একজন মুসলিমের স্বভাবজাত সুন্নাতসমূহ

63860719 – religious muslim man praying inside the mosque
63860719 - religious muslim man praying inside the mosque

স্বভাবজাত সুন্নাত হলো এমন রীতি বা কর্ম যা সম্পাদন করলে এর সম্পাদনকারী এমন বৈশিষ্ট্যের সাথে বিশেষিত হবেন যে বৈশিষ্ট্যের উপর আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং এর উপর ভিত্তি করেই তার হাশর নাশর হবে। আল্লাহ তার বান্দাদেরকে এ সকল সুন্নাত পালনের জন্য ভালবাসবেন। যেন তারা এর মাধ্যমে পূর্ণগুণের অধিকারী হতে পারে এবং আকৃতিগতভাবে তারা যে মর্যাদা পেয়েছে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারে। এ ব্যাপারে ইসলামী শরীয়ত একমত যে, এ সকল বিষয়ই প্রাচীন সুন্নাত যা আল্লাহর মনোনীত সকল নবীই পছন্দ করেছেন। এগুলি এমনই স্বভাবজাত বিষয়, যা সকল নবীই পছন্দ করেছেন।

স্বভাবজাত এ সকল রীতি অনুসরণের মধ্যে দ্বীনি ও দুনিয়াবী অনেক কল্যাণ রয়েছে। যেমন: এর ফলে সমুদয় দৈহিক গঠন সুন্দর থাকে এবং শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে।

ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান

আল্লাহ তা’আলা বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলার কাছে একমাত্র মনোনীত দ্বীন হল ইসলাম। আল্লাহ তা’আলা ইসলামের ধারক ও বাহক করে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সত্য ও মহাপবিত্র হেদায়েত গ্রন্থ আল-কুরআন সহ এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।

রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর জমিনে তাঁর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে সবদিক থেকেই সফলতা লাভ করেছেন। আর অন্ধকার থেকে সমাজকে করেছেন আলোকিত।

মানুষের জীবনের এমন কোনো দিক নেই, যা তিনি অসম্পূর্ণ রেখে গেছেন। তাইতো আল্লাহ তা’আলা কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।”

ইসলামের শিক্ষা এতটাই ব্যাপক যে, রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নসিহত থেকে বাদ যায়নি মানুষের স্বভাবসিদ্ধ কোনো গুরুত্বপূর্ণ আমল। যা মানুষকে প্রতি সপ্তাহে বা মাসে হলেও সম্পন্ন করতে হয়।

মানুষের স্বাভাবিক জীবনের স্বভাবসিদ্ধ কাজগুলোর বর্ণনা ওঠে এসেছে রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে। যা জানা এবং মানা সকল মানুষের জন্যই আবশ্যক এবং তা মানুষের সফলতারও চাবিকাঠি।

স্বভাবজাত সুন্নাতসমূহ

আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মানুষের স্বভাবজাত বিষয় পাঁচটি। খতনা করা, নাভীর নীচের পশম পরিষ্কার করা, গোঁফ বা মোচ খাটো করা, নখ কাটা এবং বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা।”

এছাড়া হজরত আয়েশা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দশটি কাজ মানুষের স্বভাবগত-

১) মোচ বা গোঁফ খাটো করা;

২) হাত ও পায়ের নখ কাটা;

৩) সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধুয়ে পরিচ্ছন্ন রাখা;

৪) দাড়ি লম্বা করা;

৫) নিয়মিত মেসওয়াক করা;

৬) নাক পানি দিয়ে পরিস্কার করা বা নাক ঝাড়া;

৭) বগলের নিচের পশম উপড়ে ফেলা;

৮) নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা;

৯) পেশাবের পর পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা এবং শৌচকর্ম করা।

১০) হাদিসের বর্ণানাকারী মুস’আব ইবনে শায়ার বলেন, দশম কথাটি আমি ভুলে গেছি। সম্ভবত তা হলো কুলি করা। (সুনানে নাসাঈ)

উল্লেখিত কাজগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে পাক-পবিত্র ও সুন্দর করে। যা রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৃষ্টি ও শিক্ষা থেকে বাদ যায়নি।

হাদিসের শিক্ষা

– গোঁফ খাটো করা; তবে গোফ পুরোপুরি কামিয়ে না ফেলা। – হাত ও পায়ের নখ অন্তত্ব প্রতি সপ্তাহে কাটা; কারণ হাত দিয়ে মানুষ খাওয়া দাওয়াসহ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অনেক কাজ করে থাকে। নখ না কাটলে নখের ভেতরে ময়লা জমে। যা মানুষের পেটের জন্য ক্ষতিকর।

– শরীরের যে সব জায়গায় পানি পৌঁছা সহজ নয় তা ভালোভাবে হাত দ্বারা ঘঁষে পানি পৌছানো আবশ্যক। কারণ গোসল ফরজ থাকলে শরীরে কোনো অঙ্গে পানি না পৌছলে ফরজ গোসল আদায় হবে না।

– দাড়ি কমপক্ষে এক মুষ্টি পরিমাণ লম্বা রাখা।

– নাক পরিষ্কার রাখা।

– প্রত্যেক নামাজের আগে অজুর সময় মেসওয়াক করার ফজিলত অনেক বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যধিক পরিমাণে মেসওয়াক করতেন।

– বগলের নিচের অযাচিত পশম উপড়ে ফেলা।

– নাভির নিচের পশম ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই সাফ করে ফেলা।

– পেশাব ও শৌচকার্যে ঢিলা কুলুপ ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করে উত্তমরূপে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা।

উল্লেখিত কাজগুলো একজন মুসলিমের ফিতরাত বা স্বভাবগত। যা ইসলাম পূর্ব অন্যান্য শরিয়তেরও অংশ ছিল। সব নবী রাসুলগণই এ সকল স্বভাবগত বিষয়ের শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে উল্লেখিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পালন করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।