এক নজরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের ১১ জন স্ত্রী (১ম পর্ব)

ইতিহাস Contributor
জানা-অজানা
dreamstime_s_29779345
Photo: Dreamstime

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদেরকে ‘উম্মুহাতুল মু’মিনীন’ বা ‘মুমিনদের মাতা’ বলা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য অধিকাংশ মুসলমানই রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের এই পূণ্যবতী স্ত্রীদের সম্পর্কে জানেন না। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের পূণ্যবতী স্ত্রীদের সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেওয়ায় এই নিবন্ধের আলোচ্য বিষয়।

১) খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ(রাযিঃ)

পঁচিশ বছর বয়সে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কার সম্ভ্রান্ত বিধবা মহিলা খাদিজাকে বিবাহ করেন। এসময়ে খাদিজা(রাযিঃ)-এর বয়স ছিল চল্লিশ বছর অর্থাৎ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে পনের বছরের বড়।। পঁচিশ থেকে পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত একমাত্র খাদিজা(রাযিঃ)-ই রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের একমাত্র জীবন সঙ্গিনী ছিলেন। রাসূলের সাথে বিবাহের পূর্বে খাদিজা(রাযিঃ)-এর দু’বার বিবাহ হয়েছিল। প্রথম স্বামীর নাম আব্দুল্লাহ। এ সংসারে খাদিজা (রাযিঃ)-এর দুইটি পুত্র সন্তান ছিল। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর আতিক নামে অপর একজনের সাথে তার বিবাহ হয়। এ সংসারে তার একটিমাত্র কন্যা সন্তান ছিল। উল্লেখ্য যে, খাদিজা(রাযিঃ)-এর গর্ভেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের একজন পুত্র বাদে সকল সন্তানের জন্ম হয় (চার মেয়ে ও দুই ছেলে)। রাসূলের হিজরতের কিছু পূর্বে পয়ষট্টি বছর বয়সে এই মহিয়সী নারী ইন্তেকাল করেন।

২) সাওদাহ বিনতে জাম’আ(রাযিঃ)

খাদিজা(রাযিঃ)-এর মৃত্যুর কয়েক মাস পর তায়েফ হতে নির্যাতিত হয়ে ফিরে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সাওদাহ(রাযিঃ) কে বিবাহ করেন। তিনি ছিলেন সাকরান(রাযিঃ)-এর বিধবা স্ত্রী। সাকবান(রাযিঃ) আবিসিনিয়ায় হিজরত করে সেখানেই মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর সওদাহ(রাযিঃ) অসহায় হয়ে পড়লে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বিয়ে করেন।

৩) আয়েশা বিনতে আবু বকর(রাযিঃ)

এর পরের বছর তিনি হযরত আবু বকর(রাযিঃ)-এর নাবালিকা কন্যা আয়েশা(রাযিঃ) কে বিবাহ করেন। এ সময়ে আয়েশা(রাযিঃ) এর বয়স ছিল সাত বছর মতান্তরে নয় বছর। আবু বকর(রাযিঃ) আয়েশা(রাযিঃ) কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সমর্পনের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন বলেই এই বিয়ে সম্ভবপর হয়েছিল। বয়সে নাবালিকা বলে তিনি তখন পিতৃগৃহতেই থেকে যান। হিজরতের পর দ্বিতীয় বছরে আয়েশা(রাযিঃ) রাসুলের গৃহে আসেন। আর এই প্রথম রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে দুই স্ত্রী একত্রিত হন। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের বয়স ছিল চুয়ান্ন বছর। আয়শা(রাযিঃ)-ই ছিলেন নবীজীর একমাত্র স্ত্রী যাকে তিনি কুমারী অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন এবং যার ঘরে অবস্থান কালে জিবরাইল(আঃ) ওহী নিয়ে আসতেন।

৪) হাফসা বিনতে উমর(রাযিঃ)

এর পরের বছর বদরের যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে হযরত উমর(রাযিঃ)-এর জামাতা ও হাফসা(রাযিঃ)-এর স্বামী খুনাইজ(রাযিঃ) শহীদ হন। হাফসা(রাযিঃ) বিধবা হলে এক বছরকাল পিতার আশ্রয়েই ছিলেন। কথিত আছে, হাফসা(রাযিঃ) তাঁর পিতার মতো একটু জেদী প্রকৃতির ছিলেন। উমর(রাযিঃ) হাফসা(রাযিঃ)-কে বিবাহের জন্য প্রথমে আবুবকর(রাযিঃ) ও পরে উসমান(রাযিঃ)-কে অনুরোধ করেন। উভয়েই বিবাহে অসম্মতি জানালে একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-ই তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। এরপর বিবাহ সম্পন্ন হয়।

৫) যয়নাব বিনতে খুজাইমা(রাযিঃ)

এর পরের বছর উহুদের যুদ্ধে যয়নাব বিনতে খুজাইমা(রাযিঃ)-এর স্বামী আব্দুল্লাহ বিন জাহশ(রাযিঃ) নিহত হন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। যয়নাব(রাযিঃ) খুবই দানশীল ছিলেন। এজন্য তাঁকে ‘উম্মুল মাসাকিন’ বা গরিবদের মাতা নামে ডাকা হত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের কয়েক মাস পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

৬) উম্মে সালামা(রাযিঃ)

এর পরের বছর উম্মে সালামা(রাযিঃ)-এর স্বামী আবু সালামা(রাযিঃ) শহীদ হন। আবু সালামা(রাযিঃ)-এর মৃত্যুর পর উম্মে সালামা(রাযিঃ) তাঁর ছেলেমেয়ে সহ রাসুলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে রাসূলের হুজুরায় শামিল হন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে সালামা(রাযিঃ)এর বাচ্চাদেরকে যত্ন সহকারে লালন-পালন করেন।

৭) যয়নাব বিনতে জাহাশ(রাযিঃ)

এরপর আল্লাহর হুকুমে রাসুল বিয়ে করেন তাঁর পালিত পুত্র যায়েদ(রাযিঃ)-এর তালাক দেয়া স্ত্রী যয়নাব বিনতে জাহাশ(রাযিঃ)কে। তিনি সম্পর্কে নবীজীর এর ফুফাত বোন ছিলেন। যায়েদ(রাযিঃ)-এর সাথে যয়নাব(রাযিঃ)-এর সংসার সুখের ছিল না। বিয়ের কিছুদিন পর যায়েদ(রাযিঃ) রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে যয়নাব(রাযিঃ) সম্বন্ধে অভিযোগ করলে তিনি বলেছিলেন, “তুমি তাকে বর্জন করো না, না হয় আল্লাহর কাছে দায়ী থাকবে। সুতরাং, সাবধান।” কিন্তু এরপরও তাদের মনোমালিন্য না হকে যায়েদ(রাযিঃ) যয়নাব(রাযিঃ)-কে তালাক দেন। এরপর আল্লাহ তা’আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে হুকুম করেন তাঁরই পালক পুত্রের তালাক দেওয়া স্ত্রীকে বিবাহ করে তিনি যেন পালকপুত্র সম্পর্কে আরবের প্রচলিত ভূল রেওয়াজ ভেঙ্গে দেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যয়নাব(রাযিঃ) এর বিবাহ সম্পন্ন হয়।

 

(চলবে)

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.