ ঔষধি।

হলুদ যেকোনো রান্নার একটি অন্যতম প্রধান মশলা।

বিশুদ্ধ হলুদের অসংখ্য গুণাগুণের মধ্যে একটি হলো অ্যান্টিইনফেকশনাল শক্তি, ফলে শরীরের কোনো জায়গায় ইনফেকশন জনিত রোগ হলে হলুদ দ্রুত উপশম করতে পারে। কারকিউমিন যৌগ থাকায় এটি পেটের সমস্যাতেও উল্লেখযোগ্য ভাবে কাজ করে।

গোলমরিচ একটি সর্বগুণসম্পন্ন মশলা।

এর মধ্যে নেই, এমন কোনো গুণ পাওয়া যায় না। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হওয়ার ফলে পেটের রোগের উপশম করে। এছাড়াও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সক্ষম, তাই ডিম, স্যূপ, স্যান্ডউইচ সবকিছুতেই দেওয়া যেতে পারে স্যান্ডউইচ।