একবিংশ শতাব্দিতে নও-মুসলিম ভাইবোনদের জন্য কিছু গাইডলাইন

আকীদাহ Contributor
dreamstime_s_94544261

নও-মুসলিমরা জীবন চলার পথে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে পড়েন। তাই তাদের জন্য কিছু দিকনির্দেশনা নিয়েই এই নিবন্ধটি লেখা হয়েছে।

বর্তমান সময়ে, সম্ভবত ইতিহাসের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছে এবং ইসলামের বিধিবিধানের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

যদিও ইসলামের বিরুদ্ধে বর্তমানে মিডিয়া অনেক বেশি প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তবুও তারা মানুষকে প্রকৃতপক্ষে ইসলাম থেকে বিমুখ করতে পারছে না। কারণ মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি যেরকম তার সবচেয়ে উপযোগী করেই মহান আল্লাহ আমাদেরকে ইসলাম দান করেছেন।

ইসলাম পূর্বের সকল গুনাহকে মাফ করে দেয়

আল্লাহ বলেন, “যারা কুফরি করে, তাদের বলে দাও, তারা যদি কুফরি থেকে বিরত হয়, তবে তারা অতীতে যা কিছু হয়েছে, তা মাফ করে দেওয়া হবে।” (আল কুরআন-৮:৩৮)

আলোচ্য আয়াতে ইসলামের একটি চিরন্তন মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে বলে দেওয়া হয়েছে, কেউ যখন ঈমান এনে ইসলামে প্রবেশ করে, তখন কুফরি অবস্থায় সে যেসকল গুনাহ করেছিল তা সব মাফ হয়ে যায়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ইসলাম গ্রহণ পূর্বের সব গুনাহ মোচন করে দেয়। হিজরত পূর্বের সব গুনাহ মোচন করে দেয়। আর হজ্জ পূর্বের সব গুনাহ মোচন করে দেয়।” (মুসলিম শরিফ)

সুতরাং, এই আয়াত ও হাদিসের বিশেষ তাৎপর্য হলো কাফিররা যদি ইসলামের দিকে ফিরে আসে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা থেকে নিবৃত্ত হয়, তবে তাদের অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। কেননা ইসলাম অতীতের সব গুনাহ ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়, সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর মত নিষ্পাপ বানিয়ে দেয়। মানুষ যখন ইসলামে প্রবেশ করে, তখন সদ্যপ্রসূত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়েই ইসলামে প্রবেশ করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা যদি পূর্বের মত কুফরিতে লিপ্ত হয়, মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুচক্র অবলম্বন করে, তাহলে পুর্বযুগের কাফিরদের ব্যাপারে আল্লাহর যে নীতি ছিল, তাতে কোনো পরিবর্তন হবে না। আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম হলো তিনি তাঁর দ্বীনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রকাশ করেছেন। তারপর যারা তা প্রত্যাখ্যান করবে, তাদেরকে তিনি শাস্তি দিবেন। আর যারা তা গ্রহণ করবে, তাদের সাহায্য ও বিজয় দান করবেন। আল্লাহর এই নীতি অপরিবর্তনীয়। যারা কাফির, তাদের জন্য ইসলাম গ্রহণের সুযোগ অবারিত। ইসলাম গ্রহণ করলে তাদেরকে সাদরে গ্রহণ করা হবে।

আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করুন

নও-মুসলিম হিসেবে আমাদের যে সম্পর্কটি আবশ্যিকভাবে স্থাপন করা প্রয়োজন, তা হল আমাদের রব আল্লাহর সাথে সম্পর্ক। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে আমরা আল্লাহকে না চিনে তার থেকে দূরে ছিলাম। আর আল্লাহর সাথে সম্পর্কের উপর ভিত্তি করেই আমাদের সামগ্রিক সফলতা নির্ভর করে।

আল্লাহর সাথে উন্নত সম্পর্কের সৃষ্টির জন্য উত্তম উদাহরণ হিসেবে আমাদের সামনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের পুত-পবিত্র জীবন রয়েছে। এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের আলোকে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির কিছু উপায় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।

  • ইবাদতে মগ্নতা

“ফরজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় আর নফল আদায়ের মাধ্যমে আমি বান্দাকে ভালোবেসে ফেলি…” (হাদীসে কুদসী)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর শুকরিয়ায় এত বেশি ইবাদত করতেন যে, নামাজে দাড়িয়ে ত্থাকার দরুন তাঁর পা মোবারক ফুলে যেত। এমনকি চরম ব্যস্ত মুহুর্তেও তিনি ইবাদত থেকে বিরত হতেন না। তাই নও-মুসলিম হিসেবে আপনারও উচিত একাগ্রচিত্তে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হওয়া।

  • বিপদের মাঝেও বিশ্বাস না হারানো

“আর তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য কামনা করো।” (আল কুরআন-২:৪৫)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তার জীবনে দ্বীনের প্রচার করতে গিয়ে অসংখ্য বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু বিপদে হতাশ না হয়ে তিনি আল্লাহর উপর আস্থা রেখে আল্লাহর নিকট আন্তরিকভাবে সাহায্য চেয়েছেন। আল্লাহও তাকে যথার্থ সাহায্য প্রদান করেছেন। তাই নতুন মুসলিম হয়ে আপনার সামনে যেসকল প্রতিকূলতা আসবে, সেগুলিতে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য্যধারণ করবেন আর আল্লাহর নিকট নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করবেন।

  • পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করা

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালোবাসেন।” (আল কুরআন-৩:১৫৯)

আপনার জীবন অনেক বিরূপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পার হতে পারে। কিন্তু হতাশ না হয়ে পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে সর্বস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখলে আল্লাহ তবেই সাহায্য করবেন।

  • আশাবাদী হওয়া

ইসলাম গ্রহণের পরেও যদি কোনো গুনাহ হয়ে যায় তবে আল্লাহর রহমতের আশা রেখে তওবা করে আল্লাহর নিকট ফিরে আসা। কারণ আল্লাহ তওবাকারীদেরকে ভালোবাসেন।