একজন মুসলিমের ভালোবাসা ও প্রেমের শক্তি কোন পথে ব্যয় হবে?

Photo <a href="https://www.dreamstime.com/stock-photo-blossom-trees-flowers-park-beautiful-spring-nature-view-people-trees-sunlight-scene-sunny-day-natural-bac-image97171239">97171239</a> © <a href="https://www.dreamstime.com/tibor13_info" itemprop="author">Tibor Ďuriš</a> - <a href="https://www.dreamstime.com/photos-images/beautiful-20natural-20view.html">Dreamstime.com</a>

আপনি যত রোমান্টিক গল্প পড়েছেন বা ফিল্ম দেখেছেন তার সবগুলোতেই আপনি স্বাভাবিক একটি পরিস্থিতি দেখতে পাবেনঃ একজন পুরুষ এবং মহিলার পরিচয় হয়, তারা প্রেমে পড়ে, অসম্ভব বাধা অতিক্রম করে তারপর বিবাহ করে এবং সুখীভাবে বেঁচে থাকে বা তাদের কোনো একজন মারা যাওয়ার পরে গল্পটি একটি ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়।

কিন্তু এটিই কি আল্লাহ ও রাসূল আমাদের যে ভালোবাসার আদেশ করেছেন তার প্রতিফলন? মুসলমান হিসেবে আমাদেরকে ভাবতে হবে: একজন পুরুষ এবং মহিলার মধ্যকার ভালোবাসা কি সবচেয়ে বড় ভালোবাসা, নাকি এটি আমাদের সৃষ্টিকর্তার প্রতি ও সৃষ্টিকর্তার জন্য ভালোবাসা সবচেয়ে বড় ভালোবাসা?

মানুষ হিসেবে অন্যের প্রতি ভালোবাসা ও গভীর প্রেম থাকা স্বাভাবিক। তবে এ ভালোবাসার সীমারেখাও আছে। মুসলিম হিসেবে সর্বাধিক ভালোবাসা আল্লাহ ও রাসুলের জন্য হতে হবে। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “বলুন, যদি তোমাদের কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এবং আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়ে বেশি প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের পরিবার, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতে মন্দা পড়ার আশঙ্কা করো এবং তোমাদের আবাসস্থল যা তোমরা ভালোবাসো, তাহলে আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো, আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সত্পথ প্রদর্শন করেন না।” (আল কুরআন ৯:২৪)

আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন, “হে মুমিনরা, তোমাদের কেউ দ্বীন থেকে ফিরে গেলে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং যারা তাঁকে ভালোবাসবে, তাঁরা মুমিনদের প্রতি কোমল এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে।” (আল কুরআন ৫:৫৪)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে সে ঈমানের স্বাদ অনুভব করবে। যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সর্বাধিক প্রিয় হবে। অন্য কোনো ব্যক্তিকে সে একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসবে। আল্লাহ কুফুরি থেকে রক্ষা করার পর আবার তাতে ফিরে যাওয়া তার কাছে আগুনে নিক্ষেপের মতো অপছন্দনীয় হবে।” (মুসলিম)

মুমিনের ভালোবাসা হবে আল্লাহকে ঘিরে

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ঈমান পরিপূর্ণতার লক্ষণ। আর আল্লাহকে ভালোবাসার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, “যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার নবীর অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন।” (আল কুরআন-৩:৩১)

মুমিন ব্যক্তি মূলত আল্লাহকেই ভালোবাসে। মানুষের ভালোবাসাও যদি হয় আল্লাহর জন্য তখন স্বয়ং আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। হাদিসে এসেছে, “এক ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সাক্ষাতের জন্য ঘর থেকে রওনা হলো। পথিমধ্যে আল্লাহ এক ফেরেশতাকে মানুষের বেশে পাঠালেন। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে উত্তর দিল, এই গ্রামে আমার এক ভাই থাকেন। তাকে দেখতে যাচ্ছি। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার প্রতি কি তার কোনো অনুগ্রহ রয়েছে, যার বিনিময় দেওয়ার জন্য যাচ্ছ? সে বলল, না। আমি যাচ্ছি এই জন্য যে, আমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। ফেরেশতা বললেন, তাহলে শোন, আমি তোমার নিকট আল্লাহর দূত হিসেবে এসেছি এ কথা জানানোর জন্য যে, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন; যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাস!” (মুসলিম)

মানুষের সহজাত প্রেরণা অন্যকে ভালোবাসা। এই ভালোবাসা যদি হয় নিঃস্বার্থ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তবে এর পুরস্কার অফুরন্ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করবেন যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অন্যকে ভালোবেসেছিল, তারা কোথায়? আজ আমি তাদের আমার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দান করব।” (মুসলিম) অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা পরস্পরে ভালোবাসার সম্পর্ক রাখে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য নুরের মিম্বর স্থাপন করা হবে। যা দেখে নবী এবং শহীদগণ পর্যন্ত ঈর্ষা করবেন।” (তিরমিযী)

ইসলামে পারস্পরিক ভালোবাসা সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব এত বেশি যে, এর ওপর ঈমানের ভিত্তি রাখা হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না যতক্ষণ না ঈমানদার হবে। আর তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না পরস্পরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের পরস্পরের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তা হলো সালামের প্রসার ঘটানো।” (মুসলিম)

আল্লাহ আমাদেরকে ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করে সে অনুযায়ী ভালোবাসা প্রতিফলন ঘটানোর তওফিক দান করুন। আমীন