SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

এক নজরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের ১১ জন স্ত্রী (২য় পর্ব)

পরিবার ০৪ জানু. ২০২১
জানা-অজানা
স্ত্রী

৮) জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রাযিঃ)

এরপর ষষ্ঠ হিজরীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জুয়াইরিয়া (রাযিঃ)-কে বিবাহ করেন। জুয়াইরিয়া (রাযিঃ) ছিলেন বনু মুস্তালিক গোত্র প্রধান হারিসের মেয়ে ও মুসাফির বিন সাফওয়ানের প্রাক্তন স্ত্রী। বিদ্রোহ দমন কালে জুয়াইরিয়া (রাযিঃ) মুসলিম বাহিনীর হাতে অন্যান্যদের সাথে বন্দী হন। গনিমত হিসাবে সাহাবি সাবিত বিন কায়েস (রাযিঃ)-এর ভাগে তিনি পড়েন। তিনি জুয়াইরিয়া(রাযিঃ)-এর সাথে মুক্তিপণের চুক্তি করেন এবং তাঁর নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তাকে মুক্তি দিতে রাজি হন। তখন সাবিত (রাযিঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আবেদন করলে তিনি মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করেন। জুয়াইরিয়া (রাযিঃ) রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে নিজেই রাসূলকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং রাসূলও তাকে কবুল করেন। এ বিবাহ বন্ধনের ফলে রাসুলের সাথে আত্মীয়তার সুবাদে বনু মুস্তালিকের যাবতীয় বন্দী বিনা মুক্তিপনে মুক্ত পায় এবং মুসলিমদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

হিজরী সপ্তম সালে রাসুলসাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তিনটি বিবাহ করেন। এরা হলেন উম্মে হাবিবা (রাযিঃ), মায়মুনা (রাযিঃ) ও সাফিয়্যা (রাযিঃ)।

৯) উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ)

কোরাইশ গোত্রপ্রধান আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবিবা (রাযিঃ) উবায়দুল্লাহ বিন জাহাশের স্ত্রী ছিলেন। উবায়দুল্লাহ আবিসিনিয়ায় হিজরতের পর খ্রীস্টধর্ম গ্রহণ করে ও উম্মে হাবিবা (রাযিঃ) কে পরিত্যাগ করে। এমতাবস্থায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বিয়ে করেন। কথিত আছে, আবিসিনিয়ার বাদশাহ নাজ্জাশী তার মোহর পরিশোধ করেন এবং তাকে মদিনায় প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। উম্মে হাবিবা (রাযিঃ) প্রায়শই গর্ব করে বলতেন, “আমার বিয়ের মধ্যস্থতা হয়েছে সাত আসমানের ওপর থেকে, তোমাদের (অর্থাৎ, রাসুলের অন্য স্ত্রীদের) ক্ষেত্রে এমনটি হয় নি।”

১০) সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাযিঃ)

খাইবার বিজয়ের পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদী হুয়াই ইবনে আখতারের কন্যা সাফিয়া (রাযিঃ)-কে বিয়ে করেন। ইতিপূর্বে তার দুইবার বিয়ে হয়েছিল। প্রথমে সাল্লামা ও পরে কিনানার সাথে। সাফিয়্যা (রাযিঃ) ছিলেন খুবই সাদাসিদা একজন মহিলা। ভিন্ন গোত্র থেকে আসার কারণে অনেকসময় তাঁর সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যান্য স্ত্রীদের কিছুটা মনোমালিন্য হত। এছাড়া তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যান্য স্ত্রীদের থেকে সুন্দরী হওয়াই মানবিক দুর্বলতার কারণেও অন্যান্য সতীনদের সাথে তাঁর কিছুটা কিছুটা মনোমালিন্য হয়েছে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম খুবই বিচক্ষণতার সাথে সেগুলির সমাধান করেছেন।

১১) মায়মুনা বিনতে হারিস (রাযিঃ)

হেলাল গোত্রের হারিসের কন্যা মায়মুনা (রাযিঃ) ছিলেন সুশিক্ষিতা মহিলা। পূর্বে তার দুইবার বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্বামী মাসুদ বিন আমর তাকে তালাক দেয়, পরে আব্দুর রহমানকে বিয়ে করে বিধবা হন। ইতিহাস খ্যাত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাযিঃ) ছিলেন মায়মুনা (রাযিঃ)-এর বোনের ছেলে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর বিয়ের পর খালিদ (রাযিঃ)-ও ইসলাম গ্রহন করেন। কথিত আছে, ইসলাম গ্রহনের পরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে খালিদ (রাযিঃ)-কে একটি সাদা ঘোড়া উপহার দেন। মায়মুনা (রাযিঃ) ছিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের ছোট চাচা আব্বাস (রাযিঃ)-এর শ্যালিকা।

এই ১১ জন হলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের পূণ্যবতী স্ত্রীগণ। এছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য তৎকালীন মিসরের গভর্ণর মোকাওয়াকিস তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী উপহার স্বরুপ মারিয়াকে কিবতিয়া নাম্নী এক নারীকে পাঠান। পরবর্তীতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেন। মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের পুত্র ইব্রাহীম (রাযিঃ) জন্মগ্রহন করেন এবং শিশু বয়সেই মারা যান।

সুরা আহযাবের ৫২ নং আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আর বিবাহ করেন নি। আয়াতটি হল,

“হে নবী অতঃপর কোনো মহিলাই আর আপনার জন্য বৈধ হবে না।………তবে যারা আপনার অধিকারে আছেন তারা ব্যাতীত।”

মোটকথা, রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তার জীবনের প্রথম ৫৪ বছর একজন স্ত্রীকে নিয়েই কাটিয়েছেন। খাদিজা(রাযিঃ) কে নিয়ে পচিশ বছর এবং তাঁর মৃত্যুর পর সাওদা(রাযিঃ) কে নিয়ে চার বছর। তিনি এই ১১ জন স্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র আয়েশা (রাযিঃ) কেই কুমারী অবস্থায় বিবাহ করেন। বাকি সকলেই ছিলেন তালাকপ্রাপ্তা অথবা বিধবা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের এই ১১টি বিবাহের পিছনে ওলামায়ে কেরাম বিভিন্ন হেকমত ও কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। যেগুলির প্রত্যেকটিই যুক্তিসঙ্গত ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত।

 

(সমাপ্ত)