একজন সফল মুসলিম উদ্যোক্তা হতে মেনে চলুন এই টিপস

ব্যবসা ২৪ মার্চ ২০২১ Contributor
ফিচার
সফল মুসলিম উদ্যোক্তা
Photo by The Lazy Artist Gallery from Pexels

বাহ্যিকভাবে একজন সফল মুসলিম উদ্যোক্তা অন্য কারও থেকে ভিন্ন নয়। কিন্তু একজন মুসলিমের অভ্যন্তরীণ এমন অনেক গুণ রয়েছে যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়। একজন মুসলিম সর্বদা তাঁর রবকে স্মরণ রেখে ব্যবসা করে।

আল্লাহ তা’আলাও পবিত্র কুরআনে এমন কিছু মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা তাদের ব্যবসা ও বেচাকেনার ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহ তা’আলার স্মরণ এবং সালাত কায়েম করা ও যাকাত আদায় করা থেকে গাফিল হয়ে যায় না। এবং তারা সেই দিনকে ভয় করতে থাকে যেদিন অনেক হৃদয় বিপর্যস্ত ও অনেক দৃষ্টি পাথর হয়ে যাবার উপক্রম হবে। (আল কুরআন-২৪: ৩৭)

যারা নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে দাবি করেন এবং নিজেকে সার্বিক দিক থেকে সৎ রেখে একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চান তাদরে জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টিপস নিম্নে উল্লেখ করা হল-

১) সফল মুসলিম উদ্যোক্তা ঈমান অনুযায়ী আপনার ব্যবসাকে বড় করুন

একজন মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে উৎপাদনশীলতার সাথে সাথে আপনার ঈমানের বিষয়টাও খেয়াল রাখতে হবে। কেননা সাফল্য পাওয়ার বিষয়টা মূলত আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকেই আসে। যে প্রকৃত পক্ষে ইসলামকে অনুসরণ করতে চায় তার জন্য ইসলামের সাথে বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক জগতের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তাই আপনার প্রাথমিক ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করার পর, আপনার সময়ের সর্বাধিক সময় হালালভাবে অর্থ উপার্জনের পিছনে ব্যয় করুন। আপনার সিদ্ধান্তগুলোকে যতটা সম্ভব কুরআন ও সুন্নাহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করুন। এজন্য এ বিষয়ে বিজ্ঞ কোনো আলেমের সাথে আগে থেকেই পরামর্শ করুন। এতে আশা করা যায় আপনি আপনার ব্যবসায় সফল হবেন।

২) আপনার দায়িত্বগুলো আল্লাহর নিকট সমর্পণ করুন

ব্যবসার মধ্যে আপনি যদি সত্যিই সফলতা চান তবে আপনার সকল দায়িত্ব আল্লাহর নিকট সমর্পণ করুন। কিন্তু এই সমর্পণের অর্থ কি? এর অর্থ হলো যেকোনো বিষয়ে আপনি ধর্মীয় বিধানগুলো বাদ দিয়ে অন্য কিছু করতে যাবে না। যখন সালাতের সময় হবে তখন আপনি সকল কাজ ফেলে রেখে সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে চলে যান। পবিত্র কুরআনেও মহান আল্লাহ তা’আলা এমন মুসলিমদেরকে সফলকাম বলেছেন যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মব্যস্ততা তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে এবং সালাত কায়েম করা ও যাকাত আদায় করা থেকে বিমুখ করতে পারে না। যেমনটি উপরে উল্লেখিত হয়েছে।

আল্লাহ তা’আলা আরও ইরশাদ করেছেন, “…যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সমস্যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার) কোন না কোন পথ বের করে দিবেন। আর তাকে রিযক দিবেন (এমন উৎস) থেকে যা সে ধারণাও করতে পারে না। যে কেউ আল্লাহর উপর ভরসা করে, তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ নিজের কাজ সম্পূর্ণ করবেনই। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য করেছেন একটা সুনির্দিষ্ট মাত্রা।” (আল কুরআন-৬৫: ২-৩)

৩) সফল মুসলিম উদ্যোক্তা নিজের পরিচয়ের উপর গর্ববোধ করুন

ব্যবসার ক্ষেত্রে সদা-সর্বদা নিজেকে সৎ রাখুন। আপনি যে সমাজেই বাস করুন না কেন কখনও নিজের মুসলিম পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করবেন না। আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনি মুসলিম হয়েছেন। এটা আপনার প্রতি আল্লাহ তা’আলার অনেক বড় অনুগ্রহ। আপনাকে মুসলিমদের মাঝে অন্তর্ভুক্ত করে আল্লাহ তা’আলা আপনাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করেছেন। সুতরাং ব্যবসা করতে গিয়ে আপনি আপনার এই পরিচয়কে কখনও গোপন করবেন না। বরঞ্চ, আরও গর্বভরে নিজেকে সবার মাঝে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিন।

৪) সময় সম্পর্কে সচেতন হোন

দুনিয়ার জীবনে যারা বড় হয়েছেন ও সফলতা লাভ করেছেন তারা সকলেই তাদের সময় সম্পর্কে খুবই সচেতন ছিলেন। কারণ সময়ের সঠিক ব্যবহার করা ছাড়া কেউ জীবনে সফল হতে পারে না। এছাড়া সময় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যে, স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে

কয়েক জায়গায় সময়ের কসম করেছেন। এর দ্বারা তিনি মানুষকে সময়ের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। তাই আপনিও আপনার সারাদিনের সময়কে ভাগ করে নিন যে, কতটুক সময় কোন কাজে ব্যায় করবেন। এরপর সেই অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করুন। এভাবে আপনার সময়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার সম্ভব হবে। তাছাড়া সময়ের সঠিক ব্যবহার করলে আপনি কাজের মধ্যেও বরকত পাবেন।

৫) সফল মুসলিম উদ্যোক্তা পণ্যের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখুন

যদি আপনি একজন সফল মুসলিম উদ্যোক্তা হতে চান তবে আপনার নিজের, পণ্যের, কর্মচারীদের এবং আপনার গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ মান নির্ধারণ করতে হবে। সর্বোচ্চ মান নির্ধারণের অর্থ হল- আপনি সবসময় যা করতে চান তা অর্জন করার চেষ্টা করুন এবং বিশ্বমানের পণ্য এবং চমৎকার গ্রাহক সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হোন।