এখন সময় নিজের সোশ্যাল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখার

Social Media
Sankt-Petersburg, Russia, April 5, 2018: Apple iPhone X with icons of social media facebook, instagram, twitter, snapchat application on screen. Social media icons. Social network. Social media

বলতে দ্বিধা নেই,  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আপনার জীবন ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। এটি হতাশা বাড়ায়, আত্মমর্যাদা কমিয়ে দেয় এবং আত্মপূজার মনোভাব সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার অবসাদ বাড়ায় এবং ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, রাসূল (সা) প্রতিনিয়ত আমাদেরকে সময়ের অপচয়ের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। কেন না এটি শয়তানের কূটকৌশলের দরজা খুলে দেয়। আজকের তথ্য বিপ্লবের দুনিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা মুশকিল। তা নিজের মস্তিস্ক ও তার তথ্য ভান্ডারের প্রতি সতর্ক হতে হবে। অতএব অবিলম্বে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করুন। ঘরবন্দি অবস্থায় মানুষ এখন অনেক বেশি অনলাইন থাকবেন। ইন্টারনেট এ সময় বেশি কাটাবেন। কিন্তু ইন্টেরনেটের বিকৃত তথ্য ও ভুল খবর যাতে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকে আঘাত না ঘটায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় কি এটা?  প্রোফাইল ডি অ্যাক্টিভেশন করা যেতেই পারে। তার মানে হবে সমস্যা মূল থেকে উৎপাটিত করা। আপনি যদি এটা মানেন অথবা নাও মানেন, আপনাকে এটা খুঁজে বের করতে হবে যে আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার কোন অ্যাপ/অ্যাকাউন্ট ন্যুনতম ব্যবহার করেন কিংবা কোন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে উপকারের চাইতে ক্ষতি বেশি হচ্ছে। এরপর সে অ্যাকাউন্টটি ডি অ্যাক্টিভেট করুন। বরং এটিই হবে উত্তম পন্থা।

নিজের রুটিন পরিবর্তন করুন : যদি আপনি ঘুম থেকে ওঠার পরই ইনস্টাগ্রাম স্ক্রলিংয়ের উদ্দেশ্যে ফোন খুঁজতে হাত বাড়ান তবে থামুন!  এর পরিবর্তে – এলার্ম বন্ধ করুন, ঘুম থেকে ওঠার দু’আ পড়ুন এবং বিছানা থেকে নামুন। নিজের বিছানা গুছিয়ে হাত মুখ ধুঁয়ে ফেলুন, নাস্তা বানান এবং দাঁত ব্রাশ করুন। এটা স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, ঘুম থেকে ওঠার পরপরই কোন অ্যাপে ক্লিক করা কখনোই একটি সাফল্যমন্ডিত দিনের শুরু হতে পারে না। এই টিপসটি তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যারা দুশ্চিন্তা এবং অবসাদ নিয়ে ঘুম থেকে ওঠেন। সোশ্যাল মিডিয়ার যেকোনো খবরাখবরে আচ্ছন্ন না হয়ে এটিই আপনার কাছে নতুন দিন শুরু করার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হতে পারে।

 ভাবুন কী দেখতে চান না:  কিছু সময় আমরা হয়তো ভুলে যাই যে,  সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা কীভাবে সময় ব্যয় করছি, সেই হিসাবও আল্লাহ নেবেন। তাই, আপনি যদি নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার ব্যাপারে উদ্যোগী হন, তবে টাইমলাইন থেকে প্রশ্নবিদ্ধ বা সন্দেহজনক পোস্টগুলো মুছে ফেলুন। এবং আপনার হোমপেইজ যদি অসংখ্য অপ্রয়োজনীয় ছবি, কারও প্রতি গীবত, অভিশাপ অথবা অন্যের গুনাহ সংক্রান্ত কথাবার্তায় পূর্ণ থাকে তবে অ্যাকাউন্টটিই মুছে ফেলুন। তার পরিবর্তে নতুন একাউন্ট খুলুন। বিগত দিনগুলোর কাজের জন্য অনুশোচনায় দগ্ধ হোন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। এ সবকিছুই আপনার দুনিয়া এবং আখিরাতে কল্যাণ বয়ে আনবে।

সোশ্যাল মিডিয়া কতটুকু ব্যবহার করছেন তা লক্ষ্য করুন : সম্প্রতি ‘অ্যাপল’ তাদের আইফোনগুলোতে একটি ‘টুল’ চালু করেছে যেটি আপনার ফোন ব্যবহারের সময়টুকু হিসেব করে আপনার ব্যবহৃত অ্যাপসগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেবে। অন্যান্য ফোনের ক্ষেত্রে একটি থার্ড পার্টি অ্যাপ আপনাকে জানাতে সাহায্য করবে কতটা সময় আপনি ফোনের পেছনে ব্যয় করেন। আপনার ফোনের অধিকাংশ সময়ই কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় হয়? আপনি দিনের ২,৪,৬ এমনকি ৮ ঘন্টাও ব্যয় করেন এখানে? এই বিশাল সময়ে আর কী কী করা যেতে পারে? আপনি কি সে সময়টা সামাজিক মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় ব্যয় করেন?

অপশন হচ্ছে আনফলো : আপনার সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের আনফলো করার অর্থ হলো বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পাওয়া। তাই এরকম ব্যক্তিদের আনফলো করে দিন। আপনাকে যারা কমজোর ও অযোগ্য মনে করে হেয় করে কথা বলে সেসব বন্ধুদেরকে আনফ্রেন্ড এবং আনফলো করে দিন।সেক্সুয়াল কন্টেন্ট, বর্ণবাদী মন্তব্য, বিভিন্ন হারাম কাজকর্ম প্রচারের সাথে জড়িত পোস্টসহ অশ্লীল বা সংবেদনশীল বিষয়বস্তুর সাথে জড়িত অ্যাকাউন্টগুলো আনফলো করুন। সবশেষে,  যে একাউন্টের ভিডিও ও পোস্টগুলো আপনাকে  ঘন্টার পর ঘন্টা সামাজিক মাধ্যমে আটকে রাখে সেগুলো থেকেও সরে আসুন।

দায়িত্বশীল ওয়েবসাইটে ফলো করুন:  যেগুলো আপনার জীবনে সত্যিকার অর্থেই কাজে দিবে সেসব ফলো দিয়ে রাখুন। প্রথমে আপনি সেসব একাউন্টগুলোয় ফলো দিন যেগুলো ইসলামী জ্ঞানে সমৃদ্ধ। বিভিন্ন ধরনের ইসলামী আর্টিকেল সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট যেমন -শাহরিয়া সম্মত  ব্রাউজার SalamWeb। মুসলিম উম্মাহর জন্য সৃষ্ট একমাত্র ডিজিটাল পরিবেশ। এছাড়া রয়েছে About Islam, Virtual Mosque, The Muslim vibe প্রভৃতি ওয়েবসাইটগুলো বিজ্ঞ কন্টেন্ট লেখক দ্বারা পরিচালিত যাদের লেখার মাধ্যমে আপনি সত্যিকার অর্থেই উপকৃত হবেন। এসব কনটেন্ট ছাড়াও এমনকিছু ফলো করুন যেগুলো আপনাকে জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। এবং এগুলো ফলো করতে গিয়ে সতর্ক নজর রাখুন সবদিকে যাতে আবারও আপনার ফলোয়িং লিস্টে বিশৃঙ্খলা দেখা না দেয়।

সর্বোপরি, আপনার মানসিক, আবেগিক দিক এবং রুহের প্রতি খেয়াল রাখুন। এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আপনার আত্মা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে সে ব্যাপারে দৃষ্টি দিন। প্রয়োজনে যতটা যাওয়া দরকার, ততটা পথ এগিয়ে যেতে সাহসী হোন।

অনেকেই  এক মাস সময় যাবত সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে সেই সময়টা সদ্ব্যবহার করেছেন। আপনি যখন এ সময়টা হাতে পাবেন তখন কীভাবে তা কাজে লাগাবেন সে ব্যাপারে আগেই ভেবে রাখুন। নয়তো সেই আগের মত ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আসক্ত হয়ে যাবেন।  এই সময় প্রিয়জনের সাথে দেয়া, পড়াশুনা, গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ সম্পাদন, নতুন কিছুতে দক্ষতা অর্জন কিংবা পুরনো কোন শখ পূরণের জন্য ব্যয় করতে পারেন। সব শেষে বলতে পারি , সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি আমাদের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। আমরা যদি এর থেকে বাঁচার উপায়গুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাতে আমরাই উপকৃত হবো। মস্তিস্ককে  কর্মচঞ্চল, মানসিক ও শারীরিক ভাবে যে উৎফুল্ল থাকবে  ; সেই আল্লাহর সাথে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলবে।